*** কবর হলো সাপ বিচ্ছুর ঘর! কবর নির্জন আতঙ্কের ঘর! কবর একা থাকার ঘর! কবর পোকামাকড়ের ঘর! ***
-- একদা হযরত ঈসা (আঃ) এক মহল্লা অতিক্রম করার সময় দেখতে পেলেন সেখানকার সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে! বাড়ি - ঘর ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। হযরত ঈসা (আঃ) মনে মনে বললেন "" এদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেছিলো "" আর এই সব আল্লাহর অবাধ্যতার দরুনই হয়েছে।
-- হযরত ঈসা (আঃ) মৃতদের সাথে কথা বলতেন। তিনি আওয়াজ দিলেন - "" হে জনপদবাসী! ""
-- জবাব এলো " আমরা উপস্থিত, হে আল্লাহর নবী!
- ঈসা (আঃ) বললেন ' তোমাদের কী অপরাধ ছিলো এবং কীভাবে ধ্বংস করা হলো?
-- আওয়াজ এলো ' আমাদের দুটি অপরাধ ছিলো -- ১.দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা,২.তাগুতদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক!
-- ঈসা (আঃ) বললেন, তাগুতদের সাথে মোহাব্বত এর উদ্দেশ্য কী?
-- আওয়াজ এলো ' আল্লাহর নাফরমান ও নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোকদের সাথে সুসম্পর্ক ছিলো আর অবাধ্য লোকদের সাথে ওঠাবসা করতাম। '
-- ঈসা (আঃ) বললেন ' দুনিয়ার মোহাব্বত দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
-- আওয়াজ এলো ' আমাদের ভালোবাসা দুনিয়ার সাথে এমন ছিলো, যেমন মা তার নিজ সন্তানকে ভালোবাসতো। আমরা মাল সম্পত্তি হাতে এলে অনেক আনন্দিত হতাম আর তা হাত ছাড়া হয়ে গেলে অস্থির হয়ে যেতাম। আমরা হালাল - হারাম চিন্তা না করেই সম্পদ কামাই করতাম আর জায়েজ - নাজায়েজ এর পরোয়া না করেই তা ব্যয় করতাম। এর মধ্যেই আমরা মগ্ন ছিলাম!
-- ঈসা (আঃ) বললেন ' এরপর তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে?
--- আওয়াজ এলো ' রাতে আমরা সবাই আপন বাড়িতে নিদ্রায় বিভোর ছিলাম, কিন্তু সকাল হলেই দেখি সবাই হাবিয়া দোযখে পৌছে গেছি!
-- ঈসা (আঃ) বললেন ' হাবিয়া কী?
- আওয়াজ এলো ' এটা সিজ্জিন!
-- ঈসা (আঃ) বললেন ' সিজ্জিন কী?
-- আওয়াজ এলো ' হে আল্লাহর নবী! সিজ্জিন এমন এক বন্দীশালা, যার একটি জ্বলন্ত কয়লা সাত সাত দুনিয়ার সমান এবং আমাদের আত্মাকে সেখানে দাফন করা হয়েছে।
-- ঈসা ( আঃ) পুনরায় বললেন, তুমি একা কথা বলছো, আর কেউ কথা বলার মতো নেই?
-- আওয়াজ এলো , হে আল্লাহর নবী! সকলের মুখে আগুনের লাগাম এঁটে দেওয়া হয়েছে বিধায় তারা কথা বলতে পারে না। তাদের মূখ বন্ধ। আমার মুখে লাগাম দেওয়া হয় নি বিধায় আমি কথা বলতে পারছি।
--- হযরত ঈসা (আঃ) বললেন তুমি কিভাবে বাচলে?
--- আওয়াজ এলো, আমি সিজ্জিনের বসা আছি। তাদের সাথে থাকার কারনে আমাকেও পাকড়াও করা হ'য়েছে। এখন আমি সিজ্জিনের প্রান্তে এমন স্থানে বসা আছি যে, ঠিক নেই কোন সময় নিছে পড়ে যাই। আল্লাহ পাক অনুগ্রহ করে আমাকে মাফ করেন কিনা তাও ঠিক জান নেই আমার!
-- হযরত ঈসা আর কিচ্ছু বললেন না। তিনি সেই স্থান ত্যা
** এই হাদিসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এটাই যে,,
- প্রত্যেক জীবই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে।অথচ মৃত্যু আমাদের প্রত্যেক নর - নারীর উপর আসবেই! আর এর জন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ নেই! পরহেজগার ছাড়া কোনো উপশমও নেই!!
- অথচ আমাদের কত বড় উদাসীনতা! এই মৃত্যুর জন্য কি প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি?
কবরের সম্ভল আমাদের জোগার হয়েছে কি?
** পৃথিবীতে শান্তি এবং পরকালে মুক্তির জন্য অবশ্যই জরুরি হচ্ছে নামাজ কায়েম করা। আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কোরআন শিক্ষা করা এবং অপরকে শিক্ষা দেওয়া। **
* আল্লাহ খুবই দয়ালু! বান্দা যদি আকাশ সমান গুনাহ করে তারপরও যদি আল্লাহর কাছে মাফ চাই তিনি ক্ষমা করে দেন! সুবহানাল্লাহ* সকলেই আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসো? *
মৃতের সাথে হযরত ঈসা (আঃ) এর কথোপকথন!
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
83
Views
1
Likes
0
Comments
5.0
Rating