উপর থেকে রাইসা সিড়ি বেয়ে নিচে আসছিল । ওকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে । চোখ সরাতে চেয়েও কেন জানি সরাতে পারলাম না ।
তারপর রাইসা নিচে এসেই আমাকে বললো,,,,,,
রাইসাঃ এরকম ছ্যাচড়া ছেলেদের মতো তাকিয়ে আছিস কেন ।
ওর কথা শুনে আমি চোখ নামালাম । তারপর বললাম,,,,,,,
আমিঃ সরি ।
রাইসা ওর বন্ধু বান্ধবীদের কাছে চলে গেল । কিছুক্ষণ পর কেক ও কাটা হলো । আঙ্কেল আন্টি রাইসা কে কেক খাওয়ানোর পর রাইসাও উনাদের খাইয়ে দিলেন ।
আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ওদের এসব নিয়ম কানুন গুলো দেখছি । আর ভাবছি আমাদের গ্রামে কখনোই জন্মদিন নিয়ে এরকম আয়োজন হয় না ।
রাইসা ওর বন্ধু বান্ধবী দের সাথে আড্ডা দেয়ার সময় ওদের গ্রুপের একটা মেয়ে আমাকে ডেকে বললো,,,,,,,,
মেয়েটিঃ এই চাকর এদিকে শোন ।
আমি কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ জ্বি মেডাম বলেন ?
মেয়েটিঃ আমার জন্য ওখান থেকে একটা পানির বোতল নিয়ে আয় ।
ওর ওর্ডার শুনে আমি রাইসার দিকে তাকালাম । তারপর রাইসাও রাগি কন্ঠে বললো,,,,,,,,
রাইসাঃ কি হলো নির্লজ্জের মতো এখানে দাঁড়িয়ে আমার মুখ কি দেখছিস । কি বললো শুনতে পাস নি । তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় ।
আমিঃ জ্বি আনছি ।
বলেই সেখান থেকে কিচেনে চলে আসলাম । আর ভাবতে লাগলাম বড়লোকের মেয়েরা এমন হয় কেন । আমাদের মনে হয় মানুষ ই ভাবে না ।
তারপর আমি পানি গ্লাসে করে নিয়ে যেতেই রাইসাদের গ্রুপের একটা ছেলে আমার পায়ে পা দিয়ে বাধা দিল আর সাথে সাথে পানির গ্লাস সহ ওর বান্ধবীর গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম ।
গ্লাসের সব পানি মেয়েটির গায়ে পড়ে গিয়ে কাপড় গুলো ভিজে গেল । আমি সাথে সাথেই উঠে বলতে লাগলাম,,,,,,,,
আমিঃ সরি মেডাম । আমি দেখতে পাই নি ।
মেয়েটি উঠেই আমাকে,,,,,
মেয়েটিঃ ঠাসসসস ঠাসসসসস
হ্যাঁ ঠিক ই বুঝেছেন । সবার সামনে মেয়েটি আমার গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো । আমি গালে হাত দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম । এখন সব আত্মীয় স্বজনের দৃষ্টি আমাদের দিকে ।
এতক্ষণে আঙ্কেল আন্টিও লক্ষ্য করেছে । থাপ্পড় মে*রে*ই বলতে লাগলো,,,,,,,
মেয়েটিঃ অসভ্য কোথাকার গাঁইয়া ক্ষ্যাত,,,মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়ার ইচ্ছে জাগে । এসব চাকরের স্বভাব কোনোদিন ও যাবে না ।
আমিঃ সরি মেডাম । আমি ইচ্ছে করে করি নি ।
মেয়েটিঃ আবার মুখে মুখে তর্ক করিস ।
বলেই আবার হাত তুললো থাপ্পড় মা*রা*র জন্য । যখনি থাপ্পড় দিতে যাবে তখনি পিছন থেকে কে যেন হাতটা চেপে ধরে । আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি আঙ্কেল ।
তখন মেয়েটি আঙ্কেল কে বলতে লাগলো,,,,,,
মেয়েটিঃ আঙ্কেল এসব কি চাকর রাখেন যে কোনো মেনার্স ই জানে না । আবার মুখে মুখে তর্ক করে ।
আঙ্কেলঃ তাই না । তুমি যে এই ছেলেকে না জেনে না বুঝে দুইটা থাপ্পড় মা*র*লে এটা কি তোমার ঠিক হলো ।
মেয়েটিঃ মা...মা...মানে
আমিঃ আঙ্কেল বাদ দিন না প্লিজ ।
আঙ্কেলঃ তুমি চুপ করো ।
তারপর আমি চুপ হয়ে গেলাম । আঙ্কেল আবারো বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ দূর থেকে আমরা কিন্তু সব দেখেইছি । তবুও বিশ্বাস না ওই যে কর্ণারে দেখতে পাচ্ছো সিসি ক্যামেরা আছে । ওটা দেখাচ্ছি ।
তখন রাইসা সহ ওর সকল বন্ধু বান্ধবীর মুখে ভয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে । সিসি ক্যামেরায় স্পষ্ট প্রমনিত হলো রাইসা সহ ওর সকল বন্ধু বান্ধবীদের আমাকে অপমান করার জন্য প্রি প্লান ছিল ।
তখন আবার আঙ্কেল ওর বন্ধু বান্ধবী দের বললো,,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ আমার মেয়ে তোমাদের মতো কয়েকটা নষ্ট ছেলে মেয়েদের জন্যই বেশি নষ্ট হয়ে গেছে ।
আর ছেলে বন্ধুদের বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ তোমাদের যেন এর পর থেকে আমার মেয়ের আশে পাশে না দেখি । যদি দেখি তাহলে আমার থেকে বেশি কেউ খারাপ হবে না । মনে থাকে যেন । আমার বাসাতেও আর কখনো আসবে না তোমরা । গেট আউট ফ্রম হেয়ার ।
ছেলে গুলো অনেক রাগান্বিত হয়ে গজ গজ করতে করতে চলে গেল । এগুলো বলেই আঙ্কেল অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন । রাইসা ওর রুমে চলে গেল ।
আর আমিও আমার রুমে চলে আসলাম । মনে মনে ভাবছি,,,কেন যে এই ঢাকা শহর এলাম । এতো কষ্ট যে আর সহ্য হচ্ছে না ।
রাতেই শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে অনেক্ষন কাদলাম । আজকে আব্বু আম্মুর কথা অনেক মনে পড়ছে । তারা কখনো আমাকে কষ্ট দেয় নি । সেখানে আমি চাকর হয়ে দিন কাটাচ্ছি ।
শাওয়ার থেকে বের হয়ে ভালো লাগছিল না তাই ছাদে চলে গেলাম । গিয়ে দেখি রাইসা আগে থেকেই ছাদে এসে দাড়িয়ে আছে ।
তাই আমি ওকে দেখে বললাম,,,,,,,
আমিঃ সরি মেডাম । আপনি আসছেন জানলে আমি আসতাম না ।
রাইসাঃ ওই শোন ।
আমিঃ জ্বি মেডাম কিছু বলবেন ?
রাইসাঃ হুমম ।
আমিঃ জ্বি বলেন কি বলবেন ?
রাইসাঃ ..................
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
237
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating