রহস্যময় মেয়েটি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেলো। পিছনে ফিরে তাকানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। তাও সমস্ত সাহস সঞ্চার করে যেই না পিছনে ঘুরে তাকালাম, এরপর যা দেখলাম তা দেখে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে।

দেখলাম ঐ বাচ্চা মেয়েটি আমার হাত ধরে রেখেছে। তবে এবার সেই দশ বারো বছরের মায়াবী মুখের জায়গায় এক ভয়ানক বীভৎস মুখশ্রী ! দেখেই যেন হৃদস্পন্দন থেমে যেতে চাইলো। ঝলসে যাওয়া মুখমণ্ডলের মাঝে চোখের পরিবর্তে  দুটো লাল গর্ত, তাজা রক্তে পুরো মুখ মাখামাখি। সেই সাথে সাথে তার ভয়ঙ্কর পৈশাচিক হাসি শুনে আত্মা বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। দেখলাম সেই ভয়ঙ্কর মুখশ্রী নিয়ে মেয়েটা যেই না আমার মুখের কাছে চলে আসলো- আমি জোরে এক চিৎকার দিলাম। ব্যাস তারপর সব অন্ধকার।


এরপর আমার সাথে কি হয়েছে, ঐ মেয়েটাই বা কোথায় চলে গিয়েছে কিচ্ছু মনে নেই। পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরে দেখলাম বাড়িতে শুয়ে আছি, মা মাথার পাশে বসে। জ্ঞান ফিরতেই সুবাস বললো- গতকাল রাতে নাকি আমি দোকানঘরের নিচতলায় সিঁড়ির কাছে অচেতন হয়ে পড়ে ছিলাম। আমার চিৎকার শুনেই নাকি সুবাস সেখানে পৌঁছে গিয়ে আমার এই অবস্থা দেখতে পেয়ে বাড়িতে খবর দেয়।
এরপর মা  আমাকে গত রাতের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ,আমি সবটা খুলে বললাম।

গতকাল রাতের সমস্ত ঘটনা শোনার পর সকলের চোখে মুখেই এক আতঙ্ক লক্ষ্য করলাম। এমনকি সেদিনের সেই রাতের ঘটনাটা নিয়ে আমি নিজেও বেশ ভীত।

এরপর থেকে দুদিন আর দোকানে যাইনি। কিন্তু এখনো প্রতি মুহূর্তে যেন‌ মনে হয় আমার অগোচরে আমার ওপরে কেউ নজর রাখছে। আমার আশেপাশেই কেউ অদৃশ্যরূপে আমার সঙ্গ দিচ্ছে। এমনকি রাতে একা একা যখন আমার রুমে থাকি , তখন যেন কেমন একটা অদ্ভুত অনুভুতি হয়। মনে হয় যেন আমার রুমে আমি ছাড়াও দ্বিতীয় অন্য কারো উপস্থিতি রয়েছে। যদিও এগুলো মনের ভ্রম ভেবে উড়িয়ে দিতে চাই, তবুও সেদিনের সেই ঘটনা কিছুতেই মন থেকে মুছতে পারছি না। আর না তো মুক্তি পাচ্ছি সেই অজানা আতঙ্ক থেকে।

কথা বলতে বলতেই অমিতের সিগারেট শেষ হয়ে এলো। চা শেষ করে চায়ের কাপটা রাখতেই ওর ফোনে ফোন চলে এলো, কথা বলার জন্য গল্পের আসরে ভঙ্গ দিয়ে দোকানের বাইরে চলে গেলো, অমিত। এদিকে বাধনও তখন বললো-" সন্ধ্যা গড়িয়ে বেশ রাত হয়ে গেছে, চল বাসায় ফিরতে হবে। একে তো শীতের রাত। তার ওপরে চারপাশটা বেশ নির্জন । তাই এখনই বেরিয়ে পড়া ভালো।"

আমিও আনমনে বাধনের কথায় সম্মতি জানিয়ে চায়ের দোকান ছেড়ে বাড়িতে যাওয়ার সময় অমিতকে বললাম -" এই কয়টা দিন একটু সাবধানে থেকো। আজ তবে আসি, আরেকদিন না হয় আবারো একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া হবে।"

এই বলেই চলে আসার পথে সারাটা রাস্তা-আমি আর কোনো কথা বললাম না কারো সাথে। শুধু ভাবতে থাকলাম ঐ বাচ্চা মেয়ে আর অমিতের মুখোমুখি হওয়া সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার ব্যাপারে। সত্যিই তো আমাদের চারপাশে কতকিছুই না আছে, যেগুলো কিনা স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধির দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।


---------------------------------০---------------------------------
### গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা জানানোর অনুরোধ রইলো 💐।
174 Views
7 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: