অদৃশ্য গল্প

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:


সেই দিনটা ছিল এক সুন্দর বৃষ্টি ভেজা সকাল। গ্রামের পরিবেশ ছিল অপার শান্তির। চারদিকে কুয়াশা আর হালকা বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দে এক অদ্ভুত মোহাচ্ছন্নতা। মাহিম (ছদ্মনাম) বসে ছিল তার ঘরের জানালায়, ভিজে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করছিল। হঠাৎ তার মনে হলো, এমন আবহাওয়ায় যদি বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া যেত, তবে সেটা হতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

যে চিন্তা, সে কাজ। মাহিম বেরিয়ে পড়লো বন্ধুদের ডাকতে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে কেউ যেতে রাজি হলো না। তাই সে একাই রওনা দিলো গ্রামের পাশের এক বিলে। বিলটা ছোট, হাঁটু পানির গভীরতা, শান্ত অথচ রহস্যময়। বৃষ্টির ফোঁটা গুলোর ছোঁয়ায় পানি যেন কথা বলছিল।

সে নেমে পড়লো বিলে। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও একটি মাছও পেল না। কিছুটা হতাশ হয়ে যখন সে ফিরে আসতে চাইলো, তখন হঠাৎ পাড়ে উঠে পেছনে তাকিয়ে সে লক্ষ্য করলো—যেখানে সে একটু আগে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে এখন যেন গভীর এক গর্ত। অস্বাভাবিকভাবে গভীর। নিজের চোখকে অবিশ্বাস করে, সে মাথা নাড়িয়ে বাড়ি ফিরে এলো।

পরদিন আবার সেই মনোরম সকাল। এবার সে বন্ধুকে নিয়েই গেল সেই বিলের দিকে। বন্ধুকে আগেই সব কিছু জানিয়ে রেখেছিল। গর্তটার দিকে তাকিয়ে সে আজও গা ছমছমে কিছু অনুভব করলো, কিন্তু সেটাকে আবার "ছায়ার খেলা" ভেবে হালকা করে নিলো।

তবু, কৌতূহলে সে আবার বিলে নামলো। এবার গর্তের ঠিক পাশেই দাঁড়াতেই, হঠাৎ করে তার পা গর্তে পড়ে গেল! সে টের পেল, কেউ বা কিছু একটায় তার পা ধরে জোরে টানছে। সে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো, “বাঁচাও!” কিন্তু তার বন্ধু যেন জমে গেছে। তার নিজের পাও নড়ছিল না।

"কালও আমি এই গর্তটা দেখেছিলাম... কিন্তু এটা যে এমন ভয়ংকর কিছু..."—এটাই ছিল মাহিমের শেষ কথা। সে একেবারে গর্তের ভেতরে তলিয়ে গেল। তার বন্ধু দাঁড়িয়ে দেখলো, কিছুই করতে পারলো না। তারপর পা অবস থেকে মুক্ত হতেই সে দৌড়ে বাসায় ফিরে এলো। সবাইকে জানালো ঘটনা।

সবাই ছুটে গেল সেই বিলে। গর্ত কোথাও নেই। বিলের পানি স্বচ্ছ, শান্ত। তিন দিন ধরে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হলো, কিন্তু মাহিমের কোনো চিহ্নও পাওয়া গেল না।

তিন দিন পর, ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে এক গ্রামবাসীর চোখে পড়ে বিলের মধ্যে ভেসে থাকা একটি লাশ। কাছে গিয়ে দেখে—এটা মাহিম! কিন্তু তার অবস্থা ভয়াবহ: চামড়া ছিড়ে গেছে, নাক নেই, বুক চিরে ফেলা হয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে মসজিদের ইমামও স্তব্ধ হয়ে যান। কেউ কিছুই ব্যাখ্যা দিতে পারে না।

মাহিমকে দাফন করা হয়। গ্রামের মানুষ দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তার বন্ধু একঘরে হয়ে যায়। কারো মুখে কোনো উত্তর নেই—গর্তটা যদি ছিল, তবে এখন নেই কেন? মাহিমের এমন অবস্থা হলো কীভাবে?

সেই বিল এখনো আছে, কিন্তু কেউ আর সেদিকে যায় না। গল্পটা থেকে যায় এক 'অদৃশ্য গর্ত'-এর রহস্য হয়ে।

বিঃদ্রঃ এখানে নাম বা যে জায়গা উল্লেখ রয়েছে সবগুলো ক্লপানিক সম্পুর্ণ কাহিনী ক্লপানিক কেউ সত্য ভেবে ভুল করবেন
লেখায় কোনো ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ
85 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: