অমিতের সাথে অনেকদিন পর দেখা। আমরা কেউই ভাবতেও পারিনি এভাবে হঠাৎ করেই অমিতের সাথে আমার আর বাঁধনের দেখা হয়ে যাবে। তবে যাই হয়েছে বেশ ভালোই হয়েছে।
অমিতকে চিনতে পারায় এবার অমিতও আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বলতে লাগলো-" কিরে, তোরা দুজনে মিলে যাচ্ছিস কোথায়? "
আমি বললাম -"ঐ বিকালে একটু ঘুরতে বের হয়েছিলাম, তবে এখন বাসায় ফিরছি ।"
এটা শুনেই অমিত বলে উঠলো - " বাসায় ফিরছিস মানে? অনেকদিন পর তোদের সাথে দেখা হয়েছে তাই এখনই বাড়ি ফেরা হচ্ছে না। আরো কিছুক্ষণ পর যাবি। এখন চল কোথাও বসে তিন বন্ধু মিলে আড্ডা দেই।"
অমিতের এমন প্রস্তাব আমি আর বাঁধন কেউই আর অস্বীকার করতে পারলাম না। অগত্যা সেই মুহূর্তে বাসায় ফিরতে গিয়েও আর বাসায় ফেরা হলো না।
এদিকে অমিত জিজ্ঞেস করলো-" কিরে কি খাবি তোরা?" আমি বললাম -"কিছু না। এমনিতেই পেট ভরা আছে।" তবে অমিতের প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলে উঠলো-" ভারী কিছু খাবো না । তবে শীতকাল তো তাই এক কাপ রঙ চা হলে মন্দ হয় না।"
বাঁধনের কথা শুনে অমিত নন্দ কাকাকে বললো দুই কাপ রঙ চা দিতে। তখন আমি বললাম -" কেন রে , তুই চা খাবি না?"
অমিত বললো -" না রে। এখন আর চা খাবো না। গত কয়েকদিন ধরে রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। এমনকি আজ বিকালেও ঘুমাতে পারিনি। তাই এখন আর চা খাবো না।"
কৌতুহলবশত আমি তখন অমিতকে জিজ্ঞেস করলাম -" কেন কি হয়েছে? রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, তা ডাক্তার দেখিয়েছো? "
আমার কথার উত্তরে অমিত চুপ করে রইলো। কোনো উত্তর দিলো না। বেশ কিছুক্ষণ পরে অমিত নীরবতা ভেঙে বলতে লাগলো -" সত্যি বলতে রাতে ঘুমাতে গেলেই এক অজানা ভয়ে ঘুম আসে না। গত দুদিন ধরে যদিও রাত জেগে স্বর্ণের কাজ করেছি তাই ঘুমানো হয়নি , কিন্তু তাও এক অজানা ভয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। "
অমিতের কথাগুলো শুনে পাশ থেকে বাঁধন বলে উঠলো-" তা ভয়টা কিসের- চোর ডাকাতের? অবশ্য স্বর্ণের কাজ যেহেতু করিস তো চোর ডাকাতের ভয় থাকাটাই স্বাভাবিক।"
বাঁধনের কথা শেষ হতে না হতেই অমিত বলে উঠলো -" আরে না , চোর ডাকাতের ভয় না। ভয়টা হচ্ছে অন্য কিছুর।"
তৎক্ষণাৎ আমি বললাম -" অন্য কিছুর মানে? ভূত-প্রেত বা অশরীরীর ভয় না কি?"
একথা বলতেই অমিত চুপ হয়ে গেলো। আর নীরবে সম্মতি জানালো।
এতক্ষণে পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে আরও রহস্যময় হয়ে উঠলো। কৌতুহলকে চেপে রাখতে না পেরে আমিও খুব আগ্রহী হয়ে উঠলাম পুরো ঘটনাটা জানার জন্য।
আমি আর বাঁধন মিলে বললাম অমিতকে পুরো ঘটনাটা খুলে বলতে। ততক্ষণে আমাদের জন্য চা এসে গেছে। এতক্ষণের জোরাজুরিতে অমিত প্রথমে বলতে না চাইলেও পরবর্তীতে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ওর সেই ভয়ের ব্যাপারে বলতে শুরু করলো।
চলবে....
রহস্যময় মেয়েটি
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
148
Views
8
Likes
0
Comments
5.0
Rating