রাতের আঁধারে চার বন্ধু ছুটে গ্রামের রাস্তায় এসে থামল। পলাশের হাতে সেই পুরনো দিনলিপি, যার মলাটে ধুলো জমলেও লাল কালি দিয়ে লেখা "নীলা" নামটা যেন এখনও উজ্জ্বল।
— "এটা কীসের ডায়েরি?" তানিম হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
— "আমি জানি না, কিন্তু মনে হয় এই ডায়েরিতেই আসল রহস্য লুকিয়ে আছে," পলাশ বলল।
নীলার গল্প
পলাশ ডায়েরির প্রথম পাতাটা উল্টে পড়তে শুরু করল।
"আজকের দিনটা খুব সুন্দর কাটল। বাবা-মায়ের সঙ্গে বাজারে গেলাম। বাবা আমার জন্য একটা নীল রঙের কানের দুল কিনে দিলেন। ওটা আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস..."
পাতা উল্টে উল্টে পলাশ আর বাকিরা জানতে পারল, নীলা এই বাড়িরই মেয়ে ছিল। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে বলা হতো তাকে। কিন্তু তার সৌন্দর্যই যেন একদিন তার কাল হলো।
এক রাতে, যখন সে একা ছিল, গ্রামের এক প্রভাবশালী লোক তার ওপর নজর দেয়। নীলার বাবা-মা প্রতিবাদ করেছিল, কিন্তু তাদের কথার দাম কেউ দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত, এক ভয়ানক রাতে, নীলাকে এই বাড়ির ভেতরে মেরে ফেলা হয়।
"ফিরিয়ে দাও..."
দিনলিপির শেষ পাতায় কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা ছিল—
"আমি এখানে একা পড়ে আছি... আমার কাননের দুলটা কে যেন নিয়ে গেছে। ওটাই আমার সব স্মৃতি। কেউ যদি কখনও এই ডায়েরি পড়ে, দয়া করে ওটা ফিরিয়ে দিও..."
পলাশের চোখ বিস্ফারিত!
নীলার প্রিয় নীল কানের দুলটাই হয়তো তাকে মুক্ত করতে পারে! কিন্তু ওটা কোথায়?
সত্য উন্মোচন
পরদিন, পলাশ গ্রামের এক বৃদ্ধার কাছে শুনল যে নীলার মৃত্যুর পর তার কানের দুলটা গ্রামের এক প্রভাবশালী লোক নিয়ে গিয়েছিল। আর সেই লোক এখন মৃত, কিন্তু তার পরিবার এখনো গ্রামে আছে।
পলাশ এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে সরাসরি সেই বাড়িতে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর, পুরনো বাক্সের মধ্যে নীলার কানের দুলটা পেল।
অবশেষে মুক্তি
সেই রাতে, পলাশ একা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল। দিনলিপিটা এক জায়গায় রাখল আর কানের দুলটা জানালার পাশে রেখে দিল।
বাতাসের মধ্যে হালকা নীল আলো ছড়িয়ে পড়ল।
একটা নরম কণ্ঠস্বর ভেসে এলো— "ধন্যবাদ..."
পলাশ দেখল, নীলচে ছায়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির অভিশাপ হয়তো শেষ হলো।
শেষ বাক্য
পরদিন সকালে, গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে দেখল—বছরের পর বছর নীল আলোয় ঢাকা বাড়িটা এবার একেবারে শান্ত।
আর পলাশ জানে, নাল্লাপাড়ার রহস্যময় ভূতের গল্পটা এখানেই শেষ হলো... নীলার মুক্তির মাধ্যমে।
(সমাপ্ত)
নাল্লাপাড়ার ভূতের বাড়ি ( পর্ব ৪ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
142
Views
3
Likes
1
Comments
5.0
Rating