পলাশের চোখে জল ছিল। ডায়েরির প্রতিটি পাতায় অনামিকার ভালোবাসা আর কষ্টের আচ্ছাদিত শব্দগুলি তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। সে পার্কের বেঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় ধরে ডায়েরি পড়ল, এবং প্রতিটি শব্দ যেন তার ভিতরে এক নতুন উপলব্ধি তৈরি করছিল।
অনামিকা তাকে কখনোই না বললেও, তার হৃদয় সবসময় একেই চেয়েছিল। সে কখনো জানত না, যে অপেক্ষাটা এতটা কষ্টের হবে, যে তাতে কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। তবে, পলাশ তার জীবনে ফিরে এসে যেটা বুঝতে পারে, সেটা হল—নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে সে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারিয়েছে, সেটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
পলাশ (নিজের মধ্যে): "আমি তো শুধু নিজের স্বপ্নের পেছনে দৌড়েছিলাম... কখনো ভাবিনি যে এই পথে আমি কাউকে হারিয়ে ফেলব, কাউকে যে আমাকে এত ভালোবাসতো।"
ডায়েরির শেষ পাতায় এক দীর্ঘ লেখার পর, পলাশ দেখতে পেলো, অনামিকা লিখেছে,
ডায়েরির শেষ পাতা:
“আজ আমি তোমার কাছে কিছু বলতে চাই। আমি জানি তুমি অনেক কিছু অর্জন করবে, কিন্তু আমাকে শুধু একবার ফিরে দেখে তোমার জন্য অপেক্ষা করা এক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, এটা জানো। তুমি না জানলেও আমি জানি, আমি কখনো তোমাকে ভোলব না, কিন্তু আমার জীবন আমার পথেই চলতে হবে। তোমার জন্য অপেক্ষা করতেই আমি অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু এই অপেক্ষা আমাকে শিখিয়েছে, কখনো কারো জন্য নিজের জীবন থামানো উচিত নয়। তবে, আমি জানি তোমার স্বপ্নের পথ কখনো শেষ হবে না, আর তোমার মাঝে আমি হবো এক ছোট্ট স্মৃতি।”
পলাশের চোখে তখন শুধুই একরাশ কান্না ছিল। ডায়েরি বন্ধ করে সে আকাশের দিকে তাকাল। দিন শেষে সূর্য যখন মুছতে বসেছিল, তখন পলাশ বুঝতে পারল, তার কাছে আসলে কোনো পুরস্কার, কোনো সাফল্যই সত্যিকারভাবে মূল্যবান ছিল না, যদি সে নিজের ভালোবাসাকে হারিয়েছিল।
সে সিদ্ধান্ত নিল, আজকের দিন থেকে তার সবকিছু বদলে যাবে। তিনি অনামিকার জন্য কিছু করতে চান, তাকে ফিরে পেতে চান, তবে সেটা কতটা সম্ভব, তা জানে না। পলাশ পার্কের বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পায়ে পায়ে শহরের দিকে চলে যেতে লাগল। তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ছিল—অনামিকা কি তাকে একবারও ফিরিয়ে দেখবে?
পরবর্তী দিনগুলোতে পলাশ চেষ্টা করে তার ভুলগুলো সংশোধন করতে। সে অনামিকার জায়গায় গিয়ে সে বুঝতে পারে, তার জীবনের পথে কতটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কিন্তু অনামিকা চলে গেছে, আর তার হৃদয়ের জায়গা পূর্ণ হওয়ার নয়।
পলাশ (নিজের মধ্যে): "আমি যে তাকে নিয়ে কিছুই করতে পারলাম না, সে তো জানত, আমার স্বপ্ন পূর্ণ হলে হয়তো আমার সাথে থাকতে পারবে না।"
পলাশ একদিন আবার সেই ছোট্ট শহরের পুরনো গলির পাশ দিয়ে হাঁটছিল, যখন সে দেখতে পেল এক পরিচিত মুখ। অনামিকার মা। পলাশ থমকে দাঁড়িয়ে গেল, অনামিকার মা তাকে দেখতে পেলেন।
অনামিকার মা: "পলাশ, তুমি ফিরে এসেছো? অনামিকা তোমাকে অনেক ভালোবাসতো। আমি জানি, তুমি তার জন্য অনেক কিছু করতে চেয়েছিলে, কিন্তু কখনো সময়টা তার পক্ষে ছিল না।"
পলাশ কিছু বলতে পারল না, শুধুমাত্র মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তার অন্তর থেকে বের হয়ে আসছিল এক অগণিত অনুতাপ।
চলবে...
তৃতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন...
শেষ বিকেলের স্মৃতি (পাট ২ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
184
Views
2
Likes
0
Comments
5.0
Rating