রাইসাঃ তুই কিভাবে ভাবলি আমি তোর সাথে এক গাড়িতে যাবো ।
আমিঃ তাহলে আমি কেমনে যাবো ?
রাইসাঃ তুই কেমনে আসবি সেটা তোর ব্যাপার । আর শোন বাবা যদি এগুলো জানতে পারে তাহলে তোর খবর আছে ।
আমিঃ ঠিক আছে মেডাম জানতে পারবে না । আপনি যান ।
তারপর রাইসা আমাকে রেখে একাই গাড়ি নিয়ে চলে গেল । আমিও আগে বাহিরে গিয়ে কিছু নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।
ভার্সিটিতে পৌঁছে ক্লাস রুমের ভিতরে ঢুকতেই রাইসার ছেলে বন্ধু আর মেয়ে বান্ধবী বলতে লাগলো,,,,,,,
ছেলেটিঃ এই দ্যাখ ক্ষ্যাত আসছে ক্লাসে ।
মেয়েটিঃ শুধু ক্ষ্যাত না এখন তো চাকর ও হয়ে গেছে ।
বলেই সবাই হাসতে লাগলো । তার মানে রাইসা এদেরকে সব বলে দিয়েছে । আমি কিছুই না বলে মাথা নিচু করে চুপচাপ একাই পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লাম ।
কিছুক্ষণ পর ওর আরেকটা বান্ধবী বলে উঠলো,,,,,,
মেয়েটিঃ চাকরের আবার শখ কত ঢাকা ভার্সিটিতে পড়বে । আর আমাদের ও কপাল ওর সাথে একসাথে পড়তে হচ্ছে ।
কথা গুলো শুনে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছিল । কিছুক্ষণ পর স্যার আসাতে সবাই চুপ হয়ে গেল । একে একে সব ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করার পর ক্লাস থেকে বের হলাম ।
বের হয়ে আসতেই পিছন থেকে দেখি রাইসা ডাকতেছে । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ জ্বি মেডাম বলেন ?
রাইসাঃ শোন আমার বাসায় যেতে দেরী হবে । আব্বু জিজ্ঞাসা করলে বলবি এক্সট্রা ক্লাস আছে সেটা করেই আসবে ।
আমিঃ ঠিক আছে মেডাম ।
রাইসাঃ হুমম যা ।
তারপর আমি ভার্সিটি থেকে বের হয়ে একটা শপিং মলে গেলাম । অল্প টাকায় কয়েকটা প্যান্ট আর টি শার্ট কিনলাম । তারপর সেখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম ।
বাসায় এসে যাবতীয় সব কাজ করে গোসল করে নিলাম । আন্টিকে অনেক্ষন যাবৎ দেখছি না । রুমে গিয়ে দরজায় নক দিলাম । কোনো সাড়াশব্দ ও নেই ।
তাই দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম । কেননা রুমে ঢুকে দেখি আন্টি অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে ।
ছুটে তার কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আন্টি কি হয়েছে আপনার । অজ্ঞান হয়ে আছেন কেন ।
আন্টির কোনো সাড়াশব্দ নেই । আমার অনেক ভয় লাগতে শুরু করলো । আমি কোনো কিছু না ভেবে আন্টিকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে রওনা দিলাম ।
আন্টিকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করালাম । আমার তো ফোন নেই তাই একটা নার্সকে বললাম,,,,,
আমিঃ আপু একটা ফোন করা যাবে প্লিজ । অনেক ইমার্জেন্সি ।
প্রথমে দিতে রাজি না হলেও আমার অনেক জোরাজুরিতে ফোন দিল । আমি সরাসরি আঙ্কেলকে ফোন দিয়ে সব ঘটনা খুলে বললাম ।
আঙ্কেল বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ আমি আসছি তুমি চিন্তা করো না ।
আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।
আমি রুমের বাহিরে বসে আছি । আঙ্কেল বিশ মিনিটের ভিতরে চলে এলো । এসেই আমাকে বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ এখন কি অবস্থা ।
আমিঃ জানি না এখনো ডাক্তার বের হয়নি ।
তারপর কিছুক্ষণ পরেই ডাক্তার বের হলো । আমরা দুজন ডাক্তারের কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,,,,,
আমিঃ ডাক্তার কি হইছে উনার ? আর এখন কি অবস্থা ।
ডাক্তারঃ আপনারা উনার কে হোন ?
আঙ্কেলঃ আমি উনার স্বামী । আর এ আমাদের বাসাতেই থাকে ।
ডাক্তারঃ হুমম ঠিক সময়ে হাসপাতালে না আনলে উনাকে আর বাঁচানো যেত না ।
আমিঃ কি হইছে উনার ।
ডাক্তারঃ হার্ট ব্লকড হইছিলো ।
আঙ্কেলঃ এখন কি অবস্থা ?
ডাক্তারঃ এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে । তবে একটু খেয়াল রাখবেন এরকম যাতে না হয় ।
আঙ্কেলঃ আমরা কি ওকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবো ।
ডাক্তারঃ না দুই দিন থাকতে হবে । তারপর রিলিজ দেয়া হবে ।
আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে ।
তারপর ডাক্তার চলে গেলেন । আন্টিকে বেডে শিফট করা হলো । তারপর আঙ্কেল আমাকে বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ তোমার কাছে আমি অনেক ঋনি বাবা । কি বলে যে তোমাকে ধন্যবাদ দিবো ।
আমিঃ ছিঃ ছিঃ আঙ্কেল এগুলো কি বলছেন । আমি আপনাদের কাছে আরো অনেক গুন ঋনি । আপনি আমাকে আশ্রয় না দিলে কোথায় গিয়ে থাকতাম । উনি তো আমার মায়ের মতোই । এটা তো সন্তানের কর্তব্য মাকে রক্ষা করার তাই না ।
আঙ্কেল কোনো কথা না বলে সরাসরি আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমিও একটু মুচকি হাসলাম ।
কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গল্পঃ গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
262
Views
4
Likes
0
Comments
0.0
Rating