গল্পঃ গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমিঃ ছিঃ ছিঃ আঙ্কেল এগুলো কি বলছেন । আমি আপনাদের কাছে আরো অনেক গুন ঋনি । আপনি আমাকে আশ্রয় না দিলে কোথায় গিয়ে থাকতাম । উনি তো আমার মায়ের মতোই । এটা তো সন্তানের কর্তব্য মাকে রক্ষা করার তাই না ।

আঙ্কেল কোনো কথা না বলে সরাসরি আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমিও একটু মুচকি হাসলাম ।
কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাইসা কোথায় ও আসে নি ।

আমিঃ না আঙ্কেল । ওর একটা এক্সট্রা ক্লাস আছে সেটা করেই আসবে ।

আঙ্কেলঃ ওহহ আচ্ছা ।

তারপর আমি আর আঙ্কেল আন্টির বেডে গেলাম । আমি আন্টিকে বললাম,,,,,,,,

আমিঃ এখন কেমন আছেন আন্টি ।

আন্টিঃ এখন একটু ভালো । তুমি যদি সময় মতো না আসতে । সত্যিই আমি তোমাকে দেখতে পারতাম না । কিন্তু তুমিই আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছো । আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও ।

আমিঃ ছিঃ ছিঃ আন্টি এগুলো কি বলছেন । আমি তো ছেলের মতোই । ছেলের কাছে মা কখনো ভুল করতে পারে ।

আন্টিঃ যে তোমাকে জন্ম দিয়েছে সে অনেক ভাগ্যবতি মা ।

আন্টির কথায় আমার আম্মুর কথা মনে পড়ে গেল । কিছুক্ষণ পর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ আচ্ছা বাদ দিন না আন্টি । আপনি রেস্ট নিন । কিছু লাগলে আমাকে বলবেন আমি আপনার পাশেই আছি ।

আন্টিঃ ঠিক আছে বাবা ।

তারপর আন্টি চুপচাপ রেস্ট নিতে লাগলো । আঙ্কেল ফোন করে রাইসা কে জানালো । কিন্তু তবুও তাড়াতাড়ি এলো না । বরং আজকে আসতে বেশিই লেট করেছে । রাইসা হসপিটালে পৌঁছাতেই আঙ্কেল বললো,,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাইসা এতোক্ষন কোথায় ছিলে । তোমাকে আমি কখন ফোন করেছি । আর তুমি কখন আসছো । নিজের বাবা মায়ের প্রতি তোমার কোনো দায়িত্ব আছে নাকি নেই ।

রাইসাঃ বললাম তো এক্সট্রা ক্লাস ছিলো ।

এটা বলার সাথেই,,,,,,,

আঙ্কেলঃ ঠাসসস ঠাসসসস ।

হ্যাঁ ঠিক ই বুঝেছেন । আঙ্কেল রাইসার গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো । আমি আঙ্কেলের এরকম করতে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম । তারপর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাও না । এতো রাতে তোমার কিসের এক্সট্রা ক্লাস । রাকিব কখন আসছে আর তুমি কখন আসছো ।

রাইসাঃ সরি ।

আঙ্কেলঃ আর যেন এরকম করতে না দেখি ।

বলেই আঙ্কেল আন্টির বেডের কাছে গেল । আমি ওখানেই থ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম । তারপর রাইসা আমার কাছে হনহনিয়ে এসে রাগি চোখে বললো,,,,,,,

রাইসাঃ তুই আব্বুকে এগুলো বলেছিস তাই না । আজ তোর জন্য আব্বু আমার গায়ে হাত তুললো । এর প্রতিশোধ আমি নিবোই তোর থেকে । মনে রাখিস গাঁইয়া ক্ষ্যাত ।

আমিঃ আমি কিছুই বলি নি মেডাম । শুধু শুধু আমাকে ভুল বুঝতেছেন ।

রাইসাঃ চুপ কর তুই । তোর আর কোনো কথাই শুনতে চাই না ।

বলেই রাইসাও আন্টির বেডের কাছে গেল । কিছুক্ষণ পর আমিও সেখানে গেলাম । তারপর বললাম,,,,,,,,,

আমিঃ আঙ্কেল এখানে সবার থাকা প্রয়োজন নেই । আপনি আর রাইসা বাসায় চলে যান । আমি আন্টির সাথে আছি ।

আঙ্কেলঃ সেটা কেমনে হয় । তুমি একাই থাকতে পারবে না । আমিও থাকবো । রাইসা বাসায় যাক ।

আমিঃ না আঙ্কেল ও একটা মেয়ে এতো রাতে একা ছাড়া উচিত হবে না । তাই আপনিও ওর সাথে যান । আমি এখানে আছি সমস্যা নেই ।

আঙ্কেলঃ কিন্তু ......

আঙ্কেল পুরো কথা বলার জায়গা আগেই আন্টি বলে উঠলো,,,,,,,,

আন্টিঃ রাকিব তো ঠিক কথাই বলেছে । এখানে ও থাকলেই হবে তুমি চিন্তা করো না । এখন ওর প্রতি আমার পুরো বিশ্বাস আছে । তুমি আর রাইসা বাসায় যাও ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে । তাহলে আমরা গেলাম ।

আমিঃ জ্বি আঙ্কেল সাবধানে যাবেন ।

বলেই রাইসা আর আঙ্কেল বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল । আমি আন্টির পাশে বসে আছি । উনাকে ঘুমানোর চেষ্টা করতে বললাম ।

আমি সারারাত ই জেগে ছিলাম । খুব সকালে আঙ্কেল হাসপাতালে চলে আসলো । আজকে আর রাইসা এলো না ।

আঙ্কেল এসেই বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাকিব তুমি এখন বাসায় যাও রেস্ট নাও । আমি আজকে অফিসে যাবো না ।

আমি যেতে না চাইলেও আঙ্কেল আন্টির জোরাজুরিতে বাসায় চলে আসলাম । সারারাত ঘুমাই নি । বাসায় এসে দেখি রাইসা ঘুম থেকেই উঠে নি ।

তাই ওর জন্য নাস্তা তৈরী করে বাসার যাবতীয় সব কাজ করে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম ভাঙলো রাইসার থাপ্পড়ে ।

কেন মা*র*লো বুঝলাম না,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,

আজকে দুই পার্ট দিয়েছি । তাই ছোট শুনতে বাধ্য নই ।কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
318 Views
5 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: