নাল্লাপাড়ার ভূতের বাড়ি ( পর্ব ২ )

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
চারপাশটা একেবারে নীরব। বাতাসে একটা পুরনো, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। মুকুলের প্রশ্নের উত্তর কেউ দিল না। কারণ সবাই জানে, ওটা কিছু একটা ছিল—কিন্তু কী?

"দেখতে হবে," ফিসফিস করে বলল পলাশ।

— "তুই আস্তে বল! যদি কিছু থেকে থাকে?" তানিম পলাশের হাত টেনে ধরল।
— "ভয় পাস না! ভূত-টুত বলে কিছু নেই," পলাশ দৃঢ় স্বরে বলল, যদিও তার নিজের বুকের ধুকধুকানিটা বাড়ছে।

রাহাত এক হাতে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সামনের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ঘরের দরজা আধা খোলা, হালকা বাতাসে কাঁপছে।

অদ্ভুত ঘটনার শুরু

পলাশ ধীরে ধীরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে তাকাল। কিন্তু সেখানে কিছুই নেই। শুধুই পুরনো আসবাবপত্র আর মেঝেতে ছড়ানো কিছু ছেঁড়া কাগজ।

হঠাৎ করে...

একটা পুরনো দোলনা আপনাআপনি দুলতে শুরু করল!

— "এই তোদের দেখ, ওটা কি আপনাআপনি নড়ছে?" তানিম ফিসফিস করে বলল।

সবার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। বাতাসে একটা চাপা কান্নার আওয়াজও যেন শোনা যাচ্ছে!

রাহাত মোবাইলের আলোয় এক কোণে তাকিয়ে দেখল, একটা পুরনো আয়না রাখা। আয়নার গায়ে ধুলো জমে থাকলেও, সেখানে যেন একটা আবছা প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হলো—ঘরে কেউ দাঁড়িয়ে নেই, তাহলে আয়নায় প্রতিবিম্বটা কার?

মুকুল আতঙ্কে ফিসফিস করে বলল, "চল পালাই!"

কিন্তু ঠিক তখনই, পলাশ একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করল। মেঝেতে ছড়ানো কাগজের একটাতে লেখা:

"আমাকে ফিরিয়ে দাও..."

পলাশ সেটা হাতে নিয়ে উল্টে-পাল্টে দেখল, লেখাগুলো যেন কেউ কাঁদতে কাঁদতে লিখেছে।

ঠিক তখনই, ঘরের জানালার বাইরে একটা আবছা নীলচে আলো জ্বলে উঠল! আর একটা মেয়ের মৃদু হাসির শব্দ যেন ভেসে এলো বাতাসে...

চার বন্ধু আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। সবাই দরজার দিকে দৌড় দিল!

কিন্তু পলাশ একবার পেছনে তাকিয়ে দেখল—একটা আবছা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে, একজোড়া শূন্য, গভীর চোখ নিয়ে।

আর তখনই সেই রহস্যময় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো—

"ফিরিয়ে দাও..."

(চলবে...)


পরের পর্বে: মেয়েটি কে? কী ফিরে পেতে চাইছে? নাল্লাপাড়ার ভূতের বাড়ির সত্যিই কী রহস্য?

159 Views
4 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: