গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
উনার সাথে অনেক ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হলো । আর উনি বড়লোক হলেও মনে কোনোই অহংকার নেই । শহরে এমন মানুষ ও পাওয়া যায় তাহলে ।

উনার সাথে কথা বলতে বলতে উনার বাসায় পৌছে গেছি । অনেক বড় বাসা উনার । আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছি । আগে কখনো এমন বাসায় ঢুকি নি ।

তারপর বাসার ভিতরে ঢুকলাম । আঙ্কেল একটা মহিলাকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন,,,,,,,

আঙ্কেলঃ ইনি তোমার আন্টি ।

আমিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।

আন্টিঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

তারপর আবার আঙ্কেলকে বললো,,,,,,,

আন্টিঃ এ কে ?

আঙ্কেলঃ যার কথা তোমাকে বলেছিলাম আমার গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে ছিল । আজ থেকে এখানেই থাকবে আর বাসার সব কাজ করে দিবে ।

আন্টিঃ ওহহ আচ্ছা ঠিক আছে ।

তারপর আঙ্কেলের মেয়েটা আসলো । আঙ্কেলের মেয়েটাকে দেখে আমি আরো অবাক হলাম । কারন আঙ্কেলের মেয়েটা আর কেউ নয় সে হলো ভার্সিটির সেই অহংকারী মেয়েটা ।

আমাকে দেখেই বললো,,,,,,,

মেয়েটিঃ কি রে ক্ষ্যাত তুই এখানে । ভিক্ষা চাইতে এসেছিস বুঝি ।

আমি উনার কথা শুনে মাথা নিচু করে রইলাম । তারপর আঙ্কেল ধমকের সুরে বললেন,,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাইসা এটা কোন ধরনের বেয়াদবী ।

ওহহ তার মানে মেয়েটার নাম রাইসা । আঙ্কেলের কথার জন্য রাইসা চুপ হয়ে গেল । কিছুক্ষণ পর আবার বললো,,,,,,

রাইসাঃ ও এখানে কেন বাবা ।

আঙ্কেলঃ আজ থেকে ও এখানেই থাকবে । আর বাসার টুকটাক কাজ করবে ।

রাইসাঃ ও চাকর ।

ওর কথা শুনে এবার সত্যিই মন খারাপ হয়ে গেল । তারপর আবার আঙ্কেল বললো,,,,,,

আঙ্কেলঃ রাইসা আবার বেয়াদবী । যাও তুমি তোমার রুমে যাও ।

রাইসা রাগে ফুসতে ফুসতে এখান থেকে চলে গেল । তারপর আঙ্কেল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,,,,,,

আঙ্কেলঃ তুমি ওর কথাই কিছু মনে করো না বাবা । ও একটু এরকমই ।

আমিঃ না না আঙ্কেল সমস্যা নেই । আমি কিছুই মনে করি নি । আমরা গ্রামের ছেলে । আমাদের অভ্যেস আছে ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা আসো আমি তোমাকে তোমার রুম দেখিয়ে দিচ্ছি ।

আমিঃ ঠিক আছে ।

তারপর আঙ্কেল একটা রুমে নিয়ে গেল । রুমটা বেশ সুন্দর । কিন্তু তারা যেখানে থাকে তার তুলনায় কম । কিন্তু আমার জন্য এটাই বা কম কিসের ।

তারপর আঙ্কেল বলল,,,,,,,,,

আঙ্কেলঃ আচ্ছা বাবা এখন তুমি একটু রেস্ট নাও । আমি পরে এসে দেখা করে যাবো ।

আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ।

বলেই আঙ্কেল রুম থেকে চলে গেলেন । আমিও বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম । বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না ।

ঘুম ভাঙলো রাইসার ডাকে ।

রাইসাঃ এই ক্ষ্যাত উঠ ।

আমি ঘুমের ঘোরে রাইসার হাত ধরে বললাম,,,,,

আমিঃ নিশি আর একটু ঘুমাইনা প্লিজ ।

আমার হাত ধরা দেখে রাইসা হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে আমার গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ।

রাইসাঃ ঠাসসসসস ঠাসসসসসস ।

ওর থাপ্পড় দেয়াতে আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম । উঠে দেখি এটা নিশি না রাইসা । ও আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করছে ।

তারপর বলতে লাগলো,,,,,,

রাইসাঃ ছোটলোক গাইয়া ক্ষ্যাত তুই কোন সাহসে আমার হাত ধরিস ।

আমিঃ সরি রাইসা আমি বুঝতে পারি নি ।

রাইসাঃ ঠাসসসস ঠাসসসসস

আমি আবারও গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইলাম । এবার আরো অনেক জোরে মা*র*ছে । চোখ থেকে এমনিতেই পানি পড়ছে ।

কিন্তু এবার কেন মা*র*লো বুঝলাম না । তাই ওকে আবার জিজ্ঞাসা করলাম,,,,,,

আমিঃ আবার মারলে কেন ?

রাইসাঃ তোর কত বড় সাহস তুই আমার নাম ধরে ডাকিস । আর সাথে তুমি করে বলছিস ।

আমিঃ তাহলে কি বলবো ।

রাইসাঃ মালিকদের কি বলতে হয় জানিস না ।

আমিঃ তবুও বলে দিলে ভালো হয় ।

রাইসাঃ মেডাম + আপনি করে বলবি ।

আমিঃ জ্বি ঠিক আছে (মাথা নিচু করে) ।

রাইসাঃ হুমম এখন যা আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে নিয়ে আয় ।

আমিঃ জ্বি মেডাম আনছি ।

রাইসাঃ আমি আমার রুমে গেলাম । ওখানে দিয়ে যাস ।

আমিঃ জ্বি যান ।

বলেই রাইসা ওর রুমে চলে গেল । আমি অনেক অসুস্থ । অসুস্থ শরীর নিয়ে তবুও উঠে রান্না ঘরে গিয়ে রাইসার জন্য চা বানালাম ।

গ্রামে মা বাবার কথা অনেক মনে পড়ছে । আম্মু আমাকে একটা কাজ করতে দিতো না । আর আজ সেখানে আমি অন্যের কাজ করে দিচ্ছি ।

একেই বলে নিয়তি । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
297 Views
4 Likes
1 Comments
3.0 Rating
Rate this: