আমিঃ চাচা একটা কথা বলতাম ।
চাচাঃ হ্যাঁ বাপজান বলো কি কইবা ?
আমিঃ আপনার সাথে আমার ও একটা রিকশার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন ? আমিও রিকশা চালাইতাম ।
চাচাঃ কি বলো বাপজান এতো শিক্ষিত একটা পোলা তুমি রিকশা চালাইবা ।
আমিঃ জ্বি চাচা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালানোর জন্য কিছু একটা তো করতে হবে । আর ঢাকা শহরে আমার পরিচিত বলতে কেউ নেই যে আমাকে ভালো কাজ দিবে । তাই রিকশাই চালাবো । প্লিজ একটা ব্যবস্থা করে দিন না ।
চাচাঃ কে বলছে কেউ নেই । আমি আছি তো । আর তোমারে রিকশা চালাইতে হইবো না । আমি একটা ব্যবস্থা হবে দিতাছি । তুমি কোনো চিন্তা কইরো না বাপ ।
আমিঃ ধন্যবাদ চাচা ।
তারপর আমি চাচা আর চাচি মিলে সকালের খাবার খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়ে আমি চাচার সাথে বেড়িয়ে পড়লাম ।
চাচা আমাকে তার রিকশার মহাজনের কাছে নিয়ে গেল । মহাজন উনাকে হয়তো খুব ভালো করেই চিনে । তাই যেতেই উনি বলে উঠলেন,,,,,,,
মহাজনঃ কি খবর করিম মিয়া কেমন আছো ।
চাচাঃ ভালো আছি । মহাজন একটা কথা কইতে চাই । একটা অনুরোধ নিয়া আইছি । আপনি কিন্তু না করতে পারবেন না ।
মহাজনঃ আরে করিম মিয়া তুমি এভাবে বলছো কেন । বলো কি করতে হবে ।
চাচাঃ এই যে এই ছেলের নাম রাকিব ।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।
মহাজনঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
চাচাঃ সে বগুড়া থেকে এসেছে পড়ার লাইগা । কিন্তু ঢাকায় তার কেউ নেই অনেক বিপদে আছে । অনেক পড়াশোনা করে । আপনি যদি তারে একটা কাম দেন খুব উপকার হবে ।
মহাজনঃ তুমি কি কাজ করতে চাও ।
আমিঃ যেকোনো কাজ । রিকশা চালাতেও রাজি আছি ।
মহাজনঃ না না তুমি এতো শিক্ষিত ছেলে । তোমাকে দিয়ে রিকশা চালানো যাবে না ।
আমিঃ কোনো কাজ ই আমি ছোট মনে করি না আঙ্কেল । কাজ তো কাজ ই । আর সব কাজ ই সম্মানের ।
মহাজনঃ হ্যাঁ তা ঠিক । তুমি গাড়ির গ্যারেজে কাজ করতে পারবে ?
আমিঃ হ্যাঁ আঙ্কেল পারবো ।
মহাজনঃ শেখা আছে ?
আমিঃ না । কিন্তু আমি গ্রামের ছেলে । কয়েকদিনেই শিখে নিতে পারবো ।
মহাজনঃ ঠিক আছে । করিম মিয়া যেহেতু তোমাকে নিয়ে আসছে তাই আমি তোমাকে বিশ্বাস করলাম । আমার গাড়ির গ্যারেজে তুমি কাজ করবে ।
আমিঃ আঙ্কেল আরেকটা কথা ।
মহাজনঃ হুমম বলো ।
আমিঃ আমি ওখানেই থাকতে চাই ।
মহাজনঃ কেন ?
আমিঃ কারন আমার থাকার জায়গাও নেই ।
চাচাঃ কি বলো বাপজান । একদিনেই আরে পর করে দিলা ।
আমিঃ ছিঃ ছিঃ চাচা কি বলেন । আপনার কথা আমি কখনো ভুলতে পারবো না । আপনাদের এক রুম । আমি জানি আপনাদের ই অনেক কষ্ট হয় থাকতে । তার ওপর আমি বোঝা হতে চাচ্ছি না । প্লিজ চাচা কিছূ মনে করবেন না । আমি কথা দিতাছি আপনাদের সাথে আমি সব সময় যোগাযোগ রাখবো ।
চাচাঃ তারপর ও ।
আমিঃ আর কোনো কথা পা চাচা । তাছাড়া আমাকে তো পড়তেও হবে । এখানে নিরিবিলিতে রাতে পড়তে পারবো ।
চাচা প্রথমে রাজি না হলেও আমার অনেক জোরাজুরিতে সে রাজি হলো । তারপর আমাকে মহাজনের গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হলো ।
আমি মনোযোগ দিয়ে কয়েকদিনে কাজ শিখে নিলাম । এই কয়েকদিনে কাজের চাপে আর কলেজে যাওয়া হলো না ।
এখন আমি গাড়ি গ্যারেজেই রাতে থাকি । আর দিনে ওখানেই কাজ করি । মাঝে মাঝে চাচার সাথে দেখা করেও আসি । এখন মহাজন ও আমাকে অনেক ভালোবাসে ।
আমার কাজ দেখে সে অনেক খুশি । তাই আমার বেতন ও বাড়িয়ে দিলো । একদিন কাজ করছি হঠাত দেখি একটা নষ্ট গাড়ি গ্যারেজে ঢুকলো ।
প্রথমে আমি খেয়াল না করলেও একটু পরে খেয়াল করে দেখি রাইসার গাড়ি । সে অন্যদিক হয়ে কার সাথে যেন কথা বলছে । আমি কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ মেডাম গাড়ির কি সমস্যা ।
রাইসাঃ কিরে ক্ষ্যাত তুই এখানে কেন,,,? এই গ্যারেজে কাজ করিস ?
আমিঃ জ্বি মেম ।
আমিঃ গাড়িটা দেখতেছি ।
আজকে মহাজন এখানেই আছে । আমি ওই কথাটি বলতেই না বলতেই রাইসা মহাজনকে বলল,,,,
রাইসাঃ চাচা একি আমার গাড়ি ঠিক করতে পারবে ।
মহাজনঃ হ্যাঁ পারবে । রাকিব খুব ভালো কাজ যানে । ওই আপনার গাড়ি ঠিক করে দিতে পারবে ।
তারপর রাইসা আমাকে বললো,,,,,,,
রাইসাঃ এতোই যখন ভালো কাজ যানিস তাহলে কলেজে যাস কেন লেখাপড়া করতে । তোদের মতো গরীবরা যদি লেখাপড়া করে তাহলে আমাদের মতো ধনীদের কামলা কে খাটবে বল ।
আমি সেই কথায় কান না দিয়ে কাজ করতে লাগলাম । আল্লাহ্ কান দিয়েছে দুটো । একটা দিয়ে শুনি আর একটা দিয়ে বের করে দিই ।
রাইসাঃ কি আমার কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন । আর আমাদের বাসা থেকে ওভাবে চলে আসছিস কেন ?
আমিঃ আপনি তো এটাই চেয়েছিলেন । যাইহোক
মেম আজকে গ্যারেজে আর কেউ নাই । আমি যদি গাড়িটা না দেখি তাহলে আজ গাড়িটা এখানেই পড়ে থাকবে ।
রাইসাঃ ঠিক আছে যা করার তাড়াতাড়ি কর । আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
গাড়িটা দেখার পর ভাড়াটা দিয়ে রাইসা চলে গেলো । কত দিলো দেখি নি । তারপর দেখলাম 500 টাকা দিয়েছে । আমি মহাজনকে বললাম,,,,
আমিঃ মহাজন এই নেন ।
মহাজনঃ আরে রাকিব 500 টাকা তুমি কই পেলে ।
আমিঃ কই আর পাবো । বড়লোক বাপের মেয়ে দিয়ে গেছে ।
মহাজনঃ উনি কে ? তোমার সাথে এমন ব্যবহার করলো কেন ?
আমিঃ যার গাড়ি ঠিক করলাম সে ?
মহাজনঃ হুমম
তারপর আমি বললাম,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
146
Views
3
Likes
2
Comments
0.0
Rating