পরীর স্বপ্ন

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

চোখে পানি পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো।
তাকিয়ে দেখলো পরীর হাতে পানির গ্লাস।

রাজু বলল -

পরী এটা কি করলি?
আমি তো ভিজে গেলাম?
পরী:-যা করছি বেশ করেছি। এতো বেলা পর্যন্ত কেউ ঘুমায়?
রাজু:- মাথা গরম করিশ না, যা।
পরী:- তোমার মাথা গরম হলে, আমার কচু হবে।

বলে দৌড়ে চলে গেল।

রাজু ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করে আসলো।

পরী সবার বিছানা গুছিয়ে, সবাই কে নাস্তা দিল

পরিবারের সব কাজ পরী করে।

সারা দিন অনেক কাজ করে, পরী ছাদের উপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে আছে।

হঠাৎ রাজু আসলো

রাজু:- কিরে এখানে বসে আছো কেন?
তোর কি শরীর খারাপ নাকি?
পরী:-না, ভাইয়া দেখো আকাশের কতো সুন্দর একটা চাঁদ!
রাজু:- হুম।
পরী! একটা গান শোনাবি?
পরী:- ভাইয়া! আজকে ইচ্ছে করছে না।
কালকে বলি?
রাজু:-কেন মন খারাপ নাকি?
পরী:-না, এমনি।

রাজু:-তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো।
আমার বিছানায় ঠিক করে দেয় তো।
পরী:- ঠিক আছে তুমি যাও। আমি আসতেছি।

পরী সবার বিছানা ঠিক করে শুইতে যাইবে।
তখনি মামীর ডাক পরী?
ও পরী?

পরী:- (কিছু টা রেগে)

মামী আসতেছি।

ওর মামী পায়ে ব্যাথার ভান ধরে ওর কাছে রোজ শরীর টিপায়।

পরী রাজুর রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনলো কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে।

রাজু: - তুমি সত্যি অনেক সুন্দরী!
তোমাকে দেখলে নজর ফেরাতে পারি না।
ওপাশ থেকে: - ওহ্ রিয়েলী?

পরী অনেক রেগে বলল-

তুমি কার সাথে কথা বলো?
রাজু:- তুই এখানে কি করো?
পরী:- আমার কথার উত্তর দাও!
রাজু:-তোর সমস্যা কি?

পরী ফোনটা জোর করে নিয়ে কল কেটে দিল।

রাজু:- অনেক রেগে আছে ইচ্ছে করছে পরী কে মারতে কিন্তু উচিত হবে না. তাই চুপ হয়ে আছে।

পরী:- আমি বেঁচে থাকতে তুমি কারো সাথে কথা বলতে পারবা না?
রাজু:- আমি কথা বলবো?
তুই যা পারো করিস।

পরী অনেক রেগে চলে গেল।

রাজু অনেক রেগে আছে। আর ভাবছে ওরে আদর করে মাথা উঠিয়ে রাখছি।তাই এখন গাড়ে আঘাত করে।

ভোরে পরী স্বাভাবিক ভাবেই সব কিছু করছে।

আজকে বিকালে পরী আর পাশের বাড়ির এনি রাস্তায় ঘুরতে বের হয়েছে।
হঠাৎ করে দেখলো রাজু একটা মেয়ের সাথে হাত ধরে, হাসি মুখে কথা বলছে।

পরী অনেক রেগে গিয়ে বলল-

ভাইয়া মেয়েটি কে?
রাজু:- তুই যা।
পরী:- অনেক রেগে বলল আগে বলো কে মেয়েটি?
এর সাথে বুঝি ফোনে কথা বল?
রাজু :- আমি যার সাথে ইচ্ছে কথা বলবো তোর সমস্যা কি?

পরী মেয়েটি কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল -
রাজুর হাত ধরার সাহস কে দিল?

রাজু:- রেগে পরীর গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল -

ও আমার গার্লফ্রেন্ড। আর আমি যাকে ইচ্ছে হাত ধরবো।
তোর সমস্যা হলে চলে যেতে পারো।

পরী: - আমি তোমাকে সেই ছোট্ট বেলা থেকে ভালোবাসি।
রাজু :- আমি তোমাকে ভালোবাসি না, ঘৃণা করি।

পরী কাঁদতে কাঁদতে চলে আসলো।

রাজু ভাবছে পরীর জন্য সব শেষ হয়ে গেছে, মেয়েটি যদি রাজুকে ফিরিয়ে দে তখন কি হবে,সব নষ্ট করে দিল।

রাতে পরী ছাঁদের উপর বসে একা একা কাঁদছে।

রাজু পরীকে অনেক খুঁজে ছাদে আসলো।

রাজু বলল - দেখ তুই আমার বোন, এর বেশি কিছু না।
বেশি যদি ভেবে থাকো তাহলে ভুল করবি।
পরী:- ভাইয়া! সেই ছোট্ট বেলায় যখন তোর ব‌উ সাজতাম তখন থেকেই তোমাকে ভালোবাসি।
রাজু:- ছোট বেলার কথা বাদ দে। জীবনে কখনো তোর সাথে কিছু হবে না।
পরী:- রাজুর পা জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িত কন্ঠে বলল -
ভাইয়া আমাকে ফিরিয়ে দিও না।
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।
তুমি আমার রক্তে মিশে গেছো।
রাজু: - তোর মতো একটা অশিক্ষিত ভিক্ষারীর সাথে আমাকে মানায় না।

পরী কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল.. রুমে ঢুকতেই ওর মা বললো-

কি হয়েছে পরী? পরী শুধু কান্না করছে।
মা- কি হয়েছে আমাকে বলো?
পরী:- আমি রাজুকে ছাড়া বাঁচবো না?

পরীর কথা শুনে মনে হলো বুকের ভিতরে একটা তীর তীব্রভাবে আঘাত করলো।
মা:- শান্ত ভাবে বলল-
তোর বাবা মারা যাওয়ার পর তোর মামা আমাদের আশ্রয় দিয়েছে।
না হলে কোথায় মাথা গোঁজার জায়গায় হত না।
আমি খেয়ে না খেয়ে সারা জীবন অনেক কষ্ট সহ্য করছি তোর মুখের দিকে তাকিয়ে। এখন যদি আমাদের এই বাড়ি থেকে চলে যেতে হয় তখন কোথায় যাবো বল?

পরী: - মাকে জড়িয়ে ধরে বলল-

মা আমাকে মাফ করে দিও!
মা:- মা রে তুই রাজুকে ভুলে যা
পরী: - সম্ভব না। অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি।
মা:- চেষ্টা করলেই সব সম্ভব।

ভোরে আর পরী ঘুম থেকে ডাকলো না।
তাই অনেক দেরি হয়ে গেছে রাজু কলেজে যেতে পারলো না।

পরীর মামী দেখলো পরী এখনো আসলো না।
অথচ প্রতিদিন খুব ভোরে উঠেই কাজ করে।
তাই পরীকে ডাকতে গেল..

পরী বিছানায় শুয়ে শুয়ে কান্না করছে। মামীর ডাক শুনেও এভাবেই শুয়ে আছে।

ওর মামী দেখলো পরীর চোখ ফুলে গেছে। চোখের জলে বালিশ ভিজে গেছে। বলল-

কি হয়েছে মা এতো কান্না করছো কেন?
পরী:- মাথায় খুব বেথ্যা করছে। বলে কিছুটা চুপ থাকতে চেষ্টা করলো।

ওর মামী:- আহারে এতো কাজ আছে কে করবে এখন?
পরীর মা: - ভাবী আমি এসে সব করে দিব। আপনি চিন্তা করবেন না।
মামী: -ঠিক আছে তারাতাড়ি আয়?

পরী রাজুর সাথে কথা বলে না, কাছেও আসে না
রাজুকে কেউ ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয় না। বিছানা গুছিয়ে রাখে না। জামআ-কাপড় ধুয়ে দেয় না।।গোসল করতে গেলে লুঙ্গি এগিয়ে দেয় না। রাতে আর ছাদে গান শোনায় না।

পরীর সাহায্য ছাড়া রাজুর জীবন অচল হয়ে গেছে।তাই প্রতিটা মুহূর্তে পরীর কথা মনে পড়ে।

পরীর মা দেখলো,পরী ঠিক মতো খায় না, গোসল করে না, ঘুমায় না। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। কোন খেয়াল করছে না।

তার যে মেয়ে এই বাড়িটা গুছিয়ে সুন্দর করে রাখতো, আজকে তার নিজেকে গুছিয়ে রাখতে পারছে না।

কাছে গিয়ে বলল- মা পরী! পাগলামী করিস না।
পরী:- মা কোন পাগলামী করবো না। দেখ তুমি আমি রাজুকে ভুলে যাবো।

হঠাৎ করে পরী বেহুঁশ হয়ে গেলো। পরীর মা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
রাজু কলেজে গেছে,তাই ভাইকে ফোন দিলো।
পরীর মামা,মা দুজনেই খুব তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে গেল।

ডাক্তার: - মেয়ে আপনার কি হয়?
মামা:-স্যার!আমার ভাগ্নী।
জ্ঞান ফিরছে!
ডাক্তার:- হ্যা, আর সাথে মহিলা কি হন?
মামা:-স্যার! ওর মা

আপনি এই ঔষুধ গুলো নিয়ে আমার রুমে আসুন বলে
2
প্রিসক্রিপশন ধরিয়ে দিল।

স্যার এই নিন ঔষুধ , বলে ঔষুধ দিল।
ডাঃ - বসেন, দেখুন আপনার ভাগ্নীর বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।
মামা:- কি বলবেন ডাঃ?
ডাঃ- ওর অপারেশন দরকার। কিন্তু অপারেশন করাও অনেক রিস্ক হবে।
মামা: -অপারেশন করলে ভালো হবে?
ডাঃ- দেখুন এটা ব্রেন অপারেশন। ভালো হবার সম্ভাবনা 2% এর মতো। আর অপারেশন করতে লাখ পনেরো টাকা লাগবে।

সবাই চলে আসলো, পরীর মা পরী কে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।পরী চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

রাজু বাসায় ঢুকতেই দেখলো অনেক মানুষ সবাই ভিড় করে বসে আছে । ছোট ফুফি কান্না করছে।

পরীর কিছু হয়নি তো ভাবতেই কে যেন হৃদয়টা শক্ত করে চেপে ধরলো.কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।
কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

আস্তে আস্তে ভিড়ের ভিতরে গিয়ে দেখলো পরী পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
রাজু বলল-

পরী কি হয়েছে তোর?
পরী - কিছু না বলে চলে গেল।

রাজু তার মায়ের কাছে সব কিছু শুনতে পেল-

পাও চলছে না, অনেক কষ্টে রাজু রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল।
পরীর জন্য পৃথিবীর সমস্ত মায়া ওর বুকে এসে কষ্ট হয়ে আঘাত করতে লাগলো।
পরীর কন্ঠ, পরীর হাসি, পরীর আদর ভালোবাসা,পরীর শাসন সব কিছুই ভাবছে রাজুর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে।

দৌড়ে ফুফীর রুমে গিয়ে দেখলো পরী শুয়ে আছে। কোন কথা না বলে চলে আসলো।

আজকে আর রাজুর খেতে ইচ্ছে করছে না। অনেক কষ্টে কিছুটা খেয়ে নিল।

কিছুই ভালো লাগছে না, কিসের যেন অজানা একটা কষ্টে হৃদয়টা পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
মনে হলো সুখের পৃথিবীটা কে যেন তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। চিৎকার দিয়ে কান্না করতে ইচ্ছে করছে।

রাজু রাতে ফুফির রুমে গিয়ে বসলো।
ফুফি:- রাজু বাবা আমার পরীকে ছাড়া কি করে বাঁচবো বল।
রাজু:- ফুফি কেঁদে না পরীর কিছু হবে না।
পরী:-ভাইয়া তুমি মাকে একটু বুঝিয়ে বলো?
মা তুমি চিন্তা করো না। আমি ভালো হয়ে যাবো।
রাজু:- হ্যা ফুফী কোন চিন্তা করো না,সব ঠিক হয়ে যাবে।

রাজু:- পরী ছাঁদে যাবি না?
পরী - মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, একটু যাই মা!
মা:-ঠিক আছে তারাতাড়ি আসবি কিন্তু। আর রাজু ওর দিকে খেয়াল রাখিস বাবা।
রাজু:-ফুফি তুমি কোন চিন্তা করো না।

ছাদে গিয়ে রাজু পরী কে হঠাৎ করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো। আর বলল-

ওই পরী আমি বেঁচে থাকতে তোর কিছু হতে দিব না। আমার বুক থেকে পৃথিবীর কেউ তোকে আলাদা করতে পারবে না।
পরী:- উফ্ঃ ভাইয়া! এতো জোরে কেউ ধরে আমি বেথ্যা পাচ্ছি তো।
রাজু:- বল আমাকে ছেড়ে তুই কখনো কোথাও যাবি না? বল? সারা জীবন আমার সাথে থাকবি?
পরী:-ঠিক আছে কোথাও যাবো না। এখন ছাড়ো মা দেখছে তো।

রাজু পরী কে ছেড়ে দিয়ে খালি ফ্লোরে বসে পড়লো।

পরী:- দেখ ভাইয়া! আজকেও চাঁদ উঠেছে। অনেক সুন্দর তাই না?

রাজু চোখ মুছে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে বলল-

হুম অনেক সুন্দর!
পরী:- তুমি কি জানো আজকের চাঁদ হলো আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের চাঁদ।
রাজু:- কিন্তু আমার জন্য কষ্টের চাঁদ
পরী:- ভাইয়া ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো তোর বউ হবো।
কিন্তু ভাগ্যে লেখা ছিল না।
রাজু:- তোর কিছু হবে না। আমি তোর সব স্বপ্ন পূরণ করবো।

পরীর মামী চিন্তা করলো এই বয়সে মেয়েটার কি হলো। যাই একটু পাশে বসে শান্তনা দিই।বলে রুমে আসলো। রাবেয়া
পরী কৈ?
পরীর মা:- ভাবী ওরা ছাঁদে আছে।
পরীর মামী:- রাবেয়া পরীর কিছু হবে তুই চিন্তা করিস না বোন।
পরীর মা:- দোয়া করিয়েন?
পরীর মামী:- কাছে গিয়ে বললো পরী কে-আমার মেয়ের থেকেও বেশি ভালবাসি।যাই দেখি পরী কি করে

পরী:- ভাইয়া গান শুনবা ?
রাজু: -হুম, বলো।
পরীর মামী:- পরী আমাকে শুনাবি না?
পরী:- মামী! তুমি আসো? শুরু করলো-

যাও পাখি বলো তারে..
সে যেন ভুলে না মোরে ..
মেঘের উপর আকাশ যেমন নদীর উপর পাখির বাসা মনে বন্ধু বড় আশা..,
** ** **
পরীর মা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু চিন্তা করছে কোথায় পাবে এতো টাকা?
কার কাছে যাবে? কে দিবে টাকা?
আজকে স্বামী থাকলে হয়তো এতটা কষ্ট হতো না। যদি মেয়েটিও বাবার মতো হারিয়ে যায়।
ভাবতেই হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।

পর দিন রাজু কিছু চুড়ি নেইলপলিশ,কালো টিপ,আলতা আর নুপূর কিনে নিজের রুমে একটা ব্যাগ ভর্তি করে রেখে দিল।

ভোরে ঘুম ভাঙল রাজুর মায়ের চিৎকারে ।
চোখ খুলে দেখলো ব্যাগের সব কিছু সামনে নিয়ে বসে আছে ওর মা।

রাজু: -কি হয়েছে মা?
মা:- ওই হারামি? একটা টাকা কামাই করতে পারো না আর বাবার টাকায় এগুলো করো। তোর বাবা আসুক বাড়িতে।
রাজু:- মা ভুল হয়ে গেছে। বিশ্বাস করো আর হবে না।
মা:- কার জন্য কিনছো এগুলো?
রাজু:- আমার কলেজে একটা মেয়ে।
মা:-এখন এগুলো ফিরে দিবি।
রাজু:- দোকান দার বলছে ফেরত হবে না।
মা:- ঠিক আছে, আমার টাকা দিয়ে অন্য কে সাজানো দেখাচ্ছি বলে সব গুছিয়ে নিল।
রাজু:-কি করছো মা?

সব কিছু নিয়ে পরীর হাতে দিয়ে বলল-
ওর কতো বড় সাহস টাকা নিয়ে মেয়েদের পিছনে খরচ করে।
পরী:-কে মামী?
মামী:-আমার ঘরের বলদটা।
পরী:-কার জন্য আনছে?
মামী:- জানি না তবে এখন এগুলো তোর।
পরীর মা:- ভাবী এই বয়সে ছেলে মেয়েরা একটু এরকম করে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মামী:- ওর বয়স লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ঠিক করবো আমি। বলে চলে গেল..

রাজু:- ফুফী এগুলো সব রেখে দাও. আর পাঁচ দিন পর আমার কলেজে একটা অনুষ্ঠান আছে। আমি আর পরী যাবো নিষেধ করতে পারবা না কিন্তু?
পরীর মা:- ওর শরীরের খবর তো জানো।
রাজু: বাজে চিন্তা বাঁধ দেও কিছু হবে না।
পরী:-আমার কিছু লাগবে না
রাজু:-চুপ থাক বলে চলল..
৩** ** **
আজকে কলেজে বিদায় অনুষ্ঠান রাজু আর পরী দুজনে সুন্দর করে সেজে গুজে আসছে।

রাজু তাকিয়ে দেখলো পরী-কে পরীর মত সুন্দর লাগছে। খোলা চুলগুলো বাতাসে ভেসে যায়.চাদের মতো মুখ ,হরিণী চোখ, গোলাপের পাপড়ি দিয়ে তৈরি দুটো ঠোঁট,কপালে কালো টিপ।

অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে..

পরী: -কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
রাজু:- দেখছি ?
পরী:- সবাই আমাদের দেখছে তো?
বাসায় গিয়ে দেখো এখন না।
রাজু:- দেখুক?
পরী:- আমার মাথা গরম করলে কিন্তু চলে যাবো।
রাজু:- ঠিক আছে, ময়না পাখি!

দুপুরে লাঞ্চ শেষ করে রাজু বলল-
চলো তোমাকে একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো
পরী:- কোথায়?
রাজু:- গেলেই দেখতে পারবে।

রাস্তার দুই পাশে অনেক গাছ দুজনে হাতে হাত রেখে হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলো একটা নদীর পাড়ে।

পরী:- বলল- ভাইয়া তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আজকে কতটা হেপী তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না।
রাজু:- কেন?
পরী:- আমার না নদীর দেখার খুব ইচ্ছা ছিল।

দুজনে নদীর তীরে বাতাসে বসে আছে
হঠাৎ পরী বলল-
ভাইয়া আজকে আমার জীবনটা সার্থক হয়ে গেছে। এখন আমি হাসি মুখে মরতে পারি।

কথাটা শুনে রাজুর অন্তর কেঁপে উঠলো।
বলল-পরী তোমার কিছু হবে না। তুমি ভালো হয়ে যাবে।
পরী:- ভাইয়া আমার একটা অনুরোধ রাখবা
রাজু:-কি
পরী:- তোমার কোলে একটু মাথা রেখে শুইতে ইচ্ছে করছে।

রাজুর কোলে পরী মাথা দিয়ে শুয়ে আছে।
রাজু হাত দিয়ে চুলে চিরুনি করছে।

রাজু:-পরী আমি তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি
I love you!
রাজু তাকিয়ে দেখলো পরীর চোখ দুটো দিয়ে অশ্রু ঝরছে মুখে কোন কথা নেই।
পরী!? পরী!? ওই পরী! কথা বল?

পরী:-রাজু আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

রাজু:-
পাগলের মত হয়ে গেছে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না । বলল- ওই তোর কিছু হবে না।
আমি বেঁচে থাকতে তোর কিছু হতে পারে না।

পরী:-কথা দাও তুমি কখনো নেশা করবে না?
রাজু:- কথা দিলাম কখনো নেশা করবো না।

চলো এখনি হাসপাতালে যেতে হবে?

পরী:- কোথায় যেতে হবে না।
তোমার কোলে মাথা রেখে মরতে পারলে "সে মরণ হবে সুখের মরণ"

রাজু:-
চিৎকার দিয়ে উঠলো কষ্টে হৃদয়টা ছিঁড়ে যেতে চাইছে ।
বলল-

ওই পরী! তুই আমার কলিজা! কলিজা ছাড়া কি মানুষ বাঁচে বল?
তুই আমার হৃৎস্পন্দন, তুই আমার দেহের প্রতিটা শিড়া-উপশিড়ায় প্রবাহিত হ‌ও।
তুই ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না। বলে..
পরী কে কোলে তুলে দৌড় দিল..
হসপিটাল কোথায় কেউ আমাকে হেল্প করো বলে দৌড়াচ্ছে।

কিছু দূর যেতেই পরী রক্ত বমি করে দিল শরীরের সব শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেছে।

রাজু রাস্তা উপর বসে পড়ল। চিৎকার দিয়ে পরী ওই পরী কথা বলো প্লিজ!!..
না না তুই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারো না।
তুই আমার অক্সিজেন! তুই ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না।

রাস্তার সব মানুষ ভির করে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ বলে না যে পরীর কিছু হবে না।

রাজু দুই হাত দিয়ে পরীর গাল দুটো ধরে বলল-

তোর স্বাপ্ন ছিল না আমার ব‌উ হবি তাহলে আমাকে এভাবে রেখে কেন পালাতে চাও।
কাজী কাজী বলে চিৎকার দিল,তার পর বলল-

এই মাটি ঐ আকাশ ,এই মানুষগুলো কে সাক্ষী রেখে আমি তোকে ব‌উ হিসাবে কবুল করলাম, বল কবুল...,

পরী-শেষ বারের মত রক্ত বমি দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো। রাজু একটা চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ল।
864 Views
26 Likes
3 Comments
4.1 Rating
Rate this: