গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাইসাঃ ওই শোন ।

আমিঃ জ্বি মেডাম কিছু বলবেন ?

রাইসাঃ হুমম ।

আমিঃ জ্বি বলেন কি বলবেন ?

রাইসাঃ শুধু আমাকেই সরি বললে হবে না ।

আমিঃ তাহলে ?

রাইসাঃ দেখলি না আজকে তোর জন্য আব্বু আমার বন্ধু বান্ধবী দের কিভাবে অপমান করলো । তাই তাদের কাছেও তোকে ক্ষমা চাইতে হবে ।

আমিঃ কিন্তু এখানে তো আমার কোনো দোষ ছিল না ।

রাইসাঃ এতো কথা শুনতে চাই না । তুই কাল কলেজে গিয়ে ওদের সরি বলবি ব্যাস ।

আমিঃ ঠিক আছে মেডাম আমি চেয়ে নিবো ।

রাইসাঃ হুমম মনে থাকে যেন । এখন যাহহ ।

তারপর আমি আর কথা না বাড়িয়ে নিচে চলে এলাম । নিচে এসে দেখি আঙ্কেল কি যেন নিয়ে একটা চিন্তা করছে । আমি কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,

আমিঃ আঙ্কেল ।

আমার কথায় আঙ্কেলের চিন্তার সমাপ্তি ঘটলো । আর চমকে উঠে বললো,,,,,,

আঙ্কেলঃ কে ? ওহহ রাকিব । এসো ।

আমিঃ কি চিন্তা করছেন ।

আঙ্কেলঃ ও কিছু না ।

আমিঃ সরি আঙ্কেল ।

আঙ্কেলঃ সরি কেন ?

আমিঃ আজকে আমার জন্য আপনাকে এতো অপমান হতে হলো ।

আঙ্কেলঃ কোনো অপমান না । যা করেছি ঠিক ই করেছি । এসব নিয়ে তুমি চিন্তা করো না । তুমি যাও ঘুমিয়ে পড়ো ।

আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।

বলেই আমি সেখান থেকে রুমে চলে আসলাম । এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে ঘুম থেকে উঠে আঙ্কেল আন্টি আর রাইসার জন্য চা বানালাম । পরে নাস্তাও রেডি করে রুমে আসলাম ।

কিছুক্ষণ পর আঙ্কেলের আওয়াজ শুনতে পেলাম । বাহিরে গিয়ে দেখি আঙ্কেল রাইসাকে বকাবকি করছে । কেন তা জানি না ।

আঙ্কেলঃ রাইসা বলো বিশ হাজার টাকা কি করছো । ড্রয়ারে পাচ্ছি না কেন ।

রাইসাঃ আব্বু আমি টাকা নেই নি ।

আঙ্কেলঃ আমি খুব ভালো করেই জানি টাকা তুমিই নিয়েছো ।

রাইসাঃ বিশ্বাস না করলে আমার রুম টা সার্চ করো ।

রাইসার কথা মতো আঙ্কেল গিয়ে সার্চ করলো কিন্তু টাকা পেলো না । তখন রাইসা বললো,,,,,,,

রাইসাঃ কি আমার কথা বিশ্বাস হলো তো ।

আঙ্কেলঃ তাহলে টাকা গুলো গেল কোথায় ?

রাইসাঃ বাসাতে তো আরেকজন ও আছে তার রুম টাও সার্চ করো ।

আঙ্কেলঃ কি বলতে চাচ্ছো ?

রাইসাঃ আমার রুমটা যেহেতু সার্চ করছো । তাহলে তোমাদের রাকিবের রুম টাও সার্চ করো ।

আঙ্কেলঃ ও তোমার মতো নয় । তবুও তোমার সন্দেহ মেটানোর জন্য সার্চ করছি ।

বলেই সবাই আমার রুমে আসলো । আমি শুধু দাঁড়িয়ে থেকে রাইসার নাটক গুলো দেখে যেতে লাগলাম ।

কিছুক্ষণ পর সার্চ করে রাইসা আমার ব্যাগ থেকে বিশ হাজার টাকার একটা ব্যান্ডিল বের করলো । এটা দেখা মাত্র আমি সহ সবার চোখ কপালে উঠলো ।

আমি নিজেও বুঝতে পারছি না টাকা গুলো আমার ব্যাগে কি করে এলো । তারপর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাকিব শেষ পর্যন্ত তুমি ।

আমিঃ আঙ্কেল বিশ্বাস করেন আমি জানি না এই টাকা কিভাবে আমার ব্যাগে এলো ।

রাইসাঃ হ্যাঁ টাকার তো হাত পা গজিয়েছে তাই তোর ব্যাগে আসবে । চোর কোথাকার ।

তারপর রাইসাকে আঙ্কেল হাত দিয়ে ইশারা করে থেমে বলতে লাগলো,,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ তোমাকে আমি অনেক বিশ্বাস করেছিলাম । তুমি আমার বিশ্বাসের এই মর্যাদা দিলে । ছিঃ । আজ তুমি সত্যিই প্রমাণ করে দিলে গ্রামের ছেলের জায়গা কখনো শহরে হয় না ।

আমি আঙ্কেলের কথায় অনেক কষ্ট পেলাম । শেষ পর্যন্ত সেও আমাকে ভুল বুঝলো । আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ে যাচ্ছে । চোখ মুছে আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ আঙ্কেল বিশ্বাস করেন আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে । আমি টাকা চুরি করি নি ।

আঙ্কেলঃ থাক আর কিছু বলতে হবে না । ভুল আমি এতো দিন বুঝে আসছিলাম । কিন্তু আজ তুমি আঙুল দিয়ে সেই ভুল দেখিয়ে দিলে ।

আমিঃ নিশ্চুপ ....

আঙ্কেলঃ তোমার নিশ্চুপ থাকা এটাই প্রমাণ করে যে তুমিই টাকা নিয়েছিলে । তুমি আমার পরিবার কে বাঁচিয়েছো তাই তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিলাম । এটাই তোমার শেষ সুযোগ । কিন্তু আর কখনোই আমার বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে না ।

বলেই আঙ্কেল আমার রুম থেকে চলে গেল । তারপর রাইসা আমার কাছে এসে শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বলতেছে,,,,,,,,,

রাইসাঃ আমার সাথে লাগার পরিনাম এখন হাড়ে হাড়ে বুঝবি । রাইসা কারো ঋণ বাকি রাখে না । সুদে আসলে ফেরত দিয়ে দিলাম ।

বলেই রাইসা ওর রুমে চলে গেল । তারমানে এসব রাইসার কাজ আমার প্রতি আঙ্কেলের ঘৃনা জন্মানো ওর আসল উদ্দেশ্য ।

সেই দিন আর ভার্সিটিতে গেলাম না । রাতের বেলা,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
211 Views
5 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: