শেষ বিকেলের স্মৃতি (পাট ৪ )

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পলাশ ও অনামিকার মাঝের কথা বলার পর, শহরের আকাশে সূর্য কিছুটা আরও নিচে নেমে এসেছিল। পলাশ অনুভব করছিল, এই শহরের প্রতিটি গলি, প্রতিটি কোণ যেন তাকে স্মৃতি ফিরে এনে দেয়, আর সে প্রত্যেকটি স্মৃতি নিয়ে একসাথে হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু জীবনের সেলফি আর একসাথে জারি রাখা ভালোবাসা ছিল একটি গল্প, যেটি অল্প সময়ের জন্য সুন্দর ছিল, কিন্তু শেষ হয়ে গেছে।

পলাশ (নিজের মধ্যে): "অনামিকা আমাকে ক্ষমা করেছে, কিন্তু এই সময় আমাকে বুঝিয়েছে, যে আমি যা হারিয়েছি, তা আর ফিরে পাবো না।"

সে বাড়ি ফিরছিল। পথচলায় কেবল একটাই প্রশ্ন তাকে তাড়া করছিল—এখন তার কী করার দরকার ছিল? পলাশ জানত, তার লেখালেখির প্রতি প্রেম ছিল, কিন্তু সেই প্রেমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এক সময়ের ভালোবাসা আর হারানোর যন্ত্রণা তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। এদিকে, অনামিকা তার নতুন জীবন তৈরি করেছে, তার বাড়ির গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারছিল না, কীভাবে জীবনটা আবার ঠিক পথে আসবে।

কিছুদিন পরে, পলাশ সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনামিকার জন্য কিছু করতে চায়। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, অনামিকার কাছে তাকে আরো একবার ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু সে জানত, অনামিকার নতুন জীবন ও সংসার এখন পুরোপুরি নিজের পথে চলতে শুরু করেছে। তার সিদ্ধান্ত ছিল, সে আর কোনো প্রকারের বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে, অন্তত তার হৃদয়ের কথা সে জানাতে চাইতো।

পলাশ একদিন, তার পুরনো লেখার টেবিলের কাছে বসে, অনামিকার নাম দিয়ে একটি নতুন গল্প লিখতে শুরু করল। তার কলম ছিল যেন জীবনের অভ্যন্তরীণ কষ্টের প্রকাশ। সে লিখছিল, “এটি আমার হৃদয়ের গল্প, একটি পুরনো ভালোবাসার স্মৃতি।”

গল্পের পঙ্‌ক্তিগুলো যখন লেখা হচ্ছিল, পলাশ যেন অনামিকার মুখ, তার হাসি, তাদের একসাথে থাকা সেই মুহূর্তগুলো আর তার চোখের দৃষ্টিতে ফিরে পাচ্ছিল। তবে, পলাশ জানত, এ সব কিছু অতীত হয়ে গেছে। তার লেখার মধ্যে ছিল একটি গভীর অনুভূতি, যে অনুভূতিতে শেষ বিকেলের সূর্যাস্তের মত শোক ও কষ্ট ছিল।

পলাশ (লিখতে লিখতে): "অন্তরে আমি জানি, যে সময়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের পথ মিলিয়ে গেছে, তবুও আমি চাইব, এই গল্পটি সবার কাছে পৌঁছাক, যেন কেউ আমার মতো ভুল না করে।"

একদিন পলাশ তার সেই লেখা নিয়ে শহরের পুরনো লাইব্রেরিতে চলে গেল। সেখানে বইয়ের মধ্যে নিজের লেখা রেখে সে আবার জীবনের কিছুটা অংশের সঙ্গ পেয়েছিল। লাইব্রেরির এক কোণে বসে, সে আবারও অনামিকার কথা ভাবছিল, আবারও তার কাছে ফিরে আসার একটা আভাস খুঁজছিল।

বইটি যখন প্রকাশিত হয়, পলাশের হৃদয়ে একটা তৃপ্তি ছিল। সে জানত, এই বইয়ে সে নিজের কষ্ট ও অনুভূতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে, আর অনামিকা হয়তো কখনো পড়বে না, কিন্তু এই গল্পই ছিল তার জীবনের ভালোবাসার শেষ সাক্ষী।

দিন চলে যাচ্ছিল, পলাশ এখন আরো একা, কিন্তু তার জীবনের লক্ষ্য আর স্বপ্ন কোনোভাবেই থামেনি। সে জানতো, স্বপ্ন পূরণের পথে গিয়ে যদি কিছু হারানো যায়, তবে সেটি আবার একদিন ফিরে আসবে। তবে, সে চিরকাল কিছু হারানোর জন্য দুঃখিত থাকবে।

আর সেই শেষ বিকেলের স্মৃতি তাকে চিরকাল তাড়া করে যাবে।

চলবে...

পঞ্চম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...

127 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: