নিশিথের রহস্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

নিশীথের রহস্য

গ্রামের নাম সোনারপুর। সবুজে ঘেরা এই ছোট্ট গ্রামটি দিনের বেলায় যেমন প্রাণবন্ত, রাতে তেমনই নির্জন। কিন্তু গ্রামের এক কোণে, পুরনো বটগাছের নিচে, এক ভুতুড়ে কুঁড়েঘর নিয়ে গল্পের শেষ নেই।

ঘরের মালিক ছিল জগনাথ, গ্রামবাসীদের ভাষায় "পাগলা জগনাথ"। সে নাকি রহস্যময় কিছু কাজ করত রাতের আঁধারে। এক রাতে, তার বাড়ি থেকে ধোঁয়ার মতো আলো উঠতে দেখেছিল কিছু মানুষ। এরপর হঠাৎ করেই জগনাথ নিখোঁজ হয়ে যায়।

কয়েক বছর পর, শহর থেকে আগত এক তরুণ, অভ্র, ঐ ঘরে থাকতে শুরু করে। সে বলেছিল, "আমি ভূত-টুত মানি না।" গ্রামবাসী তাকে বারবার সতর্ক করেছিল। কিন্তু অভ্রের কৌতূহল তাকে টেনে নিয়ে যায় ঐ কুঁড়েঘরে।

প্রথম রাতটা বেশ নির্ঝঞ্ঝাট ছিল। তবে দ্বিতীয় রাতে, অভ্র ঘুমিয়ে থাকার সময়, ঘরের ভেতর যেন ফিসফিস আওয়াজ শুনতে পায়। তার মনে হল, কেউ যেন বলছে, "এখান থেকে চলে যা..."

অভ্রের সাহস বেড়েই যায়। সে সিদ্ধান্ত নেয় রহস্য উদঘাটনের। এক গভীর রাতে, টর্চ হাতে, সে ঘরের কোণে মাটি খোঁড়া শুরু করে। কিছুক্ষণ পর তার হাতে উঠে আসে একটি ছোট পিতলের বাক্স। বাক্স খুলে দেখে, তার ভেতর কয়েকটি প্রাচীন সোনার মুদ্রা আর একটা চিঠি। চিঠিতে লেখা:
"যে এই বাক্স খুঁজে পাবে, সে যেন সোনাগুলো দান করে গ্রামে। এটি আমার শেষ ইচ্ছা। - জগনাথ"

অভ্র পরদিন সকালে গ্রামের সবাইকে ডেকে সোনাগুলো দেখায় এবং চিঠি পড়ে শোনায়। সোনাগুলো গ্রামের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগানো হয়। সেদিন থেকে সোনারপুরের মানুষ ঐ কুঁড়েঘরকে আর ভুতুড়ে বলে না, বরং জগনাথের ত্যাগের গল্প বলে।

গল্পটা তোমার কেমন লাগল?

205 Views
3 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: