গাজার রক্তে লেখা স্বপ্ন : লাইনা ও ইয়ামিনের কান্না"
প্রতিটা সকাল জাগে বোমার আওয়াজে,
মসজিদে আজান ওঠে মোয়াজ্জিনের কাঁপা গলায়।
গাজার আকাশে রঙ নেই, আলো নেই,
সেখানে সূর্য ওঠে ঠিকই, কিন্তু মরে যায় আগেই।
নয় বছরের লাইনা, কোলে করে ভাই ইয়ামিনকে ধরে,
চোখে পানি নেই, কেবল বুকের মাঝে দুঃখ জমে ঝড়ে।
ইয়ামিন—মাত্র পাঁচ বছর বয়স,
ভাত চায়নি, শুধু বলেছিল, “একটু পানি, একটু মায়া… একটু নিঃশ্বাস।”
রাতভর খিদের কষ্টে কেঁদে ঘুমিয়েছিল,
সকাল হলে আর জেগে ওঠেনি—শুধু চুপ করে, চোখ বন্ধ করে থেকে গেছে।
চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, আর অজস্র লাশের গন্ধ,
তাদের স্বপ্ন ছাই হয়ে মিশে গেছে আগুনের ছন্দ।
লাইনা কিছু বলে না, ইটের পাঁজরে হেঁটে চলে,
দেখে ভাঙা মসজিদ—যেখানে একদিন আজান উঠত, এখন শকুন বসে।
মা একদিন বলেছিলেন,
“মুসলমানরা এক দেহ, যদি এক জায়গায় আঘাত লাগে, সারা দেহ কাঁদে।”
লাইনা ভাবে—তবে আজ দেহটা কাঁদছে না কেন?
মুসলমানরা কি আর বেঁচে নেই?
একজন সাংবাদিক এগিয়ে এসে ক্যামেরা তাক করে জিজ্ঞেস করে,
“তোমার স্বপ্ন কী?”
নয় বছরের কণ্ঠে আসে নয়টা যুগের ভার—
“বাঁচতে চাই। ভাইটাকে খাওয়াতে চাই। আর একটুখানি ঘুম চাই, যেটায় কেউ মরে না।”
তার কণ্ঠে নেই আহাজারি, কিন্তু প্রতিটি শব্দ গর্জে ওঠে—
“আমরা হারিনি, আমরা শুধু একা।
তোমরা যারা চুপ করে আছো, একদিন হিসাব দিতে হবে—
ইয়ামিন সাক্ষী দেবে, ‘আমার কান্না তোমরা শুনোনি।’”
ভাঙা মিনারের পাশে দাঁড়িয়ে সে বলে,
“আমরা মরেছি বোমায় নয়, মরেছি তোমাদের নীরবতায়।
তোমরা বলেছিলে—‘আমরা ভাই ভাই’,
তবে কেন ভাইয়ের রক্তে রঙিন হলো না তোমাদের আকাশ, উঠল না জিহাদের আওয়াজ?”
ইটটা হাতে তুলে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে সে,
চোখ দুটো জ্বলছে—সেখানে ভয় নেই, আছে প্রতিজ্ঞা।
“আমাদের দুঃখ একদিন তোমাদের চোখে কাঁটা হয়ে বিঁধবে।
গাজার রক্তে লেখা হবে ইতিহাস—
যারা বেঁচেছিল, কিন্তু কিছু করেনি।”
---
শেষ পংক্তি:
কেয়ামতের দিনে ছোট্ট ইয়ামিন দাঁড়াবে আল্লাহর সামনে,
সে বলবে,
“আমি মরেছিলাম রুটি না পেয়ে, পানি না পেয়ে।
আর তারা চুপ ছিল—যারা বলেছিল ‘আমরা মুসলমান।’”
সেদিন কোনো রাষ্ট্র, কোনো সভা, কোনো প্রেস কনফারেন্স কাজে আসবে না।
কারণ গাজার শিশুরা ভুলে না।
আর যারা চুপ ছিল, তারা ক্ষমা পাবে না।
গাঁজার রক্তে লেখা স্বপ্ন
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
182
Views
0
Likes
0
Comments
5.0
Rating