উনার সাথে অনেক ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হলো । আর উনি বড়লোক হলেও মনে কোনোই অহংকার নেই । শহরে এমন মানুষ ও পাওয়া যায় তাহলে ।
উনার সাথে কথা বলতে বলতে উনার বাসায় পৌছে গেছি । অনেক বড় বাসা উনার । আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছি । আগে কখনো এমন বাসায় ঢুকি নি ।
তারপর বাসার ভিতরে ঢুকলাম । আঙ্কেল একটা মহিলাকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন,,,,,,,
আঙ্কেলঃ ইনি তোমার আন্টি ।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।
আন্টিঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
তারপর আবার আঙ্কেলকে বললো,,,,,,,
আন্টিঃ এ কে ?
আঙ্কেলঃ যার কথা তোমাকে বলেছিলাম আমার গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে ছিল । আজ থেকে এখানেই থাকবে আর বাসার সব কাজ করে দিবে ।
আন্টিঃ ওহহ আচ্ছা ঠিক আছে ।
তারপর আঙ্কেলের মেয়েটা আসলো । আঙ্কেলের মেয়েটাকে দেখে আমি আরো অবাক হলাম । কারন আঙ্কেলের মেয়েটা আর কেউ নয় সে হলো ভার্সিটির সেই অহংকারী মেয়েটা ।
আমাকে দেখেই বললো,,,,,,,
মেয়েটিঃ কি রে ক্ষ্যাত তুই এখানে । ভিক্ষা চাইতে এসেছিস বুঝি ।
আমি উনার কথা শুনে মাথা নিচু করে রইলাম । তারপর আঙ্কেল ধমকের সুরে বললেন,,,,,,,
আঙ্কেলঃ রাইসা এটা কোন ধরনের বেয়াদবী ।
ওহহ তার মানে মেয়েটার নাম রাইসা । আঙ্কেলের কথার জন্য রাইসা চুপ হয়ে গেল । কিছুক্ষণ পর আবার বললো,,,,,,
রাইসাঃ ও এখানে কেন বাবা ।
আঙ্কেলঃ আজ থেকে ও এখানেই থাকবে । আর বাসার টুকটাক কাজ করবে ।
রাইসাঃ ও চাকর ।
ওর কথা শুনে এবার সত্যিই মন খারাপ হয়ে গেল । তারপর আবার আঙ্কেল বললো,,,,,,
আঙ্কেলঃ রাইসা আবার বেয়াদবী । যাও তুমি তোমার রুমে যাও ।
রাইসা রাগে ফুসতে ফুসতে এখান থেকে চলে গেল । তারপর আঙ্কেল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,,,,,,
আঙ্কেলঃ তুমি ওর কথাই কিছু মনে করো না বাবা । ও একটু এরকমই ।
আমিঃ না না আঙ্কেল সমস্যা নেই । আমি কিছুই মনে করি নি । আমরা গ্রামের ছেলে । আমাদের অভ্যেস আছে ।
আঙ্কেলঃ আচ্ছা আসো আমি তোমাকে তোমার রুম দেখিয়ে দিচ্ছি ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
তারপর আঙ্কেল একটা রুমে নিয়ে গেল । রুমটা বেশ সুন্দর । কিন্তু তারা যেখানে থাকে তার তুলনায় কম । কিন্তু আমার জন্য এটাই বা কম কিসের ।
তারপর আঙ্কেল বলল,,,,,,,,,
আঙ্কেলঃ আচ্ছা বাবা এখন তুমি একটু রেস্ট নাও । আমি পরে এসে দেখা করে যাবো ।
আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।
বলেই আঙ্কেল রুম থেকে চলে গেলেন । আমিও বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম । বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না ।
ঘুম ভাঙলো রাইসার ডাকে ।
রাইসাঃ এই ক্ষ্যাত উঠ ।
আমি ঘুমের ঘোরে রাইসার হাত ধরে বললাম,,,,,
আমিঃ নিশি আর একটু ঘুমাইনা প্লিজ ।
আমার হাত ধরা দেখে রাইসা হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে আমার গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ।
রাইসাঃ ঠাসসসসস ঠাসসসসসস ।
ওর থাপ্পড় দেয়াতে আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম । উঠে দেখি এটা নিশি না রাইসা । ও আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করছে ।
তারপর বলতে লাগলো,,,,,,
রাইসাঃ ছোটলোক গাইয়া ক্ষ্যাত তুই কোন সাহসে আমার হাত ধরিস ।
আমিঃ সরি রাইসা আমি বুঝতে পারি নি ।
রাইসাঃ ঠাসসসস ঠাসসসসস
আমি আবারও গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইলাম । এবার আরো অনেক জোরে মা*র*ছে । চোখ থেকে এমনিতেই পানি পড়ছে ।
কিন্তু এবার কেন মা*র*লো বুঝলাম না । তাই ওকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম,,,,,,
আমিঃ আবার মারলে কেন ?
রাইসাঃ তোর কত বড় সাহস তুই আমার নাম ধরে ডাকিস । আর সাথে তুমি করে বলছিস ।
আমিঃ তাহলে কি বলবো ।
রাইসাঃ মালিকদের কি বলতে হয় জানিস না ।
আমিঃ তবুও বলে দিলে ভালো হয় ।
রাইসাঃ মেডাম + আপনি করে বলবি ।
আমিঃ জ্বি ঠিক আছে (মাথা নিচু করে) ।
রাইসাঃ হুমম এখন যা আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে নিয়ে আয় ।
আমিঃ জ্বি মেডাম আনছি ।
রাইসাঃ আমি আমার রুমে গেলাম । ওখানে দিয়ে যাস ।
আমিঃ জ্বি যান ।
বলেই রাইসা ওর রুমে চলে গেল । আমি অনেক অসুস্থ । অসুস্থ শরীর নিয়ে তবুও উঠে রান্না ঘরে গিয়ে রাইসার জন্য চা বানালাম ।
গ্রামে মা বাবার কথা অনেক মনে পড়ছে । আম্মু আমাকে একটা কাজ করতে দিতো না । আর আজ সেখানে আমি অন্যের কাজ করে দিচ্ছি ।
একেই বলে নিয়তি । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
297
Views
4
Likes
1
Comments
3.0
Rating