গোলাপ তখন একটু শান্ত হয়....
অনেক অসুস্থতার নিয়েও সে শরীফের কথায় বলতো বান্ধবীরা তাকে অনেক সান্তনা দিত,
কিন্তু তার বুকের মধ্যে কষ্ট গুলো কমে না...
তার প্রতিটি দীর্ঘ নিঃশ্বাসে সে ছেলেটিকে স্মরণ করতো। তার কাছে শরিফ ছিল অন্যরকম ভালোলাগার একটি মানুষ।
এত অবহেলার পরও সে শরিফকেই চায়তো মেয়েটি শুধু তার প্রেমে পাগল ছিল।
এমন কোন রাত নেই যে তার চোখের পানিতে বালিশ ভিজতো না, এমন কোন দিন নেই যে শরীফকে মনে পড়তো না তার জীবনের অর্ধেকটা জুড়ে ছিল সেই শরিফ নামের ছেলেটি কিন্তু শরীফের কাছে গোলাপের কোন অস্তিত্বই ছিল না।
যখন খুব বেশি অসুস্থ ছিল তখন মেয়েটির মাথা নবরত্ন তেল দিয়ে, চোখের নিচেও বেশ কিছুটা কালো দাগ পড়ে গিয়েছিল, শরীরটা অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছিল মুখে ও অনেকটা ব্রণ বের হয়েছিল মেয়েটির। আস্তে আস্তে মেয়েটি যেন পাগলে পরিণত হচ্ছিল।
তাদের অনেকদিন কথা হতো না...।
মেয়েটি এসব এর মধ্যে কলেজ শুরু হয়, নতুন কলেজ নতুন সব নিয়ম কানুন অনেক অচেনা মানুষ। মেয়েটি আস্তে আস্তে নিজের জীবনে ফিরে যেতে চেষ্টা করে কলেজে মন দেয় । কলেজের নতুন নিয়ম কানুন তাকে বেশ ভালো লাগা সৃষ্টি করে, সে কিছুদিন তার বান্ধবীর সাথে কলেজ করতে শুরু করে।
গোলাপের অনেকগুলো মেয়ে নতুন ফ্রেন্ড হয়। সাথে তার অনেক পুরনো স্কুল লাইলের একটি বন্ধুর সাথে দেখা হয় ।( নাম :পলল)
স্কুল লাইফের বন্ধুর সাথে কথা বলে। স্কুল লাইফে বন্ধুর সাথে নতুন চারজন বন্ধু ছিল তারা মোট ৬জনের একটা ব্যাচ ছিল....
পলল এর বন্ধু গুলো বেশি স্মার্ট ছিল। পললের ফ্রেন্ডের মধ্যে পাঁচজন ছেলে একজন মেয়ে ফ্রেন্ড ছিল।
এই দিকে গোলাপের ফ্রেন্ড সুমাইয়া আর তানিশা ছিল।
পললের ফ্রেন্ডরা গোলাপের সাথে মিশতে চেষ্টা করেতো, গোলাপ প্রথমে মিশতে পছন্দ না করলেও পরে গোলাপ ও গোলাপের ফ্রেন্ড ওদের সাথে মিশতে থাকে।
ওদের সাথে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, মুড়ি খাওয়া, ফুচকা খাওয়া, বেশিরভাগ সময় সবাই একসাথে মিলে আড্ডা দিত। পলল রা বেশির ভাগ সময় গোলাপদেরকে ক্লাস করতে দিত না।
সময় বেশ ভালই কাটছিল, গোলাপের মধ্যে কিছুটাদূরত্বে শরিফকে দূরে সরে গিয়েছিল তারপরও গোলাপ মাঝেমধ্যে শরিফের কথা ভেবে চোখ থেকে পানি পড়ত ।
বলা ভালো এর মধ্যেও গোলাপের ফ্রেন্ডস সুমাইয়ার বিয়ে হয়ে যায়। গোলাপ কিছুটা আপসেট ছিল কিন্তু তারপরেও গোলাপের সাথে সুমাইয়া কলেজে যেত কারণ তার বিয়ের পর তাকে রেখে ভাইয়া চাকরির জন্য দূরে থাকত ...
তাদের ফ্রেন্ডশিপটা অনেক ভালো কাটছিল এরমধ্যে গোলাপ সবার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, পললের ফ্রন্ডের মধ্যে একটি ফ্রেন্ড ছিল যার নাম ছিল হাসান। হাসান গোলাপ কে আর সুমাইয়াকে অনেক কেয়ার করত। হাসানের সাথে গোলাপ বেশ কথা বলতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করত । গোলাপের কাছে হাসানকে বেশ ভালোই লাগত কিন্তু গোলাপ কোন রিলেশনে আর ভরসা পেত না। গোলাপ আর আগাইতে চায় নি। কিন্তু গোলাপ হাসানের সাথে দুষ্টুমি করতে বেশ ভালো লাগত হাসানের রাগ গুলো গোলাপের কাছে বেশ মজা লাগত।
গোলাপ আর হাসান প্রায়ই রাত জেগে কথা বলত, গোলাপ কিছুটা হাসানের প্রিত দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ হাসানুর রহমান অন্য রকম হতে শুরু করে কিছুটা ইগনোর করতো, গোলাপ বুঝতে পারে না কেন এমন করে পরে জানতে পারে হাসানুর রহমান সুমাইয়ার সাথে ডিপ রিলেশনে গেছে যেটা গ্রুপে কেউ মেনে নিতে পারেনি কারণ সুমাইয়া একটি ছিল একটি বিবাহিত মেয়ে । অনেক ঝামেলা ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট হয়ে পললদের সাথে।
গোলাপ আবার ঠকে গেল নিজর ফ্রেন্ড সুমাইয়া এবং হাসানের কাছে । গোলাপের জীবনে ভালো লাগাটাই যেন একটা দুঃস্বপ্ন যাকে ভালো লাগে তারাই কোন না কোন ভাবে ঠকিয়ে চলে যায়। তবুও সুমাইয়া সাথে কোন ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট করিনি ফ্রেন্ডশিপ টা অমনি ছিল । গোলাপ সবাইকে মাফ করতে যান তো এদের কেউ মাফ করে দিয়েছিল।
হঠাৎ একদিন একটা মেসেজ আসে মেসেজটি ছিল শরীফের যেটা দেখে গোলাপ আবার অবাক হয়ে যায়।
গোলাপ এখন কি করবে...
তার আগের সব কিছু মনে পড়ে যায়.....
গল্পটি ভালো লাগে লাইক ফলো দিয়েন ধন্যবাদ সকল পাঠকগন।
একটি অপূর্ণ ভালবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
150
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating