মায়া (শেষ পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
- ব্যাস,হয়েছে তোমার কথা?
- "আমাকে বলতে দাও আবিদ। আমার বিয়ের তিন মাস পরেই ওর বাবার সাথে আমার অস্ট্রেলিয়া চলে যেতে হয়। ছয় মাসের মাথায় আমি জানতে পারি,আমি প্রেগন্যান্ট। এটা শুনে আমার যতটা খুশি হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেলাম। কারণ কি জানো? কারণ হলো ওর বাবা অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের সাথে মেলামেশা করতো। পার্টি করত, মদের ক্লাবে যেত। আমি ভেবেছিলাম আমার এই ছোট্ট মেয়েটি পৃথিবীতে আসলে বোধহয় ভালো হয়ে যাবে। তা আর হলো না উল্টো আরো খারাপ হতে শুরু করল। আমার মেয়ে নায়শা এই পৃথিবীতে আসার এক বছর পরে আমাদের সেপারেশন হয়ে যায়, আইমিন ডিভোর্স।
এরপরে আমি আমার মতো করে চলতে শুরু করলাম। অস্ট্রেলিয়াতে ছোট্ট একটা জব করি। আমি এবং আমার মেয়েকে নিয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখলাম। তোমার ফোন নম্বর আমি অনেক খুঁজেছি। তোমার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়ছি অনেকবার, কিন্তু তোমাকে আর খুঁজে পাইনি।
এক মাসের ছুটিতে আমি বাংলাদেশে এসেছি। আমার পরিবারের কাছে একদিনও থাকিনি বাবা মায়ের কাছেও দেখা করতে যাইনি। দেশে এসে তোমার খোঁজে বেরিয়ে পড়েছি। তাইতো কাল তোমাকে খুঁজে পেলাম। এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলাম, কিছুদিন পরে আমি আবার চলে যাবো অস্ট্রেলিয়াতে। আমি শুধু তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি, তুমি কি আমাকে ক্ষমা করে দিবে? "
এসব বলে মায়া আমার দুটি হাত ধরে অঝোরে কান্নার শুরু করলো। আমি মায়ার হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম...
- আমি তো তোমাকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। ভালোবাসার মানুষের উপরে কি রাগ অভিমান করে থাকা যায়? আমি যদি তোমাকে ক্ষমা না করি তাহলে তো তোমার উপরে আমার অভিশাপ দেওয়া হবে। কখনো চাইনি তুমি খারাপ থাকো। আমি চাই তুমি সব সময় ভালো থাকো।
কিছুক্ষণ পরেই ট্রেন চলে আসলো। মায়া ট্রেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন আমার খুব ইচ্ছে করছিল মায়ার হাতটি ধরে বলি...
"প্লিজ মায়া তুমি আমার হয়ে থেকে যাও। যা হওয়ার হয়েছে। চলোনা আমরা আবার নতুন করে শুরু করি। "
কিন্তু পারলাম না। যদি কখনো মায়া আমার জীবনে ফিরে আসে আমি সেদিন মায়াকে সাদরে গ্রহণ করে নিব। আমি যে মায়াকে বড্ড ভালোবাসি।
(সমাপ্ত)
ভালো লাগলে লাইক আর ফলো দিয়েন যাতে সহজেই পরবর্তী গল্প পড়তে পারেন।
ধন্যবাদ..
237
Views
12
Likes
3
Comments
3.5
Rating