বৃষ্টি থেমে গেছে। জানালার কাচে জমে থাকা পানির ফোঁটাগুলো ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ছে নিচে। অনামিকা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। পলাশের শেষ মেসেজটা এখনও উত্তরহীন পড়ে আছে—
"তুমি কি জানো, ধৈর্য ধরতে জানলে ভালোবাসা সবসময় ফিরে আসে?"
উত্তর দেবে কি দেবে না, বুঝতে পারছে না।
এই সম্পর্কটার একটা নাম দেওয়া যায়?
পলাশ কখনো ভালোবাসার কথা বলেনি। কখনো জোর করেনি, কখনো কোনো দাবি রাখেনি। শুধু অপেক্ষা করেছে, পাশে থেকেছে।
কিন্তু… অপেক্ষা কিসের?
অনামিকা কি চায়, পলাশ তাকে ভালোবাসুক?
নাকি সে নিজেই অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছে?
মনের এই দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ওঠা যেন অসম্ভব হয়ে উঠছে তার জন্য।
(অতীত: অনামিকার আত্মসমর্পণ)
সেদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের এক কোণে বসেছিল ওরা দু'জন। বাতাসে হালকা শীতের আমেজ। অনামিকা পলাশের দিকে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ, তারপর বললো—
অনামিকা: "তুমি কখনো কিছু চাইবে না? কখনো বলবে না, আমি তোমার?"
পলাশ: "মানুষ কি চাইলেই কিছু তার হয়ে যায়?"
অনামিকা কিছু বললো না।
পলাশ আবার বললো—
"ভালোবাসা একটা অপেক্ষার খেলা। কেউ যদি সত্যিই ভালোবাসে, তাহলে অধিকার দেখাতে হয় না, জোর করে কাছে আনতে হয় না। শুধু অপেক্ষা করতে হয়, যতদিন প্রয়োজন…"
অনামিকা হেসে ফেললো— "তাহলে তুমি অপেক্ষা করছো?"
পলাশ কিছু বললো না, শুধু এক গাল মৃদু হাসলো।
অনামিকা গভীরভাবে তাকিয়ে ছিল তার চোখের দিকে। এই চোখের মধ্যে কি সত্যিই কোনো প্রত্যাশা নেই? নাকি এক অদ্ভুত ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, যার ভাষা সে এখনও বুঝতে পারেনি?
(বর্তমান: মনের নতুন অনুভূতি)
অনামিকা জানালার পাশ থেকে উঠে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। নিজের চোখের দিকে তাকালো।
সেখানে একটা অদ্ভুত মায়া ফুটে উঠেছে।
সে কি সত্যিই বদলে যাচ্ছে?
আগে তো কখনো কারো মেসেজের জন্য অপেক্ষা করতো না। কেউ দেরি করলে বিরক্ত হতো, কেউ বেশি কাছাকাছি আসতে চাইলেও সে দূরত্ব রাখতো।
কিন্তু পলাশ…
ওর জন্য অপেক্ষা করা যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
ওর কথা শুনতে ইচ্ছে করে, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে, কিন্তু…
কিন্তু এটা কি ভালোবাসা?
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো।
পলাশের নাম স্ক্রিনে ঝলসে উঠলো!
অনামিকার বুকের ধুকপুকানি যেন এক লাফে বেড়ে গেল।
তবে কি… সে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছে?
(ফোনের ওপাশে পলাশ)
অনামিকা ফোনটা কাঁপা কাঁপা হাতে ধরলো।
পলাশ: "এই অনামিকা, কী করছো?"
অনামিকা (স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে): "কিছু না… এই তো, বৃষ্টি দেখছিলাম।"
পলাশ (হেসে): "বৃষ্টি তো থেমে গেছে!"
অনামিকা: "ওহ… মানে, জানালার কাচে যে ফোঁটাগুলো পড়ে আছে, সেগুলো দেখছিলাম।"
পলাশ একটু চুপ থাকলো, তারপর বললো—
"তুমি জানো, কিছু ফোঁটা কখনো মাটিতে মিশে যায় না।"
অনামিকা: "মানে?"
পলাশ: "কিছু ফোঁটা থেকে যায় কাচের ওপরে… যেমন কিছু ভালোবাসা থেকে যায় অপেক্ষার মধ্যে!"
অনামিকার হাত আরও কাঁপতে লাগলো।
এই কথার মানেটা কী?
পলাশ কি ইশারায় কিছু বললো?
নাকি সে শুধু তার ধৈর্যের গল্প শোনাচ্ছে?
(শেষ দৃশ্য)
অনামিকা জানে না, এই গল্পটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে।
সে শুধু জানে, পলাশের সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে, তার সঙ্গ পেতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু সে কি তৈরি?
ভালোবাসাটা কি শুধু অপেক্ষার খেলা?
নাকি অপেক্ষার শেষেও একটা উত্তর থাকে?
অনামিকা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
কিন্তু এতটুকু জানে— সে আর আগের মতো নেই
[পরবর্তী পর্বে: পলাশের অনুভূতি, অপেক্ষার শেষের সিদ্ধান্ত, এবং সম্পর্কের সত্যিকার পরিণতি…]
তুমি আসবে বলে ( পাট ২ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
105
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating