আমার প্রাক্তনের মেয়েটা পেছন থেকে এসে বললো...
"আমার মাম্মাম তোমাকে ডাকছে আঙ্কেল।"
-কে তোমার মাম্মাম,মামুনি?
- ওই যে বসা।
আমি আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম। গিয়ে পেছনে দাঁড়ালাম।
-আমাকে ডেকেছেন?
পেছন ঘুরতেই কিছুটা অবাক হলাম। এতো মায়া। মায়াকে দেখে আমি পিছু হটতে গেলাম। মায়া বলে উঠলো...
- দাঁড়াও।
- কিছু বলবে?
-হ্যা, আমাকে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া যাবে? তাহলে কিছু কথা বলতাম।
- হ্যা বলো কি বলতে চাও?
- তোমাকে আমি তিনটা বছর ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি। তুমি সেই যে এই শহর ছেড়ে চলে গেলে, তোমাকে কোথাও খুঁজে পেলাম না। তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে?
- যে শহরে আমার কোন অস্তিত্ব নাই। যে শহরে আমার জন্য দেয়ালে দেয়ালে বেদনার ছাপ লেগে আছে। সেই শহরে আমি কি করে থাকি?
- তোমার কি কখনো জানতে ইচ্ছে হয়নি, আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কিভাবে আছি?
- আমার মন তো অনেক কিছু জানতে চায়, তবুও নিজেকে সংযত রেখে নিজের মতো করে চলতে শিখেছি।
- তুমি অনেক পাল্টে গেছো আবিদ।
- পাল্টে গেছি এটা সত্য। যেদিন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি সেদিন থেকেই নিজেকে নতুন করে করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
- তোমার ফোন নম্বরটা কি আমাকে দেওয়া যাবে? সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আমার ফিরতে হবে।
- তোমার নাম্বারটা আমাকে দাও, যখন আমার সময় হবে তখন আমি তোমাকে কল দিব।
বিগত চার বছর পরে মায়ার সাথে আমার দেখা। মায়া আমার জীবন থেকে হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল। বিনা অজুহাতে বিনা কারণেই। আমি মায়াকে আর খুঁজে পেলাম না। কয়েক দিন পরে আমি জানতে পারি মায়ার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তখন আমি অনেক ভেঙ্গে পড়েছিলাম। সুইসাইড করতে গিয়ে কোনো ক্রমে আমি বেঁচে ফিরি। আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কারণটা যদি মায়া আমাকে বলতো, তাহলে আমার এত কষ্ট লাগতো না। কিন্তু না বলেই আমার জীবন থেকে মায়া চলে গেল। এই কষ্ট আমার বুকের ভেতর চেপে রাখতে রাখতে পাথরের মত হয়ে গিয়েছি।
আমি যখন ভার্সিটিতে পড়াশোনা করতাম। সেই ভার্সিটিতেই মায়ার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। মায়া ছিল আমার এক ব্যাচ জুনিয়র। কিন্তু আমাদের বাসা পাশাপাশি হওয়ার কারণে ভালো একটা সখ্যতা তৈরি হয়। যে সখ্যতা থেকে তৈরি হয় ভালোবাসা। খুব বেশি না, আমাদের সম্পর্ক ছিল মাত্র দুই বছরের।
বলা নেই কওয়া নেই, হুট করে মায়া গায়েব। ভার্চুয়ালের সমস্ত জায়গা থেকে আমাকে ব্লক। এবং হুট করেই মায়ার বিয়ে হয়ে যায়।
আমি বড্ড অভিমান নিয়ে সেই শহর থেকে আমি চলে আসি। যে শহরে আমার ভালোবাসা নেই, যে শহরে ভালোবাসার স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেই শহরে আমি মৃত ভালোবাসা জড়িয়ে কি করে থাকবো? আমি পড়ালেখাটা পর্যন্ত ছেড়ে দেই। দিব্যি পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলাম। লেখাপড়ায় মন বসলো না। কিছুই ভালো লাগত না। শেষ পর্যায়ে বুঝলাম আমার দ্বারা আর পড়ালেখা হবে না। আমি নিজের চেষ্টায় একটা ব্যবসা করতে শুরু করি।
আজ হঠাৎ করেই মায়ার মেয়েটি আসে। সে আমাকে ডেকে নিয়ে যায় মায়ার কাছে৷ মেয়েটি হয়েছে একেবারে ওর মায়ের মত। চোখ মুখে মায়ার ছাপ লেগে আছে।
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম মায়ার সাথে কথা বলবো না। ওর থেকে দূরে চলে যাব , কিন্তু মায়া আমার সাথে কথা বলতে চাইলো।
আমি জানি না এখানে কেন মায়া এসেছে? হতে পারে আমার খোঁজে বা আমাকে দেখতে পেয়ে ওর মেয়েটিকে আমার কাছে পাঠিয়েছে।
গভীর রাতে মায়াকে ভাবতে ভাবতে আমার ইচ্ছা জাগলো মায়াকে একটা ফোন করি, অন্তত এতোটুকু জানতে চাই যে কেনো আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল?
ফোন দিতেই মায়া ফোনটা রিসিভ করল। আমি কোন কিছু বলার আগেই মায়া বলে উঠলো...
- আবিদ আমি তোমার ফোনটার অপেক্ষায় ছিলাম।
- হঠাৎ করে আমার সামনে কেন আসলে? কেনই বা আমার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে?
- যে অভিমান নিয়ে তুমি আমাকে এখনো ভুল বুঝে আছো সেই অভিমানটা আমি ভেঙ্গে দিতে চাই। তুমি অন্তত আমাকে কিছুটা সময় দাও।
- দেখো আমি নতুন করে কোন কিছু জানতে চাই না। শুধু বলো কেন হঠাৎ করে আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেলে?
- বাধ্য হয়ে আমার বিয়েটা করতে হয়।
- ব্যাস! আমি আর কিছু জানতে চাই না। বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছো এটাই আমার জানতে বাকি ছিল।
-আর কিছু জানতে চাইবে না?
- না। নতুন করে আর কোন কিছুই জানতে চাচ্ছি না , তবে হঠাৎ করে তুমি আমার সামনে না আসলেও পারতে।
- তোমার সামনে আসাটা কি আমার খুবই অপরাধ হয়ে গিয়েছে?
- অপরাধ হয়েছে কিনা আমি জানিনা তবে তোমাকে দেখলে আমি না কোনভাবেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনা। সত্য কথা বলতে আমার এখনো মনে হয় তুমি আমার সেই মায়া হয়েই আছো।
-বিগত তিন বছর পরে আমি অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরেছি। আজ চার দিন হল দেশে এসে তোমাকে খুঁজতে আমি তোমার শহরে এসেছি।
- বেশ ভালো করেছো। তুমি এখান থেকে চলে যাও। তাহলে আমি খুশি হব।
- হ্যাঁ আমি কাল চলে যাব তার আগে কি তুমি আরেকটাবার আমার সামনে আসতে পারবে?
- আমি আর চাইনা তোমার সামনে যেতে।
- প্লিজ আবিদ! প্লিজ একটা বার তুমি আমার সামনে আসো আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
-আচ্ছা ঠিক আছে কখন এবং কোথায় আসতে হবে?
- আগামীকাল দুপুরে রেলস্টেশনে চলে এসো।
পরের দিন আমি মায়ার সাথে দেখা করতে রেলস্টেশনে যাই। এক কর্ণারে মায়া ওর মেয়েটির হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভবত আমার অপেক্ষা করছে। দূর থেকে লক্ষ্য করলাম মায়া এক নজরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাকে দেখেই যেন ওর অপেক্ষার প্রহর টা শেষ হল।
মায়ার পাশে গিয়ে বসলাম। আমার পাশে এসে একটা হাত ধরে বলল...
-আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। তোমার সাথে যেদিন আমার শেষ দেখা হয় সেদিনই আমার কাছ থেকে আমার বাবা ফোনটা নিয়ে নেয়। এবং সেদিন রাতেই আমাকে বিয়ে দিয়ে দেয় এক প্রভাবশালীর ছেলের সাথে।
আমি কি করবো তখন বুঝতে পারছিলাম না। আমি রাগে ক্ষোভে সেদিন অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলি। এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় হসপিটালে। প্রায় দুই সপ্তাহ আমি হসপিটালে ভর্তি ছিলাম। তারপর আমি তোমার সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমি পারিনি। তুমি কষ্ট পাবা ভেবে পরে আর যোগাযোগ করতে চাইনি।
- ব্যাস,হয়েছে তোমার কথা?
- "আমাকে বলতে দাও আবিদ...
মায়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
395
Views
7
Likes
4
Comments
4.2
Rating