নিশিঃ তুমি ফোন করো নি কেন সেজন্য ?
আমিঃ এখন তো করলাম । যা এখন খেয়ে নে । আমি যেন এর শুনি না তুই না খেয়ে আছিস । তাহলে কিন্তু আমি কষ্ট পাবো ।
নিশিঃ আমি না খেয়ে থাকলে তুমি কষ্ট পাবে ।
আমিঃ তোকে এতো বেশি জানতে হবে না । তুই চুপচাপ খেয়ে নে ।
নিশিঃ তাহলে আগে একটা কিসস দাও,,,,
আমিঃ কিহহহহহহহহহ 😮
নিশিঃ শুনতে পাও নি ।
আমিঃ পাইছি । তুই কি পা*গ*ল হয়ে গেছিস ।
নিশিঃ হ্যাঁ তোমার জন্য পা*গ*ল ।
আমিঃ আমি দিতে পারবো না ।
নিশিঃ যাও দিতে হবে না । আমিও খাবো না । দেখি তুমি কি করতে পারো ।
আমিঃ তোর এই পচা ব্লাকমেইল করা বন্ধ করবি কবে সেটা বল ।
নিশিঃ তোমার সাথে সারাজীবন ই চলবে । কীভাবে তোমার ভালোবাসা আদায় করতে হয় সেটা এই নিশি ভালোই যানে ।
আমিঃ থাক আর বেশি পাকনামো করতে হবে না ।
নিশিঃ তাহলে দিচ্ছো না কেন ।
তারপর আমি ফোনে নিশিকে কিসস করলাম । তারপর নিশি বললো,,,,,
নিশিঃ থ্যাংক ইউ ভাইয়া ।
আমিঃ হইছে এখন যা খেয়ে নে ।
নিশিঃ ঠিক আছে । ভালো ভাবে থাইকো তুমি ।
আমিঃ হুমম ঠিক আছে আল্লাহ হাফেজ ।
নিশিঃ আল্লাহ হাফেজ ।
বলেই আমি ফোনটা কেটে দিলাম । ল্যাম্পোষ্টের নিচে আলোতে মনমরা হয়ে বসে আছি । অনেক ক্ষুদাও লাগছে । তাই পাশের দোকান থেকে কেক আর কলা খেয়ে আবার ল্যাম্পোষ্টের ওখানে আসতেছি ।
কিন্তু কথায় আছে বিপদ যখন আসে চারিদিক থেকেই আসে । আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না ।
রাস্তায় হাঁটার সময় আমি পড়ে গেলাম কয়েকজন ছিনতাইকারীর হাতে । ছেলেগুলো এসে বললো,,,,,,
ছেলেটিঃ এই কি আছে বের কর না হলে ম*র*তে হবে ।
আমিঃ ভাই আমার থেকে নিয়েন না । আমি আজকেই ঢাকা শহরে এসেছি ।
কিন্তু কে শুনে কার কথা । আমার ফোন সহ টাকা পয়সা সব ছিনতাই করে নিয়ে চলে গেল । এখন আমি পুরাই অসহায় মানুষের ফিল পাচ্ছি ।
ল্যাম্পোষ্টের নিচে আলোতে ব্যাগ মাথায় দিয়ে কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না । খুব ভোরে ঘুমটা ভেঙে গেল ।
তারপর পাশেই ট্যাব কল থেকে ফ্রেশ হয়ে নিলাম । অনেক ক্ষুদা লাগছে । কিন্তু খাওয়ার জন্য পকেটে একটা টাকাও নেই । তাই শুধু পানি খেয়েই পেটের কিছুটা ক্ষুধা মিটালাম ।
কিছুক্ষণ পর ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । রাস্তায় ঘুমানোর কারনে শার্টে অনেক ধুলো বালি লেগে আছে । ওইটা নিয়েই ভার্সিটিতে গেলাম ।
ক্লাসে প্রবেশ করতেই সবাই আমাকে দেখে নাক ছিটকাতে লাগলো । আর সেই অহংকারী মেয়েটা তো বলেই বসলো,,,,,,,,
মেয়েটিঃ মনে হচ্ছে গোয়াল থেকে উঠে আসছে । এর সাথে এখন আমাদের ক্লাস করতে হবে । কপালটাই খারাপ ।
আমি শুনে কিছুই না বলে মাথা নিচু করে চুপচাপ একাই পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লাম । নিশির কথা অনেক মনে পড়েছে ।
নিশি আর এগুলো মেয়ের মধ্যে কত পার্থক্য । গ্রামের মেয়ের কতটা সহজ সরল হয় কোনো অহংকার নেই । আর এগুলো মেয়ে পুরোটাই তার উল্টা ।
এগুলো ভাবতে ভাবতে স্যার আসলেন । আমি মনোযোগ দিয়ে সব ক্লাস গুলো করলাম । ক্লাস শেষে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে আসলাম ।
আজকে একটা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতেই হবে । আর অনেক ক্ষুধাও লাগছে । না খেয়ে থাকার কারনে মাথা ঘুরতেছে ।
বাসাতেও ফোন করতে পারছি না ফোনটা ছিনতাইয়ের জন্য । আর এখানে আমার পরিচিত কেউ নেই যে তার থেকে ফোন নিয়ে বাসায় ফোন করবো ।
আর তাছাড়া ফোন করেই বা কি বলতাম । তাদেরকে কোনো প্রকার টেনশন দিতে চাই না । আর আমার ফ্যামিলি এতোটাও স্বচ্ছল নয় যে আমার জন্য টাকা দিবে ।
তাই পথ নিজেই দেখতে হবে । না খেয়ে মাথা ঘুরা অবস্থায় হাঁটার কারনে রাস্তার মাঝখানে আসছি বুঝতেই পারি নি ।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা কার এসে আমাকে ধাক্কা মে*রে দেয় । আর আমি সাথে সাথে পড়ে যাই ।
সত্যিই ঢাকা শহরটা আমার জন্য না । চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে । শুধু বুঝতে পারছি আমার দিকে অনেক মানুষ ছুটে আসছে ।
মনে হচ্ছে আমি আর বাঁচবো না । পরিবারের কথা অনেক মনে হচ্ছে । সাথে নিশির সাথে করা স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো ।
তারপর,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
692
Views
4
Likes
0
Comments
5.0
Rating