রাইসাঃ ওই শোন ।
আমিঃ জ্বি মেডাম কিছু বলবেন ?
রাইসাঃ হুমম ।
আমিঃ জ্বি বলেন কি বলবেন ?
রাইসাঃ শুধু আমাকেই সরি বললে হবে না ।
আমিঃ তাহলে ?
রাইসাঃ দেখলি না আজকে তোর জন্য আব্বু আমার বন্ধু বান্ধবী দের কিভাবে অপমান করলো । তাই তাদের কাছেও তোকে ক্ষমা চাইতে হবে ।
আমিঃ কিন্তু এখানে তো আমার কোনো দোষ ছিল না ।
রাইসাঃ এতো কথা শুনতে চাই না । তুই কাল কলেজে গিয়ে ওদের সরি বলবি ব্যাস ।
আমিঃ ঠিক আছে মেডাম আমি চেয়ে নিবো ।
রাইসাঃ হুমম মনে থাকে যেন । এখন যাহহ ।
তারপর আমি আর কথা না বাড়িয়ে নিচে চলে এলাম । নিচে এসে দেখি আঙ্কেল কি যেন নিয়ে একটা চিন্তা করছে । আমি কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আঙ্কেল ।
আমার কথায় আঙ্কেলের চিন্তার সমাপ্তি ঘটলো । আর চমকে উঠে বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ কে ? ওহহ রাকিব । এসো ।
আমিঃ কি চিন্তা করছেন ।
আঙ্কেলঃ ও কিছু না ।
আমিঃ সরি আঙ্কেল ।
আঙ্কেলঃ সরি কেন ?
আমিঃ আজকে আমার জন্য আপনাকে এতো অপমান হতে হলো ।
আঙ্কেলঃ কোনো অপমান না । যা করেছি ঠিক ই করেছি । এসব নিয়ে তুমি চিন্তা করো না । তুমি যাও ঘুমিয়ে পড়ো ।
আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।
বলেই আমি সেখান থেকে রুমে চলে আসলাম । এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম থেকে উঠে আঙ্কেল আন্টি আর রাইসার জন্য চা বানালাম । পরে নাস্তাও রেডি করে রুমে আসলাম ।
কিছুক্ষণ পর আঙ্কেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম । বাহিরে গিয়ে দেখি আঙ্কেল রাইসাকে বকাবকি করছে । কেন তা জানি না ।
আঙ্কেলঃ রাইসা বলো বিশ হাজার টাকা কি করছো । ড্রয়ারে পাচ্ছি না কেন ।
রাইসাঃ আব্বু আমি টাকা নেই নি ।
আঙ্কেলঃ আমি খুব ভালো করেই জানি টাকা তুমিই নিয়েছো ।
রাইসাঃ বিশ্বাস না করলে আমার রুম টা সার্চ করো ।
রাইসার কথা মতো আঙ্কেল গিয়ে সার্চ করলো কিন্তু টাকা পেলো না । তখন রাইসা বললো,,,,,,,
রাইসাঃ কি আমার কথা বিশ্বাস হলো তো ।
আঙ্কেলঃ তাহলে টাকা গুলো গেল কোথায় ?
রাইসাঃ বাসাতে তো আরেকজন ও আছে তার রুম টাও সার্চ করো ।
আঙ্কেলঃ কি বলতে চাচ্ছো ?
রাইসাঃ আমার রুমটা যেহেতু সার্চ করছো । তাহলে তোমাদের রাকিবের রুম টাও সার্চ করো ।
আঙ্কেলঃ ও তোমার মতো নয় । তবুও তোমার সন্দেহ মেটানোর জন্য সার্চ করছি ।
বলেই সবাই আমার রুমে আসলো । আমি শুধু দাঁড়িয়ে থেকে রাইসার নাটক গুলো দেখে যেতে লাগলাম ।
কিছুক্ষণ পর সার্চ করে রাইসা আমার ব্যাগ থেকে বিশ হাজার টাকার একটা ব্যান্ডিল বের করলো । এটা দেখা মাত্র আমি সহ সবার চোখ কপালে উঠলো ।
আমি নিজেও বুঝতে পারছি না টাকা গুলো আমার ব্যাগে কি করে এলো । তারপর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ রাকিব শেষ পর্যন্ত তুমি ।
আমিঃ আঙ্কেল বিশ্বাস করেন আমি জানি না এই টাকা কিভাবে আমার ব্যাগে এলো ।
রাইসাঃ হ্যাঁ টাকার তো হাত পা গজিয়েছে তাই তোর ব্যাগে আসবে । চোর কোথাকার ।
তারপর রাইসাকে আঙ্কেল হাত দিয়ে ইশারা করে থেমে বলতে লাগলো,,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ তোমাকে আমি অনেক বিশ্বাস করেছিলাম । তুমি আমার বিশ্বাসের এই মর্যাদা দিলে । ছিঃ । আজ তুমি সত্যিই প্রমাণ করে দিলে গ্রামের ছেলের জায়গা কখনো শহরে হয় না ।
আমি আঙ্কেলের কথায় অনেক কষ্ট পেলাম । শেষ পর্যন্ত সেও আমাকে ভুল বুঝলো । আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ে যাচ্ছে । চোখ মুছে আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ আঙ্কেল বিশ্বাস করেন আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে । আমি টাকা চুরি করি নি ।
আঙ্কেলঃ থাক আর কিছু বলতে হবে না । ভুল আমি এতো দিন বুঝে আসছিলাম । কিন্তু আজ তুমি আঙুল দিয়ে সেই ভুল দেখিয়ে দিলে ।
আমিঃ নিশ্চুপ ....
আঙ্কেলঃ তোমার নিশ্চুপ থাকা এটাই প্রমাণ করে যে তুমিই টাকা নিয়েছিলে । তুমি আমার পরিবার কে বাঁচিয়েছো তাই তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিলাম । এটাই তোমার শেষ সুযোগ । কিন্তু আর কখনোই আমার বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে না ।
বলেই আঙ্কেল আমার রুম থেকে চলে গেল । তারপর রাইসা আমার কাছে এসে শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বলতেছে,,,,,,,,,
রাইসাঃ আমার সাথে লাগার পরিনাম এখন হাড়ে হাড়ে বুঝবি । রাইসা কারো ঋণ বাকি রাখে না । সুদে আসলে ফেরত দিয়ে দিলাম ।
বলেই রাইসা ওর রুমে চলে গেল । তারমানে এসব রাইসার কাজ আমার প্রতি আঙ্কেলের ঘৃনা জন্মানো ওর আসল উদ্দেশ্য ।
সেই দিন আর ভার্সিটিতে গেলাম না । রাতের বেলা,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
211
Views
5
Likes
0
Comments
5.0
Rating