সকালে রাইসার জন্য নাস্তা তৈরী করে বাসার যাবতীয় সব কাজ করে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম ভাঙলো রাইসার থাপ্পড়ে ।
কেন মা*র*লো বুঝলাম না । উঠে দেখি রাইসা আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে । তারপর আমি বললাম,,,,,
আমিঃ কি ব্যাপার মেডাম মা*র*লে*ন কেন ??
রাইসাঃ গাঁইয়া ছোটলোক তোকে কি ঘুমানোর জন্য আব্বু এই কাজ দিয়েছে । দুপুর হয়ে গেছে এখন আমি কি খাবো ।
আমিঃ সরি । কাল সারারাত জেগে ছিলাম তো তাই বুঝতে পারি নি মেডাম । এজন্য ঘুম বেশি ধরেছে ।
রাইসাঃ তা তো ধরবেই নবাবের ছেলে ।
আমিঃ আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন আমি খাবার বানিয়ে দিচ্ছি ।
রাইসাঃ হ্যাঁ তোর আশায় আমি বসে আছি । আমি বাহিরে থেকে খেয়ে আসছি ।
আমিঃ তাহলে আমাকে ডাকলেন যে ?
রাইসাঃ তোকে শিক্ষা দেয়ার জন্য । যাতে ভবিষ্যতে এই ভুল না হয় ।
বলেই রাইসা ওর রুমে চলে গেল । তারপর আমি খাবার তৈরী করে গোসল করে হাসপাতালে চলে গেলাম । এসেই বললাম,,,,,
আমিঃ সরি আঙ্কেল আন্টি আসতে একটু দেরী হয়ে গেল ।
আঙ্কেলঃ আরে কি বলছো দেরী হবে কেন ?
আমিঃ এই যে আপনাদের না খাইয়ে রাখছি ।
আঙ্কেলঃ কোনো সমস্যা নেই । তুমি চুপচাপ এখানে বসো ।
আমি বসে বসে ভাবলাম । আঙ্কেল আন্টি কত ভালো মনের মানুষ । উনার মেয়ে এমন কেন ।
যাইহোক আরো দুইদিন হসপিটালে থেকে আন্টিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো । বাসার সব কাজ আমিই করি । মাঝে মাঝে ভার্সিটিতে যাই ।
রাইসার অত্যাচার,,আঙ্কেল আন্টির ভালোবাসার মাঝে এক বছর চলে গেল । অনার্স ১ম বর্ষের রেজাল্ট বের হলো ।
রাইসার থেকে তুলনামূলক ভাবে আমার রেজাল্ট ভালো হওয়ায় আঙ্কেল আন্টি অনেক খুশি । কিন্তু রাইসা খুশি হতে পারলো না । তার ক্ষোপ আমার উপর থেকেই গেল ।
আর এদিকে গ্রামের বাড়িতে,,,,,,,,,,,
আজকে রেখা আপুকে দেখতে পাত্র পক্ষের লোক এসেছে । পাত্র পক্ষ জিজ্ঞাসা করতেছে,,,,,,
আঙ্কেলঃ আপনারা কি যৌথ পরিবার ।
আব্বুঃ হ্যাঁ আমরা একত্রেই থাকি । সে ক্ষেত্রে যৌথ পরিবারই ।
আঙ্কেলঃ তা আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন ?
আব্বুঃ আমার এক ছেলে আর এটা বড় মেয়ে যাকে আপনারা দেখতে এসেছেন । আর আমার ছোট ভাইয়ের এক মেয়ে ।
আঙ্কেলঃ তা আপনার ছেলে কোথায় তাকে তো দেখছি না ।
এই প্রশ্নটি করার সাথে সাথেই সবার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল । কিছুক্ষণ তিনি আবার বললেন,,,,,,
আঙ্কেলঃ কি হলো চুপ করে আছেন কেন ?
আব্বুঃ আসলে আমার ছেলে রাকিব একবছর থেকে মিসিং । ওকে অনেক খোঁজার চেষ্টাও করেছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি বারবার । তাই সত্যিটা সবাই মেনে নিয়েছি । আমার ছেলে আর হয়তো এই পৃথিবীতে নেই ।
পাশে নিশি আম্মু,,ছোট আম্মু সবাই কেঁদে উঠলো । তারপর উনি বললেন,,,,,
আঙ্কেলঃ সরি আমি বুঝতে পারি নি ।
আব্বুঃ ঠিক আছে সমস্যা নেই ।
আঙ্কেলঃ আপনার মেয়েকে আমাদের অনেক পছন্দ হয়েছে । আপনি চাইলে আগামী মাসেই আমরা আপনার মেয়েকে আমাদের ঘরের মেয়ে করে তুলতে চাই ।
আব্বুঃ আলহামদুলিল্লাহ । আমিও রাজি ।
কয়েকদিন পর সবাই খুশি মনে বিয়ের আয়োজন করাতে ব্যস্ত হয়ে থাকে । কিন্তু নিশি সবসময় চুপচাপ হয়ে থাকে ।
কি যেন একটা চিন্তা করে । আগের থেকে চিন্তায় সে অনেক টা শুকিয়ে গেছে ।
রুমের বাহিরেও দরকার ছাড়া বের হয় না । স্কুল থেকে এসে সোজা আবার বাসায় । এরকম করেই চলছে নিশির জীবন ।
এদিকে,,,,,,,,,,,,
আজকে রাইসার জন্মদিন । জন্মদিন উপলক্ষে আঙ্কেল প্রতিবছর অনুষ্ঠান করে । এই বছর ও তার ব্যতিক্রম করলো না ।
রাতের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হইছে । তাই সকাল থেকেই অনেক আয়োজন চলছে । আঙ্কেলের অফিস কলিগ,,আত্মীয় স্বজন আর রাইসার অনেক গুলো বান্ধবীকে ইনভাইট করা হইছে ।
সারাদিনে অনেক আয়োজন ই করা হইছে । গ্রামে হলে কখনোই এমন হতো না । এই প্রথমবার জন্মদিনের জন্য এতো বড় অনুষ্ঠান নিজের চোখে দেখতেছি ।
আমাকে কাজ করতে দেখে আঙ্কেল এসে বললো,,,,,,,
আঙ্কেলঃ রাকিব এখানে কি করছো ।
আমিঃ জ্বি আঙ্কেল কাজ করছি ।
আঙ্কেলঃ আজকের দিনে তোমার কাজ করতে হবে না । যাও তুমি ফ্রেশ হয়ে নতুন কিছু পড়ে আসো ।
আমি যেতে না চাইলেও আঙ্কেল আন্টির জোরাজুরিতে রুমে চলে আসলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে একটা পাঞ্জাবী আর জেন্স পড়ে বাহিরে এলাম ।
আমাকে দেখেই আঙ্কেল বললো,,,,,
আঙ্কেলঃ মাশাআল্লাহ আজকে তোমাকে রাজপুত্র লাগছে ।
আমিঃ ধন্যবাদ আঙ্কেল ।
তারপর উপর থেকে রাইসা সিড়ি বেয়ে নিচে আসছিল । ওকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে । চোখ সরাতে চেয়েও কেন জানি সরাতে পারলাম না । তারপর,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
242
Views
3
Likes
1
Comments
5.0
Rating