গল্পঃ গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাইসাঃ তুই কিভাবে ভাবলি আমি তোর সাথে এক গাড়িতে যাবো ।

আমিঃ তাহলে আমি কেমনে যাবো ?

রাইসাঃ তুই কেমনে আসবি সেটা তোর ব্যাপার । আর শোন বাবা যদি এগুলো জানতে পারে তাহলে তোর খবর আছে ।

আমিঃ ঠিক আছে মেডাম জানতে পারবে না । আপনি যান ।

তারপর রাইসা আমাকে রেখে একাই গাড়ি নিয়ে চলে গেল । আমিও আগে বাহিরে গিয়ে কিছু নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

ভার্সিটিতে পৌঁছে ক্লাস রুমের ভিতরে ঢুকতেই রাইসার ছেলে বন্ধু আর মেয়ে বান্ধবী বলতে লাগলো,,,,,,,

ছেলেটিঃ এই দ্যাখ ক্ষ্যাত আসছে ক্লাসে ।

মেয়েটিঃ শুধু ক্ষ্যাত না এখন তো চাকর ও হয়ে গেছে ।

বলেই সবাই হাসতে লাগলো । তার মানে রাইসা এদেরকে সব বলে দিয়েছে । আমি কিছুই না বলে মাথা নিচু করে চুপচাপ একাই পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লাম ।

কিছুক্ষণ পর ওর আরেকটা বান্ধবী বলে উঠলো,,,,,,

মেয়েটিঃ চাকরের আবার শখ কত ঢাকা ভার্সিটিতে পড়বে । আর আমাদের ও কপাল ওর সাথে একসাথে পড়তে হচ্ছে ।

কথা গুলো শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছিল । কিছুক্ষণ পর স্যার আসাতে সবাই চুপ হয়ে গেল । একে একে সব ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করার পর ক্লাস থেকে বের হলাম ।

বের হয়ে আসতেই পিছন থেকে দেখি রাইসা ডাকতেছে । তারপর আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ জ্বি মেডাম বলেন ?

রাইসাঃ শোন আমার বাসায় যেতে দেরী হবে । আব্বু জিজ্ঞাসা করলে বলবি এক্সট্রা ক্লাস আছে সেটা করেই আসবে ।

আমিঃ ঠিক আছে মেডাম ।

রাইসাঃ হুমম যা ।

তারপর আমি ভার্সিটি থেকে বের হয়ে একটা শপিং মলে গেলাম । অল্প টাকায় কয়েকটা প্যান্ট আর টি শার্ট কিনলাম । তারপর সেখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম ।

বাসায় এসে যাবতীয় সব কাজ করে গোসল করে নিলাম । আন্টিকে অনেক্ষন যাবৎ দেখছি না । রুমে গিয়ে দরজায় নক দিলাম । কোনো সাড়াশব্দ ও নেই ।

তাই দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম । কেননা রুমে ঢুকে দেখি আন্টি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে ।

ছুটে তার কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,

আমিঃ আন্টি কি হয়েছে আপনার । অজ্ঞান হয়ে আছেন কেন ।

আন্টির কোনো সাড়াশব্দ নেই । আমার অনেক ভয় লাগতে শুরু করলো । আমি কোনো কিছু না ভেবে আন্টিকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে রওনা দিলাম ।

আন্টিকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করালাম । আমার তো ফোন নেই তাই একটা নার্সকে বললাম,,,,,

আমিঃ আপু একটা ফোন করা যাবে প্লিজ । অনেক ইমার্জেন্সি ।

প্রথমে দিতে রাজি না হলেও আমার অনেক জোরাজুরিতে ফোন দিল । আমি সরাসরি আঙ্কেলকে ফোন দিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম ।

আঙ্কেল বললো,,,,,,

আঙ্কেলঃ আমি আসছি তুমি চিন্তা করো না ।

আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।

আমি রুমের বাহিরে বসে আছি । আঙ্কেল বিশ মিনিটের ভিতরে চলে এলো । এসেই আমাকে বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ এখন কি অবস্থা ।

আমিঃ জানি না এখনো ডাক্তার বের হয়নি ।

তারপর কিছুক্ষণ পরেই ডাক্তার বের হলো । আমরা দুজন ডাক্তারের কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,,,,,

আমিঃ ডাক্তার কি হইছে উনার ? আর এখন কি অবস্থা ।

ডাক্তারঃ আপনারা উনার কে হোন ?

আঙ্কেলঃ আমি উনার স্বামী । আর এ আমাদের বাসাতেই থাকে ।

ডাক্তারঃ হুমম ঠিক সময়ে হাসপাতালে না আনলে উনাকে আর বাঁচানো যেত না ।

আমিঃ কি হইছে উনার ।

ডাক্তারঃ হার্ট ব্লকড হইছিলো ।

আঙ্কেলঃ এখন কি অবস্থা ?

ডাক্তারঃ এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে । তবে একটু খেয়াল রাখবেন এরকম যাতে না হয় ।

আঙ্কেলঃ আমরা কি ওকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবো ।

ডাক্তারঃ না দুই দিন থাকতে হবে । তারপর রিলিজ দেয়া হবে ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে ।

তারপর ডাক্তার চলে গেলেন । আন্টিকে বেডে শিফট করা হলো । তারপর আঙ্কেল আমাকে বললো,,,,,,

আঙ্কেলঃ তোমার কাছে আমি অনেক ঋনি বাবা । কি বলে যে তোমাকে ধন্যবাদ দিবো ।

আমিঃ ছিঃ ছিঃ আঙ্কেল এগুলো কি বলছেন । আমি আপনাদের কাছে আরো অনেক গুন ঋনি । আপনি আমাকে আশ্রয় না দিলে কোথায় গিয়ে থাকতাম । উনি তো আমার মায়ের মতোই । এটা তো সন্তানের কর্তব্য মাকে রক্ষা করার তাই না ।

আঙ্কেল কোনো কথা না বলে সরাসরি আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমিও একটু মুচকি হাসলাম ।
কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
262 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: