আমার বৃত্তে তুমি

আমার বৃত্তে তুমি
পর্ব-১

একটা ফুলে এ ভরা বিছানায় অচেতন অবস্থায় হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে আছে নীর। প্রায় ঘন্টাখানেক অবচেতন থাকার পর একটু একটু করে সজ্ঞানে বিচরণ করছে।নীর পিটপিট করে চোখ খোলার চেষ্টা করছে।ওর কেমন যেন নিঃশ্বাস টা ভারী ভারী লাগছে।মনে হচ্ছে কেউ ওর বুকের উপর তার সমস্ত দেহের ভাড় ছেড়ে দিয়ে ওর উপর শুয়ে আছে। কেউ যেনো ওর ঠোঁট জোড়া হালকা করে চুসতে আর কামড়াচ্ছে।ওর দুই হাতের আঙ্গুলদ্বয় কারো হাতের আঙ্গুলের মধ্যে আবদ্ধ।ও এতো টুকু নড়তে পারছে না।সে নীরের ঠোঁট জোড়া ছেড়ে দিয়ে ওর গলায় ঠোঁট ডুবালো।ওর এক হাত চলে গেল নীরের কামিজের ভিতর দিয়ে ওর মেদহীন পেটে।নীর কিছু টা কেঁপে উঠলো।ওর জ্ঞান একটু একটু করে ওর মস্তিষ্কে জানান দিলো নিজেকে বাঁচাতে হবে।

নীর নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়াস চালাচ্ছে কিন্তু প্রতিবারই বিফল হচ্ছে‌।সে আরো শক্ত পক্ত করে নীরের ভিতর নিজেকে ডুবিয়ে নিচ্ছে।নীর এখনো নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত। কিন্তু তার সাথে নীর পেরে উঠছে না।নীর তার উন্মুক্ত পিঠে ওর নখ দ্বারা খামছি বসিয়ে দিলো।

ও কিছু টা চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
" কে আপনি, ছাড়ুন আমাকে ছাড়ুন বলছি।

একটা কন্ঠ শান্ত স্বর হেসে উঠে বলল,
" আমার নীর পাখিটার জ্ঞান ফিরেছে!

তার কন্ঠ টা নীরের কানে যাওয়া মাত্রই ওর চোখ দুটো স্থির হয়ে গেল।ওর আর বোঝার বাকি নেই এটা কে।এ হলো সেই যাকে ও সব থেকে বেশি ঘৃনা করে।বড়লোক বাবার উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলে আকাশ চৌধুরী।যার না আছে কোনো গুন,আর না আছে কোনো parsonality। সারাদিন বাইকে ঘোরাঘুরি করা আর মেয়েদের টিজ করা ছাড়া ওর আর কেনো কাজ নেই।ঘৃণায় ওর চোখ মুখ জরিয়ে এলো।নীর একটা ধাক্কা মেরে ওকে সরি দিয়ে দ্রুত বিছানার এক পাশে থেকে অন্য পাশে সরে বসলো।

মনের মধ্যে এক রাশ ঘৃণা নিয়ে বলল,
" ছি আপনি এতো টা জঘন্য।

আকাশ নীরের কথা কোনো ভ্রূক্ষেপই করলো না। হো হো শব্দে হেসে উঠে নীরের হাতে হেঁচকা একটা টান মেরে বলল,
" আমি ধরলে সেটা জঘন্যতা আর ইমনের সাথে যখন গা ঢলাঢলি করো সেটা খুব সভ্যতা তাই না।

আকাশের কথা শুনে হঠাৎ ওর ইমনের কথা মনে পড়ে গেল। ও আর ইমন তো একসাথে ভার্সিটি থেকে বের হয়েছিল। তাহলে ইমন কোথায়।নীর ওই ঘরের চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল ইমন কোথাও নেই।ওর মনের মধ্যে একটা ভয় বাসা বাঁধলো। চিন্তিত এক অবয়ব ফুটে উঠলো ওর মুখশ্রীতে।

ও কিছুটা তীব্র কন্ঠে বলল,
" ইমন কই???

আকাশ একটা গাঁ ছাড়া ভাব নিলো।
" মরে নি এখনও,কিন্তুু আমার কথা না শুনলে ওর যে ঠিক কি হবে তা আমি নিজেও বলতে পারছি না।

নীর আকাশের হাত টা এক ঝটকায় ছুঁড়ে ফেলে দিলো। ক্রদ্ধ কন্ঠে বলল,
" আপনি কিন্তু মোটেই ভালো করছেন না। আমি কিন্তু পুলিশ এর কাছে যাবে

আকাশ ওর দাঁত কপাটি বের করে প্রশস্ত একটা হাসি দিয়ে বলল,
" আমার নীর পাখিটার এত্তো কষ্ট করতে হবে না। পুলিশ আমার এখানেই আছে। আচ্ছা ইমন কে মারার পর এক্সিডেন্ট কেস বানিয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিলে কেমন হয়।

আকাশের কথা শুনে নীরের গলা শুকিয়ে এলো। ও মলিন কন্ঠে বলল,
" প্লিজ ওর কোনো ক্ষতি করবেন না, ওকে ছেড়ে দিন

" কিছু পেতে গেলে যে কিছু দিতে হয় বেবী।

নীর ওর চোখ জোড়া কিঞ্চিৎ ছোট ছোট করে বলল,
" কি চান আপনি???

আকাশ নীলের সামনে একটা পেপার রাখলো।ওর হাতে একটা কলম দিয়ে বলল,
" বেশী কিছু না এই পেপার টাতে জাস্ট একটা সই।

নীর কৌতুহলী দৃষ্টিতে একবার তাকালো পেপার টা দিকে।ওর মনের কৌতুহল প্রশ্ন হয়ে আহরিত হলো ওর কন্ঠে,
" কিসের পেপার এটা।

আকাশ খুব সাবলীল ভঙ্গিতে বলল,
" আমাদের বিয়ের কাবিন নামার

কথা শুনে নীরের চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেলো।ও চেঁচিয়ে উঠলো,
" কি বলছেন আপনি এই সব।

আকাশ ওর ঠোঁট জোড়া কিঞ্চিৎ বাঁকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলল,
" হুম,নীর পাখি আমি তোমায় শুধু এখন পেপার ফরমালিটি তে বিয়ে করবো যা তে তোমার ওপর আমার অধিকার থাকে। ছোট্ট একটা সই দিয়ে তুমি বাসায় চলে যাবে।

নীর রেগে মেগে চোখ মুখ খিচে বলল,
" অসম্ভব আমি কখনো এই কাবিন নামায় সই করবো না। আজ যে কাজ টা আপনি করলেন তারপর আপনার মুখটা দেখতেও আমি রাজি না। আপনাকে বিয়ে করার কোন প্রশ্নই আসে না।দরকার হলে আমি মরে যাবো তাও আপনার মতো একটা লোক কে আমি বিয়ে করবো না।কারন l just hate you, just hate you,hate you.

নীরের এই কথাটা আকাশের বুকে তীরের মত বাঁধলো। ও আর নিজেকে সংযত করে রাখতে পারল না। নীরের কাছে তেড়ে গিয়ে ওর চুলের মুঠি চেপে ধরল। কর্কশ কন্ঠে বলল,
" চুপ একদম চুপ দ্বিতীয়বার এই কথা আর উচ্চারণ করবি না। তোর এই ঘৃণা টাকেই আমি ভালোবেসি। আর তোকেও আমাকে ভালবাসতেই হবে। আর তোকে তো আমি মরতে দেব না। তুই বাঁচবি আমার জন্য, আর আমি বাসবো তোর জন্য

নীর ওর চুলে প্রচন্ড রকমের ব্যাথা পাচ্ছে।ব্যথায় ওর মুখ দিয়ে যেন কোন কথা বের হচ্ছে না।নীর ডুকরে কেঁদে উঠলো। ওর কান্না ভেজা নয়ন আকাশের মনকে খুব ব্যথিত করলো। আকাশ সঙ্গে সঙ্গে নীরের চুল ছেড়ে দিয়ে ওকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরল,
" তুমি কেন বোঝো না জান তোমাকে যে আমি অনেক ভালবাসি। কেন আমার ভালবাসা টাকে বুঝতে চাও না বলো। নীর পাখি এই আকাশ তার নীর কে পাওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে পারে। তার জন্য যদি আমার কাউকে খুন করতে হয় তাও আমি করবো।তুমি শুধু আমার নীর, আমার আমার আমার।তুমি শুধু মাত্র আমায় ভালোবাসবে।Only just me. আর আমার কথা না শুনলে যে কি করতে পারি তা তুমি ভালো ভাবেই জানো

নীর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। ও কান্নারত কন্ঠে আস্তে করে বলল,
" আপনি ইমনের কিছু করবেন না প্লিজ। ওকে ছেড়ে দিন।

নীরের মুখে পুনরায় ইমনের কথা শুনে প্রচন্ড প্রতিহিংসায় ভিতরটা জ্বলে উঠলো আকাশের। আকাশ নীর কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে গাল দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
" খুব দরদ না তোর ওই ইমনের জন্য। তোকে আমি আজকেই বিয়ে করব আর এই ঘরেই তোর সাথে আমি বাসর করবো।

নীরের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।নীর মনের ভেতর একরাশ আক্রোশ নিয়ে বলল,
" আমি বুঝতে পেরেছি আপনি এইসব করছেন আমার শরীরটা পাওয়ার জন্য তাই না। তাহলে দেরি করছেন কেনো নিন আপনার মনের ইচ্ছা পূর্ন করে নিন, মিটিয়ে নিন আপনার কাম লালসা।

কথা টা বলেই নীর ওর গাঁয়ের ওরনা টা খুলে ফেলে দিতে নেবে ঠিক তখনই আকাশ নীরের গালে সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। থাপ্পরের তান্ডবে নীরের কানে যেনো যেন ঝিঁঝিঁ ধরে গেলো।ওর ঠোঁট টা খানিকটা টা কেটে গেছে। তবুও আকাশ থামলো না। ওকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে এক হাত দিয়ে গাল টা হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
" আর একটাও কথা বললে এখানেই মেরে পুতে ফেলবে তোকে।আমার তোকে দরকার তোর শরীর নয়।

নীর আকাশের চোখের দিকে তাকিয়ে রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলো।ওর মনে হচ্ছে যেন আকাশের মধ্যে মনে হচ্ছে কোনে হিংস্র দানব ঢুকে গেছে। ও নীরের গাল টা এমন করে ধরছে যে নীরের ঠোঁটের কাঁটা অংশ দিয়ে রক্ত গরিয়ে পরা শুরু করলো।

নীরের ঠোঁটের কোণে রক্ত দেখে তারাতারি করে নীরকে ছেরে দিয়ে ওকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলো। নীর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

আকাশ আওয়াজ ছেড়ে ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট কে ডাকলো
" মাইনক্যা এই মাইনক্যা কই গেলি জলদি আয়

মানিক আকাশের হাঁক ডাক দেখা শুনে দৌড়ে এলো। কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলল,
" স্যার আপনাকে কতবার বলবো আমার নাম মাইনক্যা না মানিক।

আকাশ মানিক কে একটা ধমক দিয়ে বলল,
" তোকে তো নামের সার্টিফিকেট দেবার জন্য ডাকি নি, তাড়াতাড়ি ঔষুধের বাক্স টা নিয়ে আয়

আকাশ ওষুধের বক্স টা নিয়ে নীর কে ধরে বিছানার এক কোনায় বসালো। ফার্স্ট এইড বক্স থেকে স্যাভলন আর তুলা বের করল। কিছুটা স্যাভলন তুলার উপর ঢেলে নিলো।সেই স্যাভলন মিশ্রিত তুলা দিয়ে নীরের ঠোঁটের কাটা অংশের রক্ত টা খুব সতর্পনে মুছে দিচ্ছে আকাশ। নীরের ঠোঁটে স্যাভলন লাগাতে গিয়ে আকাশের হাতটা কেমন যেন কাঁপছে।কেমন যেন একটা অপরাধবোধ কাজ করছিল ওর মধ্যে। নীর আকাশের এমন কাজ কর্ম দেখে অবাক হয়ে গেলো। মাত্রই যে এমন রুঢ় ব্যবহার করলো আর সেই কিনা এখন এই সব করছে।

আকাশ নীরের ঠোঁটে স্যাভলন লাগিয়ে দিচ্ছে আর বারবার ফুঁ দিচ্ছে যেন নীরের ঠোঁটে জ্বালা না করে,ওর যেনো একটুও কষ্ট না হয়। নীর শুধু আশ্চর্য হয়ে সবটা দেখে যাচ্ছে। আকাশ নীরের ঠোঁটে স্যাভলন লাগানো শেষে খুব সুন্দর করে যত্ন সহকারে মলম লাগিয়ে দিল। কন্ঠে নমনীয়তা এনে বলল,
" জান তুমি এখন এখানে বিশ্রাম করো

নীর ভাঙ্গা কন্ঠে বলে উঠলো,
" আমি বাসায় যাবো

আকাশ কপালে ভাঁজ ফেলে তাকালো নীলের দিকে,
" আমার কথা যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি মেনে নিচ্ছ তুমি এখান থেকে এক পাও কোথাও যেতে পারবে না। আমি তোমাকে এক ঘন্টা সময় দিলাম এর মধ্যে যদি তুমি আমার কথা মেনে নাও, তাহলে বিয়ে ছাড়াই.....

কথাটা বলেই আকাশ হো হো শব্দে হেসে উঠলো। আকাশ নীর কে রুমের মধ্যে রেখে বাহিরে থেকে তালা মেরে চলে গেল। রাগে আরা আক্রোশে নীরের ভেতরটা যেন ফেটে যাচ্ছে। ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল নবীন বরনের কালো অধ্যায়ের সেই দিনটা।

#চলবে......

16 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই