রাতে খাওয়ার সময় হাতে ফোসকার কারনে খাইতে গেলাম না । সবাই যে যার মতো খেয়ে রুমে চলে গেল ।
আমিও পানি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম । কিন্তু ক্ষুধা পেটে থাকলে কি আর ঘুমানো যায় । তাই ঘুম ও ধরছে না । কিছুক্ষণ পর দেখি দরজায় কেউ নক করছে ।
তারপর দরজা খুলে দেখি আঙ্কেল খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমি অবাক হয়ে আঙ্কেল কে বললাম,,,,,,
আমিঃ আরে আঙ্কেল আপনি এখানে । কিছু লাগবে ?
আঙ্কেলঃ না আমার কিছু লাগবে না । ভিতরে আসতে বলবে না ।
আমিঃ আরে আঙ্কেল প্লিজ কেন লজ্জা দিচ্ছেন । আসেন না ।
আঙ্কেল ভিতরে আসতে আসতে বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ কি ব্যাপার খেতে আসো নি কেন ?
আমিঃ এমনিই ক্ষুধা নেই ।
আঙ্কেলঃ হ্যাঁ কেমন ক্ষুধা নেই সেটা তো আমি জানি । হাতের জন্য খেতে পারছো না তাই তো । নাও আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি ।
আমি শুধু ভাবতে থাকলাম আঙ্কেল কি আর উনার মেয়ে কি । কত ভালো মানুষ । আমার আব্বুর কথা মনে পড়তেছে উনাকে দেখে ।
আঙ্কেল আমাকে খাবার নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছেন । খাবার খেতে খেতে আমার চোখ থেকে পানি বয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে । সেটা আঙ্কেল লক্ষ্য করে বললো,,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ এই পা*গ*ল ছেলে কাদছো কেন । তুমি কি ছোট বাচ্চা নাকি ।
আমি আর কিছু না বলে সোজা আঙ্কেলকে জড়িয়ে ধরলাম । আর একটু জোরেই কেঁদে দিলাম ।
তারপর আমাকে আঙ্কেল শান্তনা দিয়ে থামতে বললেন । অনেক্ষন পর যখন আমি শান্ত হলাম তখন আঙ্কেল বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ প্লিজ আমার মেয়ের কাজের জন্য আমি তোমার কাছে মাফ চাচ্ছি ।
আমিঃ ছিঃ ছিঃ আঙ্কেল কি করছেন । আমি কিছুই মনে করি নি ।
আঙ্কেলঃ আমি বুঝি তো কেন তোমার হাত পুড়েছে ।
আমিঃ বাদ দিন না আঙ্কেল ।
তারপর আঙ্কেল আমাকে খাবার নিজের হাতে খাইয়ে দিয়ে বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ ঠিক আছে এখন তুমি ঘুমাও । আমি গেলাম ।
আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।
আঙ্কেলঃ আর শোনো এই শরীর নিয়ে তোমাকে ভার্সিটিতে যেতে হবে না । কয়েকদিন রেস্ট নিবে ওকে ।
আমিঃ জ্বি আঙ্কেল ঠিক আছে ।
তারপর আঙ্কেল আমার রুম থেকে চলে গেলেন । আমিও বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই এখন ঘুম চলে এলো । তাই দেরি না করে আমিও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম ।
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কিচেনে গেলাম । গিয়ে নোংরা থালা বাসন গুলো পরিষ্কার করে সবার জন্য বেড টি রেডি করলাম ।
সাথে সকালের ও নাস্তা তৈরী করে দিলাম । পরে করে লাভ নেই । কারন জানি পরে এগুলো আমাকেই করতে হবে । তাই আগেই করে রাখলাম ।
ব্রেকফাস্ট গুলো টেবিলে পরিবেশন করে আমি আমার রুমে চলে এলাম । তবুও এখনো আঙ্কেল আন্টি রাইসা কেউ ঘুম থেকে উঠেনি ।
শহরের মানুষ হয়তো একটু লেট করেই ঘুম থেকে উঠে । যাইহোক আমি রুমে এসে পড়তে বসলাম । কিছুক্ষণ পর সবাই উঠে ফ্রেশ হয়ে টেবিলের দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে গেল ।
তারা ভাবছে কে এগুলো খাবার তৈরী করলো । আঙ্কেল ঠিক ই বুঝতে পারছে । যাইহোক সবাই উনারা একসাথে নাস্তা করে নিলো ।
পরে সবাই যে যার রুমে গেলে আমিও গিয়ে হালকা নাস্তা করে নিলাম । তারপর রাইসা ভার্সিটির জন্য বের হয়ে চলে গেল । আর আঙ্কেল অফিসের জন্য । আর আমি রুমে রেস্ট করতে লাগলাম ।
এদিকে,,,,,,,,,,,,
আব্বু চাচ্চু আর নিশি আমাকে খোঁজার উদ্দেশ্যে খুব ভোরে গাড়িতে উঠায় কয়েকঘন্টা জার্নি করার পর পৌছে গেল ঢাকায় ।
তারাও তো ঢাকার অলি গলি কিছুই চিনে না । তাই তারা একটা সিএনজি করে ঢাকা ভার্সিটিতে এলো । এসে তারাও তো অবাক । এতো বড় ভার্সিটি কখনো তারা দেখে নি ।
উনাদের কে দেখেও সবাই কেমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । কয়েকটা স্টুডেন্ট কে আব্বু জিজ্ঞাসাও কললো রাকিব কে চিনে কি না । তারা সবাই না সূচক উত্তর দিলো ।
তারপর চাচ্চু একটা স্টুডেন্ট কে বললো,,,,,,
চাচাঃ প্রিন্সিপালের রুমটা কোন দিকে একটু বলবা বাবা ।
স্টুডেন্টঃ সোজা গিয়ে ডানে ।
চাচাঃ ঠিক আছে ধন্যবাদ ।
তারপর সবাই প্রিন্সিপাল স্যারের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে । নক দিতেই স্যার বললো,,,,,,
স্যারঃ ভিতরে আসুন ।
তারপর সবাই ভিতরে প্রবেশ করলো । এরপর স্যার বললেন,,,,,,,
স্যারঃ বলুন কি সাহায্য করতে পারি ।
আব্বুঃ স্যার আমরা বগুড়া থেকে এসেছি । আমার ছেলে রাকিব কয়েকদিন আগে বগুড়া থেকে এখানে এসেছে পড়াশোনা করতে । তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারছি না স্যার । ওর কিছু হয় নি তো ।
স্যারঃ আপনার ছেলের কোনো ছবি আছে ?
আব্বুঃ হ্যাঁ স্যার আছে ।
স্যারঃ দেখি ।
তারপর নিশির ফোন থেকে আমার ছবি দেখিয়ে দিল । আমার ছবি দেখে স্যার বললেন,,,,,,,,,
স্যারঃ হ্যাঁ এই ছেলেকে আমি চিনি কিন্তু,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
243
Views
3
Likes
1
Comments
5.0
Rating