ভোরের আলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
* গল্পটি কাল্পনিক বাস্তব কোনো চরিত্রের সাথে অথবা অন্য কোনো গল্পের চরিত্রের সাথে মিলে গেলে তা এড়িয়ে যাবেন ধন্যবাদ *


- সিরাজ দেওয়ান এর ডাকা- ডাকিতে সাড়া বাড়ি উতালপাতাল হয়ে উঠলো। বাড়ির কাজের ছেলে এদিক ওদিক ছুটতে লাগলো, যেমন ভাবে পুলিশ দেখলে চোর পালাতে লাগে আশ্রয় খোঁজে লুকানোর জন্য, ঠিক তেমন ভাবে দেওয়ান বাড়ির প্রত্যেক সকাল কাটে সিরাজ দেওয়ান এর ডাকা- ডাকিতে।

-ঈশিতা নিভু নিভু চোখ খোলে বিড় বিড় করে বলতে লাগলো এই বুড়ো আর কত দিন বাজবে! প্রায় ৮০ বছর হয়ে গেছে এখনো মরার কোনো ইঙ্গিত পাচ্ছিনা! আল্লাহ জানে তার হায়াত আর কত বাড়বে?

-আবারও সিরাজ দেওয়ান আওয়াজ ভেসে আসলো। তিনি বলতে লাগলেন সকাল প্রায় আটটা বাজে এখনো কারো মুখ দেখছি না। সবাই কি মরে গেছে নাকি! আমার চশমা খোঁজে পাচ্ছি না তা কেউ খোঁজে দেও আমাকে? লতা এই লতা এই দিকে আয় তো মা আমার চশমাটা খোঁজে দে?

- সিফাত চোখ কচলাতে কচলাতে সিরাজ দেওয়ান এর ঘরে ঢুকলো আর বলতে লাগলো -দাদু এই সকাল সকাল তোমার ভাঙ্গা ক্যাসেটটা না চালালে হয় না? আমি খোঁজে দিচ্ছি তোমার চশমা?

-- দে তো দাদু দে চশমাটা খোঁজে। আমি তো লতা কেও ডেকেছি ওই মেয়ে মনে হয় পরে পরে ঘুমাচ্ছে! আমাকে চা দেওয়া লাগবে তার কোনো হুঁশটুকু মনে হয় নাই! আর ঈশিতার নাকি আজকে অলেজ আছে তাকে ডেকে উঠা গিয়ে?

-- সিফাত চশমাটা দাদুর হাতে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। ঈশিতার রুমের দিকে যেতে যেতে বলতে লাগলো - আরুনিমা ঈশিতা এই আরুনিমা ঈশিতা তোর নাকি আজকে প্রথম কলেজ তুই উঠবি না ঘুম থেকে?

- ঈশিতা মুখ ভেংচি দিয়ে বললো ভাইয়া তুমিও কি দাদুর মত ভাঙ্গা ক্যাসেট বাজানো শুরু করেছো সকাল সকাল?

- না, না, দাদু বললো তুই নাকি আজকে প্রথম কলেজে যাবি? তাই উঠাতে আসলাম।কই আমি তো জানি না তোর যে আজকে প্রথম কলেজ?

- জানবে কি করে তোমরা তো থাকো ব্যাস্ত! ভাইয়া আব্বু কি ঘুম থেকে উঠছে?
-
না আম্মু উঠেছে দেখলাম লতা কে ডাকছে ঘুম থেকে উঠতে।

- আচ্ছা যাও তুমি আমি প্রেশ হয়ে আসছি। তুমি আমার সাথে কলেজে যাবে কেমন?

- কেনো রে তুই কি ছোট বাচ্চা যে আমি তোকে দিয়ে আসবো?

- আগে তো দিয়ে আসতে এখন দিয়ে আসলে কি সমস্যা?

-আগে ছোট ছিলি তাই দিয়ে আসছি। এখন তুই ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছিস! এখন আর পারবো না দিয়ে আসতে।

- আরে ভাইয়া প্রতিদিন দিয়ে আসতে হবে না। আজকে দিয়ে আসো প্রথম দিন তো তাই ভয় করছে?

- আচ্ছা যাবো তোর সাথে। আমি আবার কারো কথা পেলতে পারি না তোর মতো ভিখারির তো মোটেও না যাহ!

- আমি ভিখারি নই আমি হচ্ছে দেওয়ান বাড়ির এক মাত্র মেয়ে আরুনিমা ঈশিতা দেওয়ান!

- আচ্ছা আচ্ছা!

* নিচ তলা থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে লিমার, তিনি বলছে ঈশিতা, সিফাত তাড়াতাড়ি আসো নাস্তা খাবে। তোমাদের আব্বু আর দাদু অপেক্ষা করছে নাস্তা নিয়ে টেবিলে তাড়াতাড়ি আসো?

- সিফাত আর ঈশিতা উচ্চ সুরে বললো আসছি আম্মু।

- সিফাত তাড়াতাড়ি সিড়ি দিয়ে নেমে আসলো ওয়াইস রুমে গিয়ে হাত মুখ দুয়ে টেবিলে বসলো। লিমা নাস্তা বেড়ে দিলো সিফাত কে।

- কিছুক্ষণ পর ঈশিতা আসলো টেবিলে বসা মাত্রই লক্ষ্য করল তার আব্বুর চোখ লাল হয়ে আছে কিছু নিয়ে ভয়ে আছে মনে হয়! ইশিতাকে নাস্তা দিলো লিমা।

- মোর্শেদ দেওয়ান গব গব করে নাস্তা শেষ করলো। হাত মুছতে মুছতে ঈশিতাকে উদ্দেশ্য করে বললো আজকে তো তোমার প্রথম ক্লাস সেটা জানো তো তুমি?

- ঈশিতা হ্যা সূচক মাথা নাড়লো। পরক্ষণে লক্ষ্য করল আব্বু মনে হয় কিছু নিয়ে চিন্তিত। মাঝে মাঝে ওনাকে কিছু নিয়ে চিন্তা করতে দেখা যায়! ঈশিতা ইতস্ত ভঙ্গি নিয়ে বললো আব্বু আপনি কি কিছু নিয়ে চিন্তিত?

- মোর্শেদ বললো না তো! খুব বড় হয়ে গেছো তাই না আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করছে যে?

- না, না কি বলো আব্বু আপানকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাই বললাম!

--মোর্শেদ আর কিছু বললো না। সে মেইন গেট দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে গেলো।

- ঈশিতা মোর্শেদ এর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকলো। কিছুখন পর বললো তাড়াতাড়ি কর ভাইয়া আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে?

** চলবে **
159 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: