গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাইসা ওর রুমে চলে গেল । আমি অনেক অসুস্থ । অসুস্থ শরীর নিয়ে তবুও উঠে রান্না ঘরে গিয়ে রাইসার জন্য চা বানালাম ।

গ্রামে মা বাবার কথা অনেক মনে পড়ছে । আম্মু আমাকে একটা কাজ করতে দিতো না । আর আজ সেখানে আমি অন্যের কাজ করে দিচ্ছি ।

একেই বলে নিয়তি । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো । তারপর চোখ মুছে আমি উপরে মানে রাইসার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি ।

তারপর নক দিলাম ।

আমিঃ আসবো মেডাম ।

রাইসাঃ আয় ।

তারপর আমি রুমে গিয়ে রাইসাকে চা দিয়ে বললাম,,,,,,

আমিঃ এই নিন মেডাম আপনার চা ।

রাইসা চা নিলো । আর আমি রুমটা ভালো করে দেখতে লাগলাম । অনেক সুন্দর রুম । কখনো এরকম রুম আগে দেখি নি ।

শহরের মানুষ হয়তো এমন সুন্দর জায়গাতেই থাকে । আমার চারিদিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাইসা বললো,,,,,

রাইসাঃ কি রে এমন রুম কখনো দেখিস নি । দেখবি কোথা থেকে তুই তো আসছিস গ্রাম থেকে । গাইয়া ক্ষ্যাত ।

আমিঃ ঠিক বলেছেন মেডাম । আমরা গ্রামের ক্ষ্যাত ছেলে এরকম রুম কখনো দেখি নি ।

তারপর রাইসা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,,,,,,,,

রাইসাঃ এই ক্ষ্যাত এটা কি চা বানিয়েছিস । আমি চিনি ছাড়া চা খাই । আর তুই তো চিনির জাহাজ এখানে ডুবিয়েছিস ।

আমিঃ কিন্তু আপনি তো সেটা বলেন নি ।

রাইসাঃ আমার মুখে মুখে তর্ক করিস । দাড়া তর্ক করার মজা দেখাচ্ছি ।

বলেই রাইসা গরম চা আমার হাতে ঢেলে দিলো । আমি অনেক জোরে চিৎকার দিলাম । হাত অনেক যন্ত্রণা করছে । আমার চোখ দিয়ে পানি টপটপ করে বয়ে পড়ছে

কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল আন্টি দুইজনই ছুটে আসলো । এসে আঙ্কেল বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ কি হয়েছে রাকিব ।

আমি কিছু বলার আগেই রাইসা বলে উঠলো,,,,,,,,,,

রাইসাঃ ও আমাকে চা দিতে এসে পা পিছলে ওর হাতেই চা টা পরে গেছে বাবা ।

আমি শুধু রাইসার দিকে তাকালাম । ইশারায় বললো,,,""বলে দিলে পরে খবর আছে""। তারপর আঙ্কেল বললো,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাকিব এটা কি সত্যিই ।

আমিঃ জ্বি আঙ্কেল ।

আঙ্কেলঃ একটু দেখে কাজ করবে না । দাঁড়াও ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসছি ।

বলেই আঙ্কেল রুম থেকে চলে গেল । হাতে অনেক ফোসকা পড়ে গেছে । তারপর রাইসা বললো,,,,,,,,,,

রাইসাঃ এরপর থেকে যেন এরকম ভুল না হয় ।

আমিঃ জ্বি মেডাম ।

বলেই রুম থেকে আমিও চলে এলাম । আঙ্কেল আমার আমাকে ফাস্টএইড করে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে গেল ।

এদিকে গ্রামের বাড়িতে,,,,,,,,,,,,

আব্বুঃ নিশি মামুনি প্লিজ দরজা খোলো ।

নিশিঃ নিশ্চুপ ।

আব্বুঃ রাকিবের কিছুই হয় নি দেখিস । প্লিজ বাহিরে আসো খেয়ে নাও ।

নিশিঃ নিশ্চুপ ।

আব্বুঃ আচ্ছা ঠিক আছে কালকে আমি তোমার আব্বু আর তুমি রাকিবকে খুঁজতে ঢাকায় যাবো । এবার তো বের হও ।

তারপর নিশি এসে দরজা খুলে দিলো । আর কান্না করতে করতে চাচি কে জরিয়ে ধরলো,,,,,,

চাচিঃ প্লিজ কাঁদিস না । রাকিব ভালো আছে । কিন্তু ফোন বন্ধ কেন সেটা তো ওই বলতে পারবে ।

নিশিঃ আমি বলেছিলাম ওকে পাঠিও না তোমরা । কেউ আমার কথা শুনলে না । প্লিজ ওকে ফিরিয়ে আনো না ।

আব্বুঃ ঠিক আমরা কাল যাবো তো ।

নিশিঃ সত্যিই ।

আব্বুঃ হ্যাঁ সত্যিই ।

তারপর সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে নিলো । নিশি এই কয়েকদিনে আমার চিন্তায় অনেক শুকিয়ে গেছে । কিন্তু কেউ তো জানেই না আমার ফোন সহ টাকা পয়সা সব ছিনতাই হয়েছে ।

এখানে,,,,,,,,,,,,

রাতে খাওয়ার সময় হাতে ফোসকার কারনে খাইতে গেলাম না । সবাই যে যার মতো খেয়ে রুমে চলে গেল ।

আমিও পানি খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম । কিন্তু ক্ষুধা পেটে থাকলে কি আর ঘুমানো যায় । তাই ঘুম ও ধরছে না । কিছুক্ষণ পর দেখি দরজায় কেউ নক করছে ।

তারপর দরজা খুলে দেখি,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
285 Views
2 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: