স্নেহ

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সন্ধায় বউদির ঘরে ঢুকে লজ্জিত স্বরে বললাম " বউদি একটা আবদার করবো,রাখবে? "

বউদি বললো " হ্যা বলো না কি বলবে! "

" তোমার কাছে কিছু টাকা হবে?পাঁচ হাজারের মতো।হোস্টেল খরচের যে টাকাটা দাদা দিয়েছিলো সেটা ভেনিটি ব্যাগে রেখেছিলাম, ছিনতাই হয়ে গেছে "

" সে কি!রাস্তায় চলার সময় হুস থাকে কোথায়?ব্যাগ সাবধানে রাখতে পারো না!এতো বড় হইছো এখনো উদাসীনতা গেলো না তোমার।দুইদিন পরপর টাকা হারিয়ে ফেলো "

" বুঝতে পারিনি কিভাবে নিয়ে গেছে।দাদাকে বললে অনেক কথা শোনাবে,তুমি একটু ম্যানেজ করে দাও না গো "

" আমার কাছে কেন চাও? আমি কি কম কথা শোনাই নাকি? "

" তুমি তো মায়ের মতো।ছোট থেকে আদরে বড় করেছো।তোমার কথা গায়ে লাগে না "

বউদি আলমারি থেকে তিন হাজার টাকা এনে হাতে দিয়ে বললো " তোমার দাদা টাকা রেখে যায়নি,এটা আমার কাছে ছিলো,নাও।বাকি দু হাজার কিছুদিন পর দিলে হবে না? "

" হবে না মানে, খুব হবে।আমি সামলে করে নিবো।দশ বারোদিন পর দিও "

" ঠিক আছে।আর মহারাণী আপনার পায়ে পড়ি,এইবার অন্তত চলার পথে সাবধানে যায়েন।ব্যাগটাও সাবধানে রাখিয়েন "

" যথা আজ্ঞা রাজরাণী,আপনার হুকুম চিরধার্য! "

বউদির কাছে মাঝেমধ্যেই এভাবে টাকা নিতাম।নতুন বছরে তিনটা টিউশন পেলাম।সেখান থেকে হোস্টেলের খরচ উঠে যায়।মনস্থির করলাম ভাবীর কাছ থেকে যে টাকাগুলো নিতাম সেটা অল্প অল্প করে দিবো।মেয়েদের তো আলাদা টাকার প্রয়োজন থাকেই।

মাস শেষে টাকা হাতে পেয়ে আজ গেলাম ফেরৎ দিতে।অনেক জেরাজুরি করলাম,নিলোই না।বললো

" মায়ের কাছ থেকে টাকাটা নিলে কি মা ফেরত নিতেন?আমার আবার আলাদা টাকা কিসের?সব তো তোমার দাদার টাকাই।তোমার টাকা হারানোর অভ্যাস, তাই কিছু সরিয়ে রাখতাম।আমার শখ পূরণ করার জন্য তোমার দাদা আছে।এটা দিয়ে তুমি নিজের জন্য কেনাকাটা করো "

বউদির এমন কথায় আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম!কোটিতেও কেউ এমন একজন বউদি পায় কিনা আমার সন্দেহ!


248 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: