গল্পঃ গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা কার এসে আমাকে ধাক্কা মে*রে দেয় । আর আমি সাথে সাথে পড়ে যাই ।

সত্যিই ঢাকা শহরটা আমার জন্য না । চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে । শুধু বুঝতে পারছি আমার দিকে অনেক মানুষ ছুটে আসছে ।

মনে হচ্ছে আমি আর বাঁচবো না । পরিবারের কথা অনেক মনে হচ্ছে । সাথে নিশির সাথে করা স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো ।

তারপর আমার আর কিছুই মনে নেই । যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করলাম ।

আমার জ্ঞান ফেরা দেখেই একটা ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে আসলেন আর বললেন,,,,,,

লোকটিঃ এখন তুমি কেমন আছো বাবা ।

আমিঃ এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো । কিন্তু আপনি কে ?

লোকটিঃ তুমি আমার গাড়িতেই ধাক্কা খেয়ে ছিলে । আমি তো অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম । তুমি তো দুইদিন অজ্ঞান ছিলে ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা । তাহলে তো আপনাকে বিপদে ফেলে দিলাম আঙ্কেল ।

লোকটিঃ সমস্যা নেই । তুমি রেস্ট নাও । আমি ডাক্তারের সাথে একটু কথা বলে আসি ।

কিছুক্ষণ পর এসে বললো,,,,,,

লোকটিঃ আরো একদিন পর রিলিস করে দিবে । কিন্তু বাসায় প্রোপার ট্রিটমেন্ট করতে হবে আর রেস্ট নিতে হবে দশ দিন ।

আমিঃ কিন্তু আঙ্কেল আমার যাওয়ার কোথাও যায়গা নেই ।

আঙ্কেলঃ কেন ?

আমিঃ আমি বগুড়া থেকে এসেছি পড়াশোনা করতে । কিন্তু হলে রুম পাই নি । আর শহরের রাস্তা ঘাট ও চিনি না । রাতে ছিনতাইকারী সব নিয়ে চলে গেছে ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে তুমি চিন্তা করো না । আমার বাসাতেই থেকো ।

আমিঃ আঙ্কেল আরেকটা কথা ।

আঙ্কেলঃ কি বলো ।

আমিঃ আমার একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন পার্ট টাইম ।

আঙ্কেলঃ ঠিক আছে আমার বাসায় যেহেতু আছো তাই হাটবাজার,,গাছে পানি দেয়া,,ঘর ঝাড়ু দেয়া এগুলো পারবে ?

আমিঃ জ্বি আঙ্কেল পারবো ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে । তাহলে একদিন পর এসে আমি তোমাকে নিয়ে যাবো ।

আমিঃ ঠিক আছে আঙ্কেল ধন্যবাদ ।

তারপর উনি চলে গেল । ওনাকে দেখে ভালোই মনে হলো । আমি শুয়ে চুপচাপ রেস্ট নিতে লাগলাম ।

এই সময় আমার পরিবারের কথা অনেক মনে পড়ছে । নিশির কথা আরো বেশি মনে পড়তেছে । হয়তো অনেকবার আমার ফোনে ফোন দিয়েছে ।

কিন্তু ফোনটাই তো আমার কাছে নেই সেটা তারা কেমনে বুঝবে । যাইহোক এভাবে দেখতে দেখতে আরো একদিন কে*টে গেলো ।

আজকে আমাকে রিলিস করে দেয়া হবে । আঙ্কেল যথারীতি সময় মতোই চলে এলেন । এসে উনিই সব হসপিটালের বিল পে করলেন ।

আর আমাকে রিলিস করে দিলো । এখন হসপিটালের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি । আঙ্কেল আমাকে ধরে আছে । তারপর একটা কার গাড়িতে বসতে বললেন ।

উনি হয়তো অনেক বড়লোক । তারপর গাড়িতে বসে পড়লাম । গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে ।
হঠাৎ আঙ্কেল জিজ্ঞাসা করলো,,,,,,

আঙ্কেলঃ তোমার বাসা যেন কোথায় ?

আমিঃ জ্বি আঙ্কেল বগুড়া । বগুড়া জেলার ছোট্ট একটা গ্রামে থাকি । পড়াশোনার জন্য ঢাকা আসা ।

আঙ্কেলঃ গ্রামের সাথে আমার অনেক দুষ্টু মিষ্টি স্মৃতি জড়িয়ে আছে । গ্রামকে আমি অনেক মিস করি । কিন্তু তোমার আন্টি আর আমার মেয়ের জন্য গ্রামে যেতে পারি না । কারন ওরা গ্রাম পছন্দ করে না । তবুও আমি না বলে কয়েকবার গ্রামে চলে যাই ।

উনার কথা শুনে অনেক ভালো লাগলো । অন্তত কেউ তো আছে শহরে যে গ্রাম ভালোবাসে । উনি আরো বললেন,,,,,,,

আঙ্কেলঃ গ্রামের মানুষেরা সহজ সরল হয় । তোমাকে দেখলেই সেটা বুঝা যায় । একদম সাধারণ মানুষ । এজন্য তোমাকে আমার ভালো লাগছে ।

আমিঃ ধন্যবাদ আঙ্কেল ।

আঙ্কেলঃ হুমম তা তোমার পরিবারে কে কে আছেন ?

আমিঃ সবাই আছে । আমি,,আব্বু,,আম্মু,,বড় আপু,,চাচা,,চাচি,,চাচাতো বোন । আমরা যৌথ পরিবার ।

আঙ্কেলঃ গ্রামের যৌথ পরিবারের মজাই আলাদা । সেই সময় কে অনেক মিস করি ।

আমিঃ তাই । তাহলে আমি যখন গ্রামে যাবো আপনাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবো । দেখে আসবেন ।

আঙ্কেলঃ সত্যিই নিয়ে যাবে ।

আমিঃ হ্যাঁ আঙ্কেল ।

আঙ্কেলঃ ঠিক আছে ।

আমিঃ কিন্তু আঙ্কেল একটা কথা ।

আঙ্কেলঃ কি বলো ।

আমিঃ আমাকে কিন্তু ভার্সিটি যেতে দিতে হবে । ভার্সিটি থেকে এসে আমি আপনার বাসার সব কাজ করে দিবো ।

আঙ্কেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে যেও সমস্যা নেই ।

আমিঃ ধন্যবাদ আঙ্কেল ।

উনার সাথে অনেক ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হলো । আর উনি বড়লোক হলেও মনে কোনোই অহংকার নেই । শহরে এমন মানুষ ও পাওয়া যায় তাহলে ।

উনার সাথে কথা বলতে বলতে উনার বাসায় পৌছে গেছি । অনেক বড় বাসা উনার । আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছি । আগে কখনো এমন বাসায় ঢুকি নি ।

তারপর বাসার ভিতরে গিয়ে আমি আরো অবাক হলাম । কারন,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
311 Views
4 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: