গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমিঃ চাচা একটা কথা বলতাম ।

চাচাঃ হ্যাঁ বাপজান বলো কি কইবা ?

আমিঃ আপনার সাথে আমার ও একটা রিকশার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন ? আমিও রিকশা চালাইতাম ।

চাচাঃ কি বলো বাপজান এতো শিক্ষিত একটা পোলা তুমি রিকশা চালাইবা ।

আমিঃ জ্বি চাচা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য কিছু একটা তো করতে হবে । আর ঢাকা শহরে আমার পরিচিত বলতে কেউ নেই যে আমাকে ভালো কাজ দিবে । তাই রিকশাই চালাবো । প্লিজ একটা ব্যবস্থা করে দিন না ।

চাচাঃ কে বলছে কেউ নেই । আমি আছি তো । আর তোমারে রিকশা চালাইতে হইবো না । আমি একটা ব্যবস্থা হবে দিতাছি । তুমি কোনো চিন্তা কইরো না বাপ ।

আমিঃ ধন্যবাদ চাচা ।

তারপর আমি চাচা আর চাচি মিলে সকালের খাবার খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়ে আমি চাচার সাথে বেড়িয়ে পড়লাম ।

চাচা আমাকে তার রিকশার মহাজনের কাছে নিয়ে গেল । মহাজন উনাকে হয়তো খুব ভালো করেই চিনে । তাই যেতেই উনি বলে উঠলেন,,,,,,,

মহাজনঃ কি খবর করিম মিয়া কেমন আছো ।

চাচাঃ ভালো আছি । মহাজন একটা কথা কইতে চাই । একটা অনুরোধ নিয়া আইছি । আপনি কিন্তু না করতে পারবেন না ।

মহাজনঃ আরে করিম মিয়া তুমি এভাবে বলছো কেন । বলো কি করতে হবে ।

চাচাঃ এই যে এই ছেলের নাম রাকিব ।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

মহাজনঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

চাচাঃ সে বগুড়া থেকে এসেছে পড়ার লাইগা । কিন্তু ঢাকায় তার কেউ নেই অনেক বিপদে আছে । অনেক পড়াশোনা করে । আপনি যদি তারে একটা কাম দেন খুব উপকার হবে ।

মহাজনঃ তুমি কি কাজ করতে চাও ।

আমিঃ যেকোনো কাজ । রিকশা চালাতেও রাজি আছি ।

মহাজনঃ না না তুমি এতো শিক্ষিত ছেলে । তোমাকে দিয়ে রিকশা চালানো যাবে না ।

আমিঃ কোনো কাজ ই আমি ছোট মনে করি না আঙ্কেল । কাজ তো কাজ ই । আর সব কাজ ই সম্মানের ।

মহাজনঃ হ্যাঁ তা ঠিক । তুমি গাড়ির গ্যারেজে কাজ করতে পারবে ?

আমিঃ হ্যাঁ আঙ্কেল পারবো ।

মহাজনঃ শেখা আছে ?

আমিঃ না । কিন্তু আমি গ্রামের ছেলে । কয়েকদিনেই শিখে নিতে পারবো ।

মহাজনঃ ঠিক আছে । করিম মিয়া যেহেতু তোমাকে নিয়ে আসছে তাই আমি তোমাকে বিশ্বাস করলাম । আমার গাড়ির গ্যারেজে তুমি কাজ করবে ।

আমিঃ আঙ্কেল আরেকটা কথা ।

মহাজনঃ হুমম বলো ।

আমিঃ আমি ওখানেই থাকতে চাই ।

মহাজনঃ কেন ?

আমিঃ কারন আমার থাকার জায়গাও নেই ।

চাচাঃ কি বলো বাপজান । একদিনেই আরে পর করে দিলা ।

আমিঃ ছিঃ ছিঃ চাচা কি বলেন । আপনার কথা আমি কখনো ভুলতে পারবো না । আপনাদের এক রুম । আমি জানি আপনাদের ই অনেক কষ্ট হয় থাকতে । তার ওপর আমি বোঝা হতে চাচ্ছি না । প্লিজ চাচা কিছূ মনে করবেন না । আমি কথা দিতাছি আপনাদের সাথে আমি সব সময় যোগাযোগ রাখবো ।

চাচাঃ তারপর ও ।

আমিঃ আর কোনো কথা পা চাচা । তাছাড়া আমাকে তো পড়তেও হবে । এখানে নিরিবিলিতে রাতে পড়তে পারবো ।

চাচা প্রথমে রাজি না হলেও আমার অনেক জোরাজুরিতে সে রাজি হলো । তারপর আমাকে মহাজনের গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হলো ।

আমি মনোযোগ দিয়ে কয়েকদিনে কাজ শিখে নিলাম । এই কয়েকদিনে কাজের চাপে আর কলেজে যাওয়া হলো না ।

এখন আমি গাড়ি গ্যারেজেই রাতে থাকি । আর দিনে ওখানেই কাজ করি । মাঝে মাঝে চাচার সাথে দেখা করেও আসি । এখন মহাজন ও আমাকে অনেক ভালোবাসে ।

আমার কাজ দেখে সে অনেক খুশি । তাই আমার বেতন ও বাড়িয়ে দিলো । একদিন কাজ করছি হঠাত দেখি একটা নষ্ট গাড়ি গ্যারেজে ঢুকলো ।

প্রথমে আমি খেয়াল না করলেও একটু পরে খেয়াল করে দেখি রাইসার গাড়ি । সে অন্যদিক হয়ে কার সাথে যেন কথা বলছে । আমি কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,,

আমিঃ মেডাম গাড়ির কি সমস্যা ।

রাইসাঃ কিরে ক্ষ্যাত তুই এখানে কেন,,,? এই গ্যারেজে কাজ করিস ?

আমিঃ জ্বি মেম ।

আমিঃ গাড়িটা দেখতেছি ।

আজকে মহাজন এখানেই আছে । আমি ওই কথাটি বলতেই না বলতেই রাইসা মহাজনকে বলল,,,,

রাইসাঃ চাচা একি আমার গাড়ি ঠিক করতে পারবে ।

মহাজনঃ হ্যাঁ পারবে । রাকিব খুব ভালো কাজ যানে । ওই আপনার গাড়ি ঠিক করে দিতে পারবে ।

তারপর রাইসা আমাকে বললো,,,,,,,

রাইসাঃ এতোই যখন ভালো কাজ যানিস তাহলে কলেজে যাস কেন লেখাপড়া করতে । তোদের মতো গরীবরা যদি লেখাপড়া করে তাহলে আমাদের মতো ধনীদের কামলা কে খাটবে বল ।

আমি সেই কথায় কান না দিয়ে কাজ করতে লাগলাম । আল্লাহ্ কান দিয়েছে দুটো । একটা দিয়ে শুনি আর একটা দিয়ে বের করে দিই ।

রাইসাঃ কি আমার কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন । আর আমাদের বাসা থেকে ওভাবে চলে আসছিস কেন ?

আমিঃ আপনি তো এটাই চেয়েছিলেন । যাইহোক
মেম আজকে গ্যারেজে আর কেউ নাই । আমি যদি গাড়িটা না দেখি তাহলে আজ গাড়িটা এখানেই পড়ে থাকবে ।

রাইসাঃ ঠিক আছে যা করার তাড়াতাড়ি কর । আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে ।

গাড়িটা দেখার পর ভাড়াটা দিয়ে রাইসা চলে গেলো । কত দিলো দেখি নি । তারপর দেখলাম 500 টাকা দিয়েছে । আমি মহাজনকে বললাম,,,,

আমিঃ মহাজন এই নেন ।

মহাজনঃ আরে রাকিব 500 টাকা তুমি কই পেলে ।

আমিঃ কই আর পাবো । বড়লোক বাপের মেয়ে দিয়ে গেছে ।

মহাজনঃ উনি কে ? তোমার সাথে এমন ব্যবহার করলো কেন ?

আমিঃ যার গাড়ি ঠিক করলাম সে ?

মহাজনঃ হুমম

তারপর আমি বললাম,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
146 Views
3 Likes
2 Comments
0.0 Rating
Rate this: