আংটি রহস্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

সেদিন সারারাত আর সৈকতের ঘুম হলো না‌।সকাল হতে না হতেই ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলো সৈকত। সে এবারে আনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছে। তবে এই তিন বছরেও ভার্সিটিতে সৈকতের তেমন কোনো বন্ধু বান্ধব নেই বললেই চলে,ঐ হাতেগোনা কয়েকটা বন্ধু আর বিশেষ একজন মানুষ-নীলিমা ছাড়া। অবশ্য এমনিতেও সৈকত খুব চুপচাপ আর ইন্ট্রোভার্ট টাইপের ছেলে। অসামাজিক নয়,তবে খুব সহজে মানুষের সাথে সখ্যতা তৈরি করতে পারে না। এমনকি তার প্রেমিকা নীলিমার সাথেও তার প্রথম পরিচয়টা ছিল বেশ আশ্চর্যজনক।

আশ্চর্যজনক পরিচয় বলার পিছনে অবশ্য কারণ আছে। এমনিতেও সৈকত তার ছেলে বন্ধুদের সাথেও খুব একটা বেশি কথাবার্তা বলে না, সেখানে মেয়েদের সাথে তো কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু ঐ যে কথায় আছে কখন, কোথায় , কার সাথে কিভাবে যে প্রেম হয়ে যায় তা কেবল সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউই জানে না। সৈকতের জীবনেও ঠিক এভাবেই অপ্রত্যাশিতভাবে নীলামার আগমন ঘটে।

সেদিন ছিলো ভার্সিটির প্রথম দিন। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভিড়ে সৈকত যখন নিজের ক্লাসরুম খুঁজতে ব্যস্ত ছিলো তখনই প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ঘটে তার নীলিমার সাথে। আর এই প্রথম দেখা থেকেই নীলিমার প্রতি সৈকতের এক অদ্ভুত ভালো লাগার সৃষ্টি। নীলিমার রূপের মোহে এক মুহুর্তের জন্য যেন সৈকত বিভোর হয়ে গিয়েছিলো। এই প্রথম কোনো মেয়েকে এতোটা নিখুঁতভাবে পরোখ করছে সৈকত। কেন করছে- তা হয়তো তার নিজেরও অজানা।

হঠাৎ করেই নীলিমার কণ্ঠে সৈকতের ঘোর কাটলো। দেখলো তার সামনেই দাঁড়িয়ে নীলিমা তাকে জিজ্ঞেস করছে-" আচ্ছা, আপনি কি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাসরুম কোথায় বলতে পারবেন? রুম নম্বর ৩৩১৫।"
এমনটা শুনে সৈকত কিছুক্ষণ হতভম্বের মতো তাকিয়ে থেকে হঠাৎই বলে উঠলো -" রুম নম্বর ৩৩১৫, এটা তো আমিও খুঁজছি। বেশ ভালোই হলো , চলুন একসাথে তাহলে খোঁজা যাক।"
নীলিমা বেশ আগ্রহের স্বরে বলে উঠলো-" তার মানে আপনিও ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। বেশ ভালোই হলো।"
সৈকত একটু ইতস্তত হয়ে হেসে বললো-" হ্যাঁ, পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো।" এমনিতেই বেচারা বেশ অপ্রস্তুত। কারণ এই  প্রথম সে কোনো মেয়ের সাথে এতোটা সামনে থেকে কথা বলছে।

তো এভাবেই কথা বলতে বলতে তারা তাদের ক্লাসরুম খুঁজে পেলো। যদিও এভাবেই ভার্সিটির প্রথম দিনে সৈকত আর নীলিমার প্রথম দেখা হয়, কিন্তু এই পরিচিতি আর বন্ধুত্ব ; প্রেমের সর্ম্পকে পরিণত হতে আরো বেশ কিছুটা সময় লাগে।

তখন ছিলো ভার্সিটির নবীন বরণ অনুষ্ঠান। সিনিয়র- জুনিয়র সকলেরই পারফরম্যান্স করার কথা সেই অনুষ্ঠানে। ততদিনে ক্লাসের সবাই জানতে পারে নীলিমার গানের ব্যাপারে। অসম্ভব সুন্দর গান গায় মেয়েটি। আর গোপনে হলেও এটা সত্য যে,নীলিমার গানের সবচেয়ে বড় ভক্ত ছিলো সৈকত। যদিও কখনো মুখ ফুটে সেটা বলার সাহস হয়নি।তবে নীলিমা এই ব্যাপারে বেশ ভালোই জানতো।

মেয়েরা অবশ্য এই ব্যাপারে ছেলেদের থেকে বেশ এগিয়ে। তাদের এক আধ্যাত্মিক শক্তি আছে এটা বোঝার যে কে তাদের ভালোবাসে বা পছন্দ করে তা তারা মুখ দেখেই বুঝতে পারে।

এদিকে নীলিমার গানের সাথে গিটার বাজানোর জন্য যে গিটারিস্টকে ঠিক করা হয়, অনুষ্ঠানের দুদিন আগে জানিয়ে দেয় কোনো এক কারণবশত অনুষ্ঠানে সে উপস্থিত হতে পারবে না। এবার এই অল্প সময়ের মধ্যে গিটারিস্ট কোথায় খুঁজে পাওয়া যায় এই চিন্তায় যখন সবাই চিন্তিত তখনই যেন সকল চিন্তার মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ালো সৈকত। বললো- সে নিজেই নীলিমার গানের সাথে গিটার বাজাতে আগ্রহী।

এমনটা শুনে আয়োজকসহ সকলেই বেশ নিশ্চিন্ত হলো, আর সৈকতও মনে মনে খুব খুশি হলো এই ভেবে যে , সে নীলিমার জন্য কিছু  অন্তত করতে পেরেছে। তবে সৈকতের আনন্দ যদিও ছিল চোখে পড়ার মতো কিন্তু নীলিমার আনন্দ সকলের চোখের আড়ালেই থেকে গেলো। কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পেলো না যে নীলিমাও ঠিক কতোটা খুশি সৈকতের সাথে পারফরম্যান্স করার সুযোগ পেয়ে।

অবশেষে দেখতে দেখতে অনুষ্ঠানের দিন এসে উপস্থিত। উক্ত অনুষ্ঠানে নীলিমার অসাধারণ গানের গলা আর সৈকতের অনবদ্য পারফরম্যান্স সেখানে থাকা সকলের মন জয় করে নিয়েছিলো। ব্যাচমেটসহ সিনিয়র জুনিয়র সকলের প্রশংসার পাত্র হয়ে ওঠে তারা। চারিদিকে এতো লোকের প্রশংসার মাঝে কখন যে সৈকত নীলিমারও মন জয় করে নিয়েছিলো তা হয়তো সৈকত নিজেও জানে না। এ ব্যাপারে হয়তো কেবলই জানতো সৃষ্টিকর্তা আর নীলিমা নিজে।

চলবে....
211 Views
9 Likes
6 Comments
4.3 Rating
Rate this: