আমি তাড়াতাড়ি দেখলাম কী মেসেজ দিয়েছেন আমিন ভাইয়া।মেসেজ-"মারিয়া আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।"
কী কথা,আমি মেসেজের মাধ্যমে জানতে চাইলাম।
আমার এই মেসেজের রিপ্লাইয়ে আমিন ভাইয়া এমন কিছু বলল যা আমি তার থেকে আসা করিনি।
মারিয়া,আমি খুব সাজিয়ে কথা বলতে পারি না।তাই স্পষ্ট করেই বলছি,আমি না তোমাকে নিজের মনের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছি!তুমি আমাকে এর উত্তরটা ভেবে চিন্তে বলো,প্লিজ।
আমি তোমার ওপর কোনো জোর খাটাতে চাই না।
(আমিন ভাইয়ার মেসেজ)
মেসেজটা পড়ে আমি মনে মনে প্রচুর খুশি হলাম।আমি তো জানি,আমিও এই ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছি।খুব ভালোবেসে ফেলেছি।
কিন্তু,আমার কী উচিত নির্লজ্জের মতো হ্যাঁ বলা।
না আমি এসব কিছু না ভেবে আমিন ভাইয়ার কাছে মেসেজ পাঠিয়ে দিলাম,,,,
আমিও নিজের অজান্তে আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
সত্যিই?ঠিক আছে,আমি কালকেই তোমাদের বাড়িতে গিয়ে মামা মামীকে বিষয়টা জানাবো।(আমিন ভাইয়ার মেসেজ)
★★★
পরদিন,আপুর ডাকে আমার ঘুম ভাঙলো।
কী হলো?আপু,তুমি আমাকে এখন ডাকতে এসেছো?(আমি)
আরে আব্বু বলল,,আজকে নাকি আমিন ভাইয়ারা আসবে!(আপু)
আপুর কথাটা শুনেই আমার কালকে রাতের কথা মনে পড়ে গেলো।আর আমার অজান্তেই আমার ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটলো।
কীরে হাসছিস কেন?(আপু)
কিছু না,তুমি কী জানো তারা কেনো আসছে?(আমি)
না।(আপু)
তার মানে এখনো কিছু বলেনি,থাক আমিও বলবো না।(আমি মনে মনে বললাম)
আপু চলে গেলে আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলাম।আম্মু আর আব্বু তখন নিজেদের মধ্যে ফুফুরা কেন আসতে পারে,তা আলোচনা করছে।আমি জানি তবে কিছু বললাম না।
ঘন্টা তিনেক পর আমিন ভাইয়ারা আসলো।তাদের তিনজনের মুখেই চওড়া হাসি।
আমিন ভাইয়ার পরনে কালো পাঞ্জাবী।এই কালো রঙ যেনো তার ফর্সা শরীরে অনেক মানিয়েছে!আমি তাড়াতাড়ি তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম।
ফুফুরা সোফায় বসলেন।আমি তাদের পাশেই লজ্জা লজ্জা মুখে দাঁড়িয়ে রইলাম।চোখদুটো নিচু করে রেখেছি।
ভাই,আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।হাসি মুখে বললেন ফুফু।
আব্বু কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন,কী কথা বলো।
ভাই আপনার ছোট মেয়েটিকে আমি নিজের বাড়ির বউ হিসেবে আপনার কাছে চাইছি।আমার আমিনের সাথে মারিয়ার বিয়ে হলে,আপনাদের নিশ্চয়ই এতে কোনো আপত্তি নেই?
ফুফুর এই কথাটা শুনে আমার পরিবারের সবাই যেনো ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা খেলো।
তাদের বিষয়টা সামলে নিতে কিছুটা সময় লাগলো।
কী বলছো,মানে মারিয়া আর আমিনের বিয়ে!😳(বাবা)
কেনো ভাই?কোনো সমস্যা?(ফুফু)
না,না।এটাতো ভালো কথা,কিন্তু হঠাৎ?(মা)
ভাবী,হঠাৎ,বলছো কেনো?তোমার মেয়ে আর আমার ছেলে তো আগে থেকেই ভেবে রেখেছে।তারপর কালকে রাতে আমাকে আমিন বলল।(ফুফু)
আমি ফুফুর কথা শুনে বেশ লজ্জা পেলাম।
মা-বাবা,ভাইয়া,আপু সবাই একসাথে আমার দিকে তাকালো।আমি তাড়াতাড়ি তাদের দিক থেকে চোখ নামিয়ে নিলাম।
ঠিক হলো সামনের ২৪ তারিখে আমাদের বিয়ে হবে।হাতে আছে তিন সপ্তাহ।
আমি মনে মনে প্রচুর খুশি হলাম।কিন্তু আবার এটা ভেবেও দুঃখ হলো যে আমাকে এই পরিচিত জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।এটা প্রত্যেকটা মেয়ের জীবনে একটা দুঃখের বিষয়।
দেখতে দেখতে চলে এলো ২৪ তারিখ।আজ সকাল থেকেই আমার খুব নার্ভাস ফিল হচ্ছে।
বার বার অদ্ভূত ভাবে হেঁচকি উঠছে।হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে যাচ্ছে।
মারিয়ার হুজুর বর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
203
Views
5
Likes
0
Comments
4.7
Rating