স্পর্শভোলা সম্পর্ক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

নাসরিনের ভালোবাসার গল্প শুরু হয়েছিল এক গভীর শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস নিয়ে। রবিউলকে সে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। শুরুটা ছিল এক রঙিন স্বপ্ন—একটা ঘর হবে, উঠোনে হাঁটবে সন্তান, বিকেলে হাতে চা নিয়ে অপেক্ষা করবে নাসরিন।

কিন্তু বিয়ের এক বছর না যেতেই রবিউল পাড়ি দেয় সৌদি। বিদায় নিতে গিয়ে বলে—
“দুই বছর একটু কষ্ট করো, আমি ফিরে এলে তোমার হাতেই রাখব সব সুখের চাবি।”

নাসরিন সেই চাবির অপেক্ষায় একা একা কষ্ট করেছিল—শাশুড়ির অসুখ সামলেছে, সংসার চালিয়েছে, দেবর রাফিকে পড়িয়েছে, আদর করেছে।

রাফি তখন কিশোর, ক্লাস টেনে পড়ে।
নাসরিন তাকে কখনো ভাইয়ের মতো, কখনো ছেলের মতো দেখে আসছিল।

ধীরে ধীরে কিছু বদলে যায়।
প্রবাস থেকে আসা ফোন কলগুলো কমতে থাকে। ভালোবাসা ফুরিয়ে যায় শব্দহীন অপেক্ষায়।

হঠাৎ একদিন রবিউল জানায়—
“আমি দেশে আসছি, কিন্তু একা না। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী রিমাকে নিয়ে আসছি। তুমি ঠিকমতো থাকতে পারলে থেকো, নইলে...”

নাসরিন কিছু বলেনি। কেবল নিঃশব্দে হৃদয়ের ভিতর টান পড়ে গিয়েছিল।

তিন দিন পর রবিউল এলো—সাথে আধুনিক পোশাকে এক মেয়ে, রিমা।
রিমা প্রথমদিকে নাসরিনকে সম্মান দেখালেও খুব দ্রুতই তার মনযোগ চলে যায় রাফির দিকে।

সে লক্ষ করে—রাফি মাঝে মাঝে নাসরিনের দিকে অন্যরকম চোখে তাকায়।
আর নাসরিন?
সে চোখ সরিয়ে নেয় ঠিকই, কিন্তু সেখানে লুকিয়ে থাকা কষ্ট আর আকর্ষণ ধরা পড়ে যায় রিমার চোখে।

রিমা বুঝে যায়:
রাফি শুধু ভাবিকে শ্রদ্ধা করে না—ভালোওবাসে।

রিমা চাইলেই বলতে পারত স্বামীকে, কিন্তু সে বলেনি।
কারণ?
রাফির সেই চাহনি, তার নিঃশব্দ দৃষ্টি—রিমার মনেও এক অদ্ভুত দোলা তুলেছিল।

তিনজনেই জানত, কিন্তু কেউ কিছু বলত না।
এক রাতে রিমা শুনে ফেলে—
“ভাবি, আমি তোমায় ভালোবাসি।”

তবু রিমা চুপ।
কিন্তু নিয়তির কাছে চুপ থাকা যায় না।

তিন মাস পর নাসরিন অন্তঃসত্ত্বা।
রবিউল ফোনে জানতে পেরে চিৎকার করে ওঠে—
“এই সন্তান আমার নয়, এটা পাপ! তুমি আমার স্ত্রী নও এখন থেকে!”

রাফি তবু পাশে দাঁড়ায়।
“আমি সব স্বীকার করব, ভাবি। আমি বিয়ে করব তোমাকে।”

কিন্তু নাসরিন চুপ থাকে।
সে জানে সমাজ মেনে নেবে না।
সে জানে, এই সম্পর্ক যতই ভালোবাসায় গড়া হোক, মানুষের চোখে সেটা ‘পাপ’ হয়ে থাকবে।

এক বছর পর—
নাসরিন এখন ছোট শহরের একটা ক্লিনিকে কাজ করে। একা থাকে সন্তানকে নিয়ে।
রাফি মাঝে মাঝে চিঠি পাঠায়, উত্তর আসে না।
রিমা এখন বিবাহিত, অন্য সংসারে—তবুও আয়নায় চোখে চোখ পড়লে এখনো সে খুঁজে ফেরে রাফির সেই চাহনি।


---

টিপস:

প্রবাসী স্বামীদের উদ্দেশ্যে:
বিদেশের উপার্জন সংসার চালাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার শূন্যতা সংসার ভেঙে দিতে পারে। টাকা পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হয় না—মন, সময় আর উপস্থিতির প্রয়োজন হয় একটি নারীর জীবনে। স্ত্রীকে শুধু স্ত্রী ভেবে নয়, একজন মানুষ, একজন অপেক্ষাকারী হৃদয় হিসেবে ভাবুন।

স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে:
স্বামী দূরে থাকলেও নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দায়িত্ব, যেমনটা আপনারা করেন ঘরের দায়িত্বে। একা থাকাটা কষ্টের হতে পারে, কিন্তু নিজের সম্মান ও সতীত্বের ভারী চাদরটা যেন না সরে যায় কোনো অনুভবের হালকা বাতাসে।

দেবরদের উদ্দেশ্যে:
একজন ভাবি কখনো আপনার বয়সে বড় হলেও তিনি “নারী”—যার চোখে জল থাকে, কিন্তু বুকেও আগুন থাকে। ভাবি নয়, মায়ের মতো ভাবুন। নইলে আপনার একটু ভুলেই একটি সংসার চিরতরে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে।
65 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: