ভোরের আলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
* সিফাত ঈশিতাকে কলেজে নিয়ে গেলো*
- ইশিতা গেইট দিয়ে ঢোকার সময় হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে পরলো। এক পর্যায়ে তো বলেই ফেললো ভাইয়া এত সুন্দর কলেজ, মাঠ। মাঠের পাশে সারি ভাবে গাছ লাগানো। আমার সময়টা ভালোই কাটবে ভাইয়া এই প্রকৃতির মাঝে তাই না?

- সিফাত বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঈশিতার দিকে। পরক্ষণে কন্ঠ তিক্ত করে বললো তুই কি আর আসিস নি এখানে?

- রাগান্বিত কন্ঠে বললো কি ভাবে আসবো ভাইয়া? ভর্তি হওয়ার সময় আব্বু একলা আসছে আমাকে নিয়ে আসে নাই। আমি বলছি আমাকে আনতে তবুও আনে নাই কেনো রে ভাইয়া? আমার কি কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে করে না? আমাকে কেনো তোমরা আড়ালে রাখো? জনসম্মুখে কেনো আসতে দেও না কেনো?

- সিফাত তিক্ত চোখে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে ইশিতার দিকে। পরবর্তীতে চোখ শীতল করে বললো। আব্বুর এক মাত্র মেয়ে তুই আরুনিমা ঈশিতা এই জন্য এমন করে আব্বু! এটা বলা শেষ করা মাত্রই সিফাতের মোবাইল বেজে উঠলো।

-- কে কল করেছে ভাইয়া?

- আব্বু! দাঁড়া কথা বলে নেই? কল রিসিভ করছে ওই পাশ থেকে মোর্শেদ দেওয়ান হুমকির স্বরে বললেন সিফাত! ঈশিতার ক্লাস শেষ হলে তাকে নিয়ে আসবে? এটা আমার আদেশ?

- আচ্ছা আব্বু! আচ্ছা বলার সাথে সাথে মোর্শেদ দেওয়ান কল কেটে দিলো।

-- আব্বু কি বলেছে ভাইয়া?

- তা যেনে কি করবে আরুনিমা ঈশিতা? ক্লাস শেষ হলে ফোন করবে নিতে আসবো আমি?

-- ঈশিতা আর কথা বাড়ালো না আচ্ছা বলে চলে গেলো।

- সিফাত ঈশিতার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকলো। যখন ঈশিতা চোখের আড়াল হলো তখনি বিড় বিড় করে বলতে লাগলো তোকে আড়ালে রাখার কারণ আছে রে আরুনিমা ঈশিতা! সময় হলে ঠিক জানতে পারবি! তোর জন্য অপেক্ষা করছে খুব বড় একটা ঝড়! তবে তোকে আমি আগলে রাখবো" তুই হচ্ছিস আমার হৃদপিণ্ড তোকে আগলে না রাখলে আমি যে মরে যাবো শ্বাস বন্ধ হয়ে!

-- সিফাত কলেজ থেকে বাড়ি ফিরলো পেছন থেকে কে যেনো ডাক দিলো? ওহ আম্মু তুমি কিছু বলবে?

- লিমা বলে উঠলো সিফাত তোমাকে ডাকছে তোমার আব্বু?

- কোথায় আব্বু?

- হল রুমে আছে যাও তাড়াতাড়ি তোমার জন্য অপেক্ষা করছে?

- আচ্ছা যাচ্ছি।

- সিফাত রুমে ঢুকতেই মোর্শেদ বললো তোমার মেরাজ আংকেলের মেয়ে আফরিনার বিয়ে দাওয়াত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিয়ে?

- তারাও আসবে আব্বু ?

- মনে হয় আসবে এখন আমরা কি যাবো সিফাত বলো?

- আমরা সকলেই যাবো শুধু ঈশিতাকে নিবো না। বাড়িতে লতার কাছে রেখে যাবো। কি বলো তুমি আব্বু?

- যদি যাওয়ার জন্য বাহানা করে সিফাত?

- আমি বুঝিয়ে বলবো।

- আচ্ছা। তবে যদি জোর করে যাওয়ার জন্য তাহলে নিয়ে যাবো কি বলো?

- নিয়ে গেলে আর এই দশ বছর আড়ালে রেখে কি লাভ হয়েছে বলো আব্বু?

- না লাভ হয় নি, তবে আমার মেয়ে কষ্ট পেয়েছে। এখন আর তা হতে দিবো না আড়ালে রাখবো না দেখি তারা কি করতে পারে!

- আচ্ছা দেখা যাক! শুনেছি ঈশান নাকী লন্ডন থেকে দেশে পিরেছে কিছু দিন হলো?

- আমিও শুনেছি তাই তো তোমাকে বললাম ঈশিতাকে কলেজে নিবে এবং আনবে" আচ্ছা যাও এখন সিফাত পরে কথা বলবো তোমার সাথে? ঈশিতাকে রাজি করাতে পারলে বাচি সিফাত! দেখো কি করা যাই?

- আচ্ছা এখন যাই আমি আব্বু?

- আচ্ছা

- ঈশিতার আজকে প্রথম ক্লাস তাই আজকে দুইটা ক্লাস করেই তাদেরকে বাড়িতে চলে যেতে বলেছে। ঈশিতা মনে মনে বললো আজই হচ্ছে সুযোগ পুরো কলেজটা ঘুরে দেখার! সে তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে আসলো ক্লাস থেকে। ঈশিতা দেখলো বারান্দায় একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। তাদের ক্লাসের ওই সময় তো কারো সাথে কথা বলা হয় নি এখন গিয়ে পরিচয় টা নেওয়া যাক। আবার সে কিছু একটা ভেবে গেলো না মেয়েটির কাছে। কিছুখন দাড়িয়ে থাকলো একা একা!

- সিরাজ দেওয়ান ডাকা- ডাকি শুরু করলেন সিফাত এই সিফাত আমার ঈশিতাকে আনতে যাবি না তুই?

- সিফাত বিছানা থেকে উঠে বসলো এবং কথা চোরে মারলো দাদুর পানে দাদু তোমার যদি এত শখ থাকে তাহলে তুমি গিয়ে নিয়ে আসো না? আমাকে কেনো বলছো। বুড়ো কালে কি আমাদের কে শান্তিতে থাকতে দিবে না হ্যা?

- আমি বুড়ো হলে তুই ও বুড়ো সিফাত তাড়াতাড়ি যাহ আমার ঈশিতাকে নিয়ে আস কলেজ থেকে দুপুর হয়ে গেছে হয়তো ছুটি দিয়ে দিছে?

- দেই নি বুড়ো আমি বলছি কল দিতে? এখন আমাকে ঘুমাতে দেও বলে দিলাম?

- তাড়াতাড়ি যাহ বলছি সিফাত?

- সিফাত ঘাড় ত্যারা করে বলতে লাগলো এই বুড়ো না যাওয়া পর্যন্ত শান্তি দিবে না। সিফাত চেচিয়ে বললো যাচ্ছি দাদু যাচ্ছি!

- ঈশিতা কিছুখন পরে দেখলো ওই মেয়টা তার দিকে আসছে।

*** চলবে ***



118 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: