এসব রাইসার কাজ আমার প্রতি আঙ্কেলের ঘৃনা জন্মানো ওর আসল উদ্দেশ্য ।
সেই দিন আর ভার্সিটিতে গেলাম না । সবাই আমাকে ভুল বুঝলো । শেষে কিনা আঙ্কেল ও আমাকে ভুল বুঝলো । এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে ।
যেহেতু রাইসার আমার এখানে থাকাটা পছন্দ না তাই অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলাম । আমি এই বাসা ছেড়ে চলে যাবো । তাই যাওয়ার আগে একটা চিঠি লিখলাম ।
চিঠিটা বিছানার উপরই রেখে দিলাম । যাওয়ার সময় আঙ্কেল আন্টির রুমে ঢুকে তাদের কে একটু দেখে দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেলে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম ।
রাত বারোটার মতো হয়তো বাজে । আমি রাস্তার ল্যাম্পোষ্টের নিচে আলোতে মনমরা হয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বসে আছি ।
কিছুক্ষণ পর মধ্যবয়সী একটা রিকশাওয়ালা চাচা আমাকে এসে বললো,,,,,,
চাচাঃ বাপজান কোথাও যাইবেন ।
আমি শুধু মাথা নেড়ে না সূচক উত্তর দিলাম । তারপর উনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন,,,,,,
চাচাঃ তাহলে এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন ক্যান বাপজান । দেখে তো ভদ্র ঘরের পোলাই মনে হয় ।
আমিঃ আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই । তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছি ।
চাচাঃ তোমার কথা বুঝি নাই ।
তারপর আমি উনাকে সব কথা খুলে বলি । সব শুনে উনি অবাক হয়ে বললেন,,,,,,,
চাচাঃ বাপজান একটা বলমু ?
আমিঃ জ্বি অবশ্যই বলেন ?
চাচাঃ তুমি আমার ছেলের বয়সি । তুমি কি আমার লগে যাবে ।
আমিঃ কোথায় যাবো ।
চাচাঃ আমার বাড়িতে । আজকে রাতে আমার বাড়িতে থাইকা কাল সকালে একটা ব্যবস্থা হবে ।
একেই বলে গরিব মানুষের মন । নিজে দুই বেলা না খেতে পারলেও অন্যের কষ্ট তাদের কাছে সহ্য হয় না । নিজে না খেয়ে অন্য কে খাওয়ায় ।
চাচাঃ কি হলো বাপজান চুপ কেন ? যাবে আমার লগে ?
আমিঃ ঠিক আছে চাচা যাবো ।
তারপর আমি উনার রিকশা করেই উনার বাসায় চলে আসলাম । ঢাকা শহরের একটা ছোট্ট গলির মধ্যে অনেক বাড়ির মধ্যে উনার বাসা একটা ।
উনার বউটাও অনেক ভালো । আমাকে ছেলের মতোই আপন করে নিয়েছে । রাতে উনাদের সাথে একসাথে খেলাম । অনেক দিন পর উনাদের সাথে মনে হলো তৃপ্তি করে খেলাম ।
রুম একটা হওয়াতে উনারা আমাকেই খাটে থাকতে বলে তারা নিচে থাকার জন্য বিছানা করলো ।
অনেক জোরাজুরি করার পরও উনাদের খাটে আনতে পারলাম না । উনাদের একটাই কথা মেহমান কে কখনো অসম্মান করতে নেই ।
অনেক ক্লান্ত থাকার জন্য বিছানায় শুয়ে পড়তেই কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না । সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চাচি আগেই উঠে আমার জন্য নাস্তা বানিয়েছে ।
আর এদিকে,,,,,,,,,,,,
রাইসা বেড টি না পেয়ে রাগান্বিত হয়ে আমি যেখানে থাকতাম সেই রুমে আসতে লাগলো । আঙ্কেল আন্টিও এতোক্ষনে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে ।
তারাও দেখলো আজকে সকালে কোনো নাস্তা রেডি নেই । রাইসা এসেই ওর আব্বু আম্মু কে জিজ্ঞাসা করলো,,,,,,
রাইসাঃ তোমাদের নবাবজাদার কাজ দেখো । আমরা উঠে পড়েছি তার উঠার কোনো নাম গন্ধ নেই । এখন কি আমি না খেয়ে থাকবো ।
আঙ্কেলঃ ও তো এতো লেট করে ঘুম থেকে উঠে না । আমাদের আগেই সে উঠে যায় ।
রাইসাঃ তোমাদের আশকারা পেয়েই ও মাথায় উঠে বসেছে । আজ দেখাচ্ছি মজা ।
বলেই রাইসা আমার রুমে আসলো । দরজা খুলেই হা করে তাকিয়ে আছে । রাইসার এরকম তাকিয়ে থাকা দেখে আঙ্কেল আন্টিও আমার রুমে আসলো ।
এসে দেখে আমি রুমে নেই । শুধু বিছানার উপর একটা চিঠি পড়ে আছে । আঙ্কেল বিছানার উপর থেকে চিঠিটা নিয়েই পড়তে শুরু করলো ।
প্রিয় আঙ্কেল,,,
আমার জন্য আপনাদের আর কষ্ট পেতে হবে না । আমি এই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি । যে বাসায় আমার চোরের অপবাদ ঘাড়ে এসেছে সেখানে থাকাটা শ্রেয় বলে আমি মনে করছি না । একটা কথা শুধু বলবো গরীব ঘরের গ্রামের ছেলে হতে পারি কিন্তু কখনোই চোর নই আঙ্কেল । আমরাও মানুষ । ভুলটা আমার ছিলো না । যাইহোক তবুও ভুল করলে সবাই ক্ষমা করবেন । আপনাদের সুস্থতা কামনা করছি ।
ইতি,,
গ্রামের সেই ক্ষ্যাত ছেলেটি ।
চিঠিটা পড়েই আঙ্কেল মাথায় হাত রেখে বিছানার উপর বসে পড়লো । রাইসা কাছে গিয়ে বললো,,,,,,,
রাইসাঃ কি হইছে আব্বু । চিঠিটা কার । আর কি লেখা আছে ।
আঙ্কেল রাইসাকে চিঠিটা দিলো আর সেও পড়লো । রাইসা চিঠিটা পড়ে মনে মনে খুশিই হয়েছে ।
এদিকে,,,,,,,,
আমিঃ চাচা একটা কথা বলতাম ।
চাচাঃ হ্যাঁ বাপজান বলো কি কইবা ?
আমিঃ ...................
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
199
Views
5
Likes
2
Comments
4.8
Rating