স্যারঃ হুমম এখন তুমি ক্লাসে যাও ।
আমিঃ ওকে স্যার । তবে আমি তো ক্লাস রুম চিনি না ।
স্যারঃ ঠিক আছে চলো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি ।
আমিঃ ধন্যবাদ স্যার ।
তারপর আমি সেখান থেকে স্যারের সাথে সোজা ক্লাস রুমে চলে আসলাম । স্যারের সাথে সাথেই ক্লাস রুমে ঢুকলাম । তারপর স্যার বললেন,,,,,,,,,,,,,
স্যারঃ অ্যাটেনশন অল স্টুডেন্ট ।
সবাই একদম চুপ হয়ে গেল । তারপর স্যার আবার বললেন,,,,,
স্যারঃ এ রাকিব । বগুড়ার এক ছোট্ট গ্রাম থেকে এসেছে । আজ থেকে তোমাদের সাথেই পড়াশোনা করবে ।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম ।
আমার কথা শুনে সবাই অনেক জোরে হাসতে লাগলো । তারপর স্যার রেগে গিয়ে বললেন,,,,,,,
স্যারঃ সেড আপ ।
স্যারের কথায় সবাই হাসা বন্ধ করে দিল । তারপর স্যার আবার বললেন,,,,,,
স্যারঃ তোমরা বেয়াদবের মতো হাসছো কেন । সালাম দেয়া কি খারাপ জিনিস নাকি । বেয়াদব কোথাকার । রাকিব তুমি গিয়ে বসে পড়ো ।
আমিঃ জ্বি স্যার ।
তারপর আমি গিয়ে চুপচাপ পিছনের একটা খালি বেঞ্চে বসে পড়লাম । প্রিন্সিপাল স্যার চলে গেলেন । স্যার আবার যথারীতি করাতে লাগলেন ।
ক্লাস শেষ করে বের হয়ে যেতেই হঠাৎ একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলেই বসলো,,,,,
মেয়েটিঃ ক্ষ্যাত একটা । কোথা থেকে যে এগুলো উঠে আসে আল্লাহ জানে ।
আমি মেয়েটির কথায় মাথা নিচু করে আছি । পোশাক দেখে বুঝলাম অনেক বড়লোকের মেয়ে সাথে অহংকারও আছে ।
আমি কিছু না বলে সেখান থেকে হল প্রিন্সিপালের কাছে আসলাম । দরজায় নক দিয়ে বললাম,,,,,
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম স্যার ।
স্যারঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
আমিঃ স্যার ভিতরে আসবো ?
স্যারঃ এসো ।
আমিঃ ধন্যবাদ স্যার ।
স্যারঃ হ্যাঁ বলো কি বলবে ?
আমিঃ স্যার আমি রাকিব । বগুড়া থেকে এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি । ঢাকায় আমার আপনজন বলতে কেউ নেই । তাই যদি হলে একটা রুম পেতাম আর প্রিন্সিপাল স্যার হয়তো আপনাকে বলেছে নিশ্চয়ই ।
স্যারঃ হ্যাঁ বলেছে । কিন্তু....
আমিঃ কিন্তু কি স্যার ।
স্যারঃ সরি আমি দিতে পারছি না । কারন রুম সব বুকিং হয়ে গেছে । বরং এক রুমে চার পাঁচজন করে রুম শে*য়া*র করে থাকছে । তবুও জায়গা নেই । তোমায় কেমনে দিবো ।
স্যারের কথায় আশাহীন হয়ে পড়লাম । এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । মনমরা হয়ে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে আসলাম ।
আগে থাকার জায়গা খুজতে হবে । ঢাকার অলি গলি তো কিছুই চিনি না । বিকালে ক্যাম্পাস থেকে বের হইছিলাম তাই হাতে সময় পাই নি ।
ঢাকার অলি গলি কিছুটা পেঁচানো । তাই ওখানেই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম বুঝতেই পারি নি । অবশেষে একটু চিনে মেস খুঁজে পেলাম সেটাতেও রুম খালি নেই ।
আসলে মেয়েটা ঠিক কথাই বলেছে । আমাদের মতো গ্রামের ছেলেদের জন্য ঢাকা শহর না । কপালটাই খারাপ ।
রাত হয়ে গেছে । আমি রাস্তার ল্যাম্পোষ্টের নিচে আলোতে বসে আছি । হঠাৎ বাসার কথা মনে হতেই নিশির কথা মনে পড়লো । নিশি তো ফোন করতে বলেছিল ।
তাই তাড়াতাড়ি করে ফোন বের করে আব্বুকে ফোন দিলাম । ফোন একটু বাজতেই আব্বু রিসিভ করলো,,,,,
আমিঃ হ্যালো আসসালামু আলাইকুম আব্বু ।
আব্বুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা । কেমন আছিস তুই ।
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি । তোমরা কেমন আছো আব্বু ।
আব্বুঃ আমরাও ভালো আছি । শুধু নিশি খাওয়া দাওয়া করছে না ।
আমিঃ কেন ওর কি হইছে ?
আব্বুঃ তুই ফোন করিস নি তাই ।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে ওকে তাহলে একটু ফোন টা দেন ।
আব্বু নিশিকে ডাকতেছে আমি ফোনে সেটা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি ।
আব্বুঃ নিশি মামুনি ।
নিশিঃ জ্বি বড়আব্বু ।
আব্বুঃ রাকিব ফোন করেছে তোমার সাথে কথা বলবে । তাড়াতাড়ি আসো ।
নিশি অনেক খুশি হয়ে ওর রুম থেকে দৌড়ে আব্বুর কাছে এলো । এসেই আব্বুর থেকে ফোন নিয়ে এক নিঃশ্বাসে বললো,,,,,,,,,
নিশিঃ হ্যালো ভাইয়া । কেমন আছো তুমি । তোমাকে তো গিয়েই ফোন করতে বললাম তুমি করলে না কেন । জানো কত চিন্তা হয়েছে আমার । তুমি খুব খারাপ । আমাকে ভালোইবাসো না তুমি ।
আব্বু যে ওর পাশে আছে সেটা নিশি দেখছেই না । এগুলো বলেই যাচ্ছে । তারপর আব্বু নিজেই সরে গেল । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ আমি নেমেই ভার্সিটিতে গেছিলাম । তাই করতে পারি নি ।
নিশিঃ হ্যাঁ তুমি এমনি । সবার কথা মনে থাকলেও আমার কথা মনে থাকে না ।
আমিঃ বেশি ডাইলগ দেস না । এখন বল খাস নি কেন ?
নিশিঃ তুমি ফোন করো নি কেন সেজন্য ?
আমিঃ এখন তো করলাম । যা এখন খেয়ে নে । আমি যেন এর শুনি না তুই না খেয়ে আছিস । তাহলে কিন্তু আমি কষ্ট পাবো ।
নিশিঃ আমি না খেয়ে থাকলে তুমি কষ্ট পাবে ।
আমিঃ তোকে এতো বেশি জানতে হবে না । তুই চুপচাপ খেয়ে নে ।
নিশিঃ তাহলে আগে একটা কিসস দাও,,,,
আমিঃ কিহহহহহহহহহ 😮,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
301
Views
6
Likes
0
Comments
4.0
Rating