রাইসা ওর রুমে চলে গেল । আমি অনেক অসুস্থ । অসুস্থ শরীর নিয়ে তবুও উঠে রান্না ঘরে গিয়ে রাইসার জন্য চা বানালাম ।
গ্রামে মা বাবার কথা অনেক মনে পড়ছে । আম্মু আমাকে একটা কাজ করতে দিতো না । আর আজ সেখানে আমি অন্যের কাজ করে দিচ্ছি ।
একেই বলে নিয়তি । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো । তারপর চোখ মুছে আমি উপরে মানে রাইসার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি ।
তারপর নক দিলাম ।
আমিঃ আসবো মেডাম ।
রাইসাঃ আয় ।
তারপর আমি রুমে গিয়ে রাইসাকে চা দিয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ এই নিন মেডাম আপনার চা ।
রাইসা চা নিলো । আর আমি রুমটা ভালো করে দেখতে লাগলাম । অনেক সুন্দর রুম । কখনো এরকম রুম আগে দেখি নি ।
শহরের মানুষ হয়তো এমন সুন্দর জায়গাতেই থাকে । আমার চারিদিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাইসা বললো,,,,,
রাইসাঃ কি রে এমন রুম কখনো দেখিস নি । দেখবি কোথা থেকে তুই তো আসছিস গ্রাম থেকে । গাইয়া ক্ষ্যাত ।
আমিঃ ঠিক বলেছেন মেডাম । আমরা গ্রামের ক্ষ্যাত ছেলে এরকম রুম কখনো দেখি নি ।
তারপর রাইসা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,,,,,,,,
রাইসাঃ এই ক্ষ্যাত এটা কি চা বানিয়েছিস । আমি চিনি ছাড়া চা খাই । আর তুই তো চিনির জাহাজ এখানে ডুবিয়েছিস ।
আমিঃ কিন্তু আপনি তো সেটা বলেন নি ।
রাইসাঃ আমার মুখে মুখে তর্ক করিস । দাড়া তর্ক করার মজা দেখাচ্ছি ।
বলেই রাইসা গরম চা আমার হাতে ঢেলে দিলো । আমি অনেক জোরে চিৎকার দিলাম । হাত অনেক যন্ত্রণা করছে । আমার চোখ দিয়ে পানি টপটপ করে বয়ে পড়ছে
কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল আন্টি দুইজনই ছুটে আসলো । এসে আঙ্কেল বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ কি হয়েছে রাকিব ।
আমি কিছু বলার আগেই রাইসা বলে উঠলো,,,,,,,,,,
রাইসাঃ ও আমাকে চা দিতে এসে পা পিছলে ওর হাতেই চা টা পরে গেছে বাবা ।
আমি শুধু রাইসার দিকে তাকালাম । ইশারায় বললো,,,""বলে দিলে পরে খবর আছে""। তারপর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ রাকিব এটা কি সত্যিই ।
আমিঃ জ্বি আঙ্কেল ।
আঙ্কেলঃ একটু দেখে কাজ করবে না । দাঁড়াও ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসছি ।
বলেই আঙ্কেল রুম থেকে চলে গেল । হাতে অনেক ফোসকা পড়ে গেছে । তারপর রাইসা বললো,,,,,,,,,,
রাইসাঃ এরপর থেকে যেন এরকম ভুল না হয় ।
আমিঃ জ্বি মেডাম ।
বলেই রুম থেকে আমিও চলে এলাম । আঙ্কেল আমার আমাকে ফাস্টএইড করে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে গেল ।
এদিকে গ্রামের বাড়িতে,,,,,,,,,,,,
আব্বুঃ নিশি মামুনি প্লিজ দরজা খোলো ।
নিশিঃ নিশ্চুপ ।
আব্বুঃ রাকিবের কিছুই হয় নি দেখিস । প্লিজ বাহিরে আসো খেয়ে নাও ।
নিশিঃ নিশ্চুপ ।
আব্বুঃ আচ্ছা ঠিক আছে কালকে আমি তোমার আব্বু আর তুমি রাকিবকে খুঁজতে ঢাকায় যাবো । এবার তো বের হও ।
তারপর নিশি এসে দরজা খুলে দিলো । আর কান্না করতে করতে চাচি কে জরিয়ে ধরলো,,,,,,
চাচিঃ প্লিজ কাঁদিস না । রাকিব ভালো আছে । কিন্তু ফোন বন্ধ কেন সেটা তো ওই বলতে পারবে ।
নিশিঃ আমি বলেছিলাম ওকে পাঠিও না তোমরা । কেউ আমার কথা শুনলে না । প্লিজ ওকে ফিরিয়ে আনো না ।
আব্বুঃ ঠিক আমরা কাল যাবো তো ।
নিশিঃ সত্যিই ।
আব্বুঃ হ্যাঁ সত্যিই ।
তারপর সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে নিলো । নিশি এই কয়েকদিনে আমার চিন্তায় অনেক শুকিয়ে গেছে । কিন্তু কেউ তো জানেই না আমার ফোন সহ টাকা পয়সা সব ছিনতাই হয়েছে ।
এখানে,,,,,,,,,,,,
রাতে খাওয়ার সময় হাতে ফোসকার কারনে খাইতে গেলাম না । সবাই যে যার মতো খেয়ে রুমে চলে গেল ।
আমিও পানি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম । কিন্তু ক্ষুধা পেটে থাকলে কি আর ঘুমানো যায় । তাই ঘুম ও ধরছে না । কিছুক্ষণ পর দেখি দরজায় কেউ নক করছে ।
তারপর দরজা খুলে দেখি,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
285
Views
2
Likes
1
Comments
5.0
Rating