আরে,আর কতো সাজবি?নিচে আয়।😒(নিচ থেকে আয়ান চেঁচিয়ে উঠলো)
আসছি।☺️(কণিকা)
কণিকারা আজ তার মামার বাড়ি যাবে।তাই তো এতো সাজুগুজু।
কণিকা আজ পড়েছে আয়ানের দেওয়া ড্রেসটা।
গোলাপী কালারের নায়রা।সাথে সাদা পুঁতি ও সাদা সুতার কাজ।
*****
গাড়িতে বসেও গল্পের বই পড়ছে আয়ান।
এতে কণিকা বিরক্ত।
কোথায় তার সাথে গল্প করবে তা না।
কণিকার মনের কথাটা যেন বুঝতে পারলেন কণক চৌধুরী।
ড্রাইভিং করতে করতে বললেন,আয়ান,কণিকার সাথে গল্প করো,বেচারী তো বোর হচ্ছে।
আয়ান এমন একটা ভাব ধরলো যে বাধ্য হয়ে কণিকার কথা শুনতে হচ্ছে।
কণিকা ব্যাপারটা বুঝলো।
জানিস ভাইয়া,আমাদের কলেজে একটা নতুন প্রফেসর এসেছে।একদম তোর মতো।☺️(কণিকা)
কীভাবে?🤨(আয়ান)
একদম তোর মতো গাধা,যেন ভাঁজা মাছটা উল্টে খেতে পারে না।😁(কণিকা)
আয়ান কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো।হঠাৎ, নিজের সিট বেল্ট খুলে আয়ান কণিকার উপর চলে এলো!
একটা ট্রাক এসে কণিকাদের গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়েছে।😱
সেজন্যই,আয়ান কণিকাকে নিজের দ্বারা আড়াল করে নিলো।
কণিকা কিছু বুঝে উঠার আগেই ট্রাকটা তাদের গাড়িকে ধাক্কা মারেছে।
সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেলো কণিকা।সব অন্ধকার।
কেউ কণিকার চোখে পানি ছিটালো।আস্তে আস্তে চোখ মেলল কণিকা।
মাথায় খুব ব্যাথা করছে তার।কাপালে হাত দিয়ে দেখলো কেটে গেছে।
কিন্তু,এটা সে কোথায় আছে?
অ্যাম্বুলেন্স!!!
তাড়াতাড়ি উঠে বসলো কণিকা।
কী করছো?পাশ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো।
কণিকা পাশে তাকালো,একজন মধ্যবয়সী ডাক্তার।সাথে আছেন একজন নার্স।
আমার মা-বাবা ভাইয়া কোথায়?🥺(কণিকা)
তাদেরকেও অন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে হসপিটালে নেওয়া হচ্ছে।☺️(ডাক্তার)
তারা কী ঠিক আছে।🥺(কণিকা)
সেটাতো হাসপাতালে নিয়ে গেলে বোঝা যাবে, কিন্তু সবাই অজ্ঞান।তোমার আঘাত সবচেয়ে কম লেগেছে।তোমার ভাই বোধহয় তোমাকে আড়াল করেছিলো।(ডাক্তার)
কণিকা কিছু বলল না।তার মাথা কাজ করেছে না।
You are so lucky!চলো এবার ড্রেসিং করা যাক তোমার।
বলে নার্সকে ইশারা করলেন।
এরপর কণিকার ড্রেসিং করা হলো।
আর দেখতে দেখতে তারা হাসপাতালে পৌঁছে গেলো।
কণিকা হাসপাতালে ঢুকে তার পরিবারকে খুঁজতে লাগলো।
একজন প্রবীণ ডাক্তার ওর দিকে এগিয়ে এলেন,মা তুমি একটু নিজের চেকআট করিয়ে নাও।তোমার পরিবারের তিনজনকেই অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে।☺️
না,আমি এখানে ওয়েট করব।🥺(কণিকা)
কিন্তু,ডাক্তার ওকে জোর করে চেকআপ করতে পাঠালেন।
কণিকার রিপোর্ট নরমাল আসলো।
কণিকা আবার ওয়েট করতে লাগলো।প্রায় আধা ঘন্টা পর একজন নার্স আসলো।
মেম,ডাক্তার বলেছেন,আপনার ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ।😔(নার্স)
কণিকার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো।সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লো।
তাছাড়া এখন কেউ নেই তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য।
ভাইয়া,তোকে ঠিক হতে হবে।🥺(কণিকা মনে মনে বলল)
আরও দুই ঘন্টা পরে অপারেশন শেষ হলো।
সেই প্রবীণ ডাক্তার কণিকার কাছে এলেন।
মা,তিনটে অপারেশনই সাকসেসফুল।☺️(ডাক্তার)
সত্যি?🥺(কণিকা)
কিন্তু,একটা সমস্যা আছে।তোমার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরেছে না।তোমার ভাইয়ের জ্ঞান আধ ঘন্টাতেই ফেরার কথা ছিলো,কিন্তু,এখনও ফিরছে না।😔(ডাক্তার)
মানে?😰(কণিকা)
আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।তোমার মা-বাবার জ্ঞান ফিরেছে।(ডাক্তার)
আমি কি দেখা করতে পারি?🥺(কণিকা)
হুম,নরমাল বেডে দেওয়া হয়েছে।(ডাক্তার)
ওলী তুই ঠিক আছিস?আয়ান কেমন আছে?😰(আয়শা চৌধুরী)
ভালো।তুমি কেমন আছো?☺️(কণিকা)
ভালো,তোর বাবা কেমন আছেন?😰(আয়শা চৌধুরী)
বাবাও ভালো আছে।আমি কেবলই দেখা করে আসলাম।☺️(কণিকা)
একটু আগে কণক চৌধুরী কেও একই কথা বলেছে কণিকা।
এত বড় মিথ্যা বলতে তার ভালো লাগছে না। কিন্তু কিছু করার নেই,আয়ানের জ্ঞান এখনও ফেরেনি।
My dear brother
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
177
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating