রিদিকা,
তোমার প্রতি যে ভালোবাসা, তা যেন এক গল্পের মতো। তুমি কি জানো, প্রতিদিন সকালে আমি তোমার নাম মনে করে দিন শুরু করি? আমার কাছে তুমি শুধু একটা নাম নয়, তুমি আমার জীবনের সেই অধ্যায়, যেখানে প্রতিটা শব্দে অনুভব আর প্রতিটা বাক্যে ভালোবাসা।
আজও মনে পড়ে আমাদের প্রথম কথাবলা শুরু হওয়ার দিনগুলো। ফেসবুকের সেই ছোট্ট কথোপকথনগুলো যেন ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের একটা অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তোমার প্রতিটা মেসেজে যেন একটা নতুন গল্পের শুরু ছিল। তুমি বলেছিলে, "ভালোবাসা শুধু অনুভবের বিষয়, সেটা প্রকাশের জন্য নয়।"
তোমার ক্যারিয়ার, তোমার স্বপ্ন—সবকিছু নিয়ে তোমার ব্যস্ততা আমি সবসময় বুঝেছি। তবু, একটা প্রশ্ন এখনো আমাকে তাড়া করে—কেন আমরা একবারও দেখা করলাম না? আমাদের দেখা হইলো না। হয়তো এটাই আমাদের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অথচ দুঃখজনক অধ্যায়।
এখন জোছনা ভরা রাত, চারদিকে নিরবতা, দেয়াল ঘড়ির সময় বেয়ে যাওয়ার টিক টিক শব্দ ভেসে আসতেছে। শহরের অলিগলিতে কেউ হয়তো জেগে নেই। হয়তো-বা থাকতে ও পারে।
রাতটাও সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যায়। এই তো কয়েক দিন আগেই ঠিক এই সময়েই মনে হচ্ছিল এমন মায়াবী রাত যেনো সারাজীবন আসে জীবনে।
সেই রাতটাও আসছে কিন্তু যার কারণে সে-ই রাতগুলো কে মায়াবী, রোমান্টিক মনে হচ্ছিল সেই মানুষটা কে ছাড়া রাতগুলো কেমন যন্ত্রণা দেয়।
জানালার কাছে যাওয়াতেই দেখা যায় জোছনা ভরা রাত চারপাশে আলোর ছোটাছুটি। ঠিক কয়েকদিন আগে যেমন ছিল।
এখন আর এ-ই জোছনা দেখলে মনের ভিতর অদ্ভুত ভালো লাগা হয়না। মন ভালো হয়ে যায় না। এখন কেমন জানি এক অন্য রকম অনুভূতি হয় যা ভীষণভাবে অবাক করে।
হৃদয়ের ভিতরে লুকিয়ে থাকা নোনাজল গুলোকে টেনে বের করে চোখ দিয়ে।
নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে গেছে সবকিছু। ব্রেইন সব সময় তোমার মোহে থাকে। চোখগুলো হঠাৎ হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেনো নোনাজল নিয়ে আসে। আর নিশ্চুপে নোনাজন গুলো এঁকেবেঁকে বের হয়ে যায়। বিছানার বালিশটাও প্রতিদিন ভিজে যায়।
আগে তো ফোনের স্কিনে তুমি থাকতে ভিডিও কলে না, মেসেজে থাকতে কিন্তু তোমারে কোনদিন বলা হয়নাই চলো না এ-ই জোছনায় হারিয়ে যাই। দুইজনে হাঁটতে থাকি যতদুর পথ যায়। যতদুর চোখ যায়। যেখানে গেলে তোমাকে আর হারানোর ভয় থাকবে না। একান্তই শুধু তুমি আমার হয়ে থাকবে। তুমি যতোই দূরে থাকোনা কোনো। চোখ দুটো বন্ধ করবপ আর তোমার সাথে সাথে আমিও বন্ধ করবো। তারপর দুইজনে কল্পনার শহরের জোছনা ভরা এই রাতে একসাথে পথ চলা শুরু করবো। যা কোনোদিন শেষ হবে না।
কথাগুলো কখনো বলা হয় না-ই। কখনো কল্পনার শহরের জোছনা ভরা রাতে যাওয়া ও হয়নাই। হয়তো-বা যদি বলতাম তুমি ও যাইতে সেই শহরে আমার সঙ্গী হয়ে থাকতে।
জানো.. আজকাল, যখন আমি রাস্তায় হেঁটে যাই, মনে হয় তুমি যেন পাশে হেঁটে চলছো। বাতাসে তোমার গন্ধ, চারপাশে তোমার উপস্থিতি অনুভব করি। আমি জানি, এ সবই আমার কল্পনা। কিন্তু, কল্পনাই তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্প গড়ে তোলে, তাই না?
ᥫ᭡
কি নিদারুণ ভাগ্য আমাদের ৫ মাস ১০ দিন পর ফিরে এসে ও চলে গেলে আবারো অনেক দূরে। এবার তোমাকে ফিরে পাওয়াতে ভেবেছিলাম হয়তো আর কোনো কিছু আমাদের আলাদা করতে পারবে না। সেটা আর হইলো কই.. বদলে গেলে আগের মতো করে ঠিক আগের অযুহাত এ। তোমার ফ্যামেলি। মানলাম ফ্যামেলি সমস্যা তো প্রত্যাকের থাকে তবে কি বিচ্ছেদ হওয়াটাই একমাত্র উপায় নাকি সঙ্গে থেকে মোকাবেলা করা।
তুমি কথা দিলে.. আমি পাশে থাকবো, আপনার অপেক্ষায় থাকবো। আমার বাসা থেকে যখনই বিয়ের কথা উঠবে সেইদিনেই প্রথম কল যাবে আপনার ফোনে ।
তবুও নিজের ফ্যামেলির সাথে চিট করবো না। রাখবো না এই হারাম সম্পর্ক।
এখন আপনি আপনার ক্যারিয়ারে ফোকাস দেন। ভালো একটা জব করেন। যেন আমার ফ্যামিলির কাছে চাইতে পারেন আমাকে। তারপরেই শুরু হবে আমাদের পথচলা।
কিন্তু তুমি বুঝলে না এখন আমার একাকিত্ব টা এদিকে বাবা অসুস্থ, অন্য দিকে কোনো জব ও মিলে না। সারাক্ষণেই এক অন্য মোহে থাকতাম। সেই শূন্যতা কাটতো তোমার সাথে কথা বলেই। তাইতো আগের সবকিছু ভুলেই আবারো নতুন করে শুরু করছিলাম, কিন্তু না তুমি সেই আগের শূন্যতায় ফেলে দিয়ে চলে গেলে।
আবারো সেই দিন রাত দিন গুলো।
জানো ভিষণ কান্না পায় রাতে ঘুমানোর আগে। বালিশের তলায় মুখ দিয়ে নির্শব্দে কান্না করতে থাকি। যেনো পাশের রুমে বাবা-মা টের না পায়।
কি করবো আমি?
জানো এখন প্রতি বৃহস্পতিবার র্নিঘুমে যায়। তুমি বলেছিলে সপ্তাহে একদিন কথা হবে বৃহস্পতিবারে আর সেই রাতটা শুধু আমার থাকবে সারারাত কথা হবে। কিন্তু প্রথম বৃহস্পতিবারের দিনেই ছেড়ে গেলে। এক আকাশ ভরা দুঃখ দিয়ে গেলে। কথা রাখলে না।
তোমার কথা আমি রাখছি প্রতি বৃহস্পতিবারেই রাতে জেগে থাকি। আগের স্মৃতি গুলো মনে করে, মেসেজ গুলো পড়ে কেটে যায় রাত।
আর কতদিন এভাবে যাবে সময় গুলো রাত গুলো জানা নেই। হয়তো-বা "না ফেরার দেশে" না যাওয়া পযন্ত চলতেই থাকবে। প্রতিটা রাত মনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে। তবুও অপেক্ষায় থাকবো।
☹︎
তোমাকে তো বলছিলাম নওগাঁ তে জব পাওয়ার কথা। সেখানে যাবো।
এখানে আসার ১৩ দিন হইলো। জানো যতটা না জবে গুরুত্ব দিয়েছি। এই নতুন শহরে। নতুন মানুষের ভিড়ে নিজেকে তার থেকে ও তোমার ভাবনাতে পড়ে আছি বেশি। তোামর কথা-ই বার বার মনে পড়ে। ভুলতে পারি না তোমাকে। তোমার বড়আব্বু মারা গেছিলো ৩ দিন আগে। তোমার ফ্রেন্ডের কাছে শুনছিলাম। এই এক অযুহাতে তোমাকে ফোন দিলাম ২ দিন আগে।
জানো ভেবেছিলাম অনেক কিছুই বলবো। কিন্তু বলা আর হইলো কই উপাশ থেকে তো ফোন রিসিভ করলে। তোমার ভয়েস শুনেই হার্টবিট দূর্বল হয়ে গেলে। মুখ থেকে ও কিছু কথা বের হচ্ছিল না। দেহটা কেমন কাঁপতে ছিল। অনেক কিছু বলার থেকে ও কিছু বলা হয়নি। শুধু কান্না পাচ্ছিল।
জানো কতশত দুঃখ কষ্ট চলে গেলো।। আমার চোখ পানি আসে নাই। কিন্তু তোমার কথা মনে হইলেই চোখে পানি আসে যায়।
যেটাই হোক দুর থেকেও ভালোবাসা যায়। আমি না হয় দূর থেকেই ভালোবাসে যাবো। জানি তুমি ও আমাক অনেক টাই ভালোবাসো শুধু নিজের ফ্যামেলির জন্য এত্তো কিছু, এটা টা দূরত্ব।
জানি, তোমার কাছে এই চিঠি পৌঁছাবে না, তবুও, অনেক কিছু কথা আছে যা শুধু তোমার জন্য লিখতে ইচ্ছে করে। লিখতে গিয়ে আমার ভেতরটা যেন হালকা হয়ে যায়।
হয়তো এটাই আমাদের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিক—আমরা দুজন দুজনকে পেয়েছি অনুভবে, যদিও বাস্তবে কখনো নয়।
যদি আমার একখানা কবুতর ছানা থাকতো তাহলে তার পা-য়ে বেঁধে পাঠিয়ে দিতাম তোমার বাড়ির আলিঙ্গনে।
তোমার কাছে শুধু একটাই অনুরোধ, রিদিকা—তুমি যেমন আছো, তেমনই থেকো। যদি কোনোদিন গল্পের মতো দেখা হয়, জানবে, আমার এই ভালোবাসা কখনো বদলায়নি।
ইতি
তোমার
না হওয়া মানুষ
█▒▒▒▒▒▒▒▒▒01%
আরেকটু পর হয়তো-বা কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে, শেষ হয়ে যাবে লেখার জন্য সাদা পৃষ্ঠা। তবুও রিদিকা কে নিয়ে লেখা শেষ হবে না।
প্রতিনিয়ত নিজের অনুভূতির কথা গুলো কারো কাছে প্রকাশ করার চেয়ে কাগজের পৃষ্ঠাতে লিখে রাখা সোহানের কাছে অনেক বেটার মনে হয়।
আবার সে-ই পেইজ গুলো পুড়িয়ে দেওয়ার মাঝে এক অন্য রকম শান্তি আসে তার।
পুড়িয়ে দেওয়াতে তার দুইদিক দিয়ে ভালোই হচ্ছে।
১. রিদিকা কে নিয়ে তার কষ্টের গল্প গুলো অন্য কেউ জানতে পারবে না।
২. রিদিকা ও বুঝতে পারবে না।
রাতের নিরবতায় ভেঙ্গে ভেসে আসছে ফজরের আযান।
নামাজ শেষে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
┈┈┈┈․° ✉ °․┈┈┈┈
এভাবেই কেটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত প্রতিটি রাত, নিজের সাথে নিজের অনুভূতির সাথে যুদ্ধ করতে করতে। তবুও শেষ হয়-না জীবন।
এক টুকরো চিঠি
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
128
Views
3
Likes
2
Comments
5.0
Rating