আশিক গেট খুলে ফারিহাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বের হলো ,,,, কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর আশিকের বন্ধু অনিকের সাথে আশিকের দেখা হল । আশিক যেন মুখ লুকিয়ে যাচ্ছে আর মনে মনে ভাবছে কোনভাবেই যেন এদিকে না চায় অনিক ।
আমি এত বড় লজ্জায় পড়তে পারবো না । এগুলো ভাবতে ভাবতে নিচের দিকে মাথা দিয়ে হাঁটছে । তখনই ফারিহা অনিককে দেখতে পেল ,,, ছোট ফারিহা তো আর কিছু বোঝেনা । অনিক চাচ্চু অনিক চাচ্চু বলে ডাক দিল অনিককে ।
অনিক তো তাদেরকে দেখে একটি হাসি দিয়ে ফেলল ।
আশিক : এই ফারিহা কিসের জন্য তুই অনিককে ডাকলি ,, ডাক না দিলে কি তোর হতো না । এত জ্বালাস কেন তুই বলতো ।
ফারিহা : চাচ্চু তুমি আমাকে বোকা দিচ্ছ কেন ? আমি কি করলাম তোমাকে আবার । আমি কিন্তু কান্না করে দিব । এই বলে ফারিয়া কান্না করতে লাগলো ।
আশিক : সরি চাচ্চু তুমি কেঁদোনা,, সোনা মনি বলছি ,তুমি আমার লক্ষী মা তুমি কেদনা ।
এভাবে আদর করার পর ফারিহা চুপ হলো ,, কিন্তু আশিকের জন্য বিপদ কোনোভাবেই যাচ্ছে না । পিছন থেকে অনিক ডাকছে ,, তারা দুজন তো আগে আগে হাঁটছে , আর পিছন থেকে অনিক ডাকতেই লাগছে তাদেরকে ।
অনিক : ওই আশিক আশিক তোকে কতবার ডাকছি ধারাস না কেন ? এত লুকিয়ে চলে যাচ্ছিস কেনো ? তোর সাথে আমার অনেক কথা আছে ?
এত ডাকাডাকি শোনেও যেন আশিক পিছন ফিরে তাকাচ্ছে না , এর কারণ হচ্ছে ওই অনিক এসেই জিগাবে তোর বাবা নাকি বিয়ে করছে এই লজ্জায় । এত ডাকাডাকির পরেও যেন পিছন ফিরে তাকাচ্ছে না আশিক । ফারিহাদের স্কুল বাড়ির পাশেই এর জন্য তারা আর গাড়িতে আসে না দুজনে বেড়াতে বেড়াতে এসে পড়ে হেটে ।
আজকে আশিক আর হাটবে না আশিক একটি রিক্সা নিয়ে ফারিহা কে নিয়ে তার স্কুলে চলে গেল । ফারিহা কে ক্লাসে ঢুকিয়ে রেখে আশিক স্কুলের মাঠে এক কোনায় বসে রইল ।
আর এদিকে ফারিহা কে অনেক বাচ্চারা বলি করতে লাগলো । ছোট ফরিহা এতকিছু বোঝেনা মাত্র ৬ বছর ফারিহার বয়স,, ফারিহা ক্লাস প্লেতে পড়ে । ক্লাস ফাইভ এর বাচ্চারা ফারিহা কে ঘিরে ধরল আর বলতে লাগলো তোদের বাড়ি আমরা টিভিতে দেখলাম । নিউজে শুনলাম তোর নাকি নতুন দাদি আসছে তা তোকে কেমন আদর করে । তার বয়স নাকি একদম তোর দাদার থেকে কম । এটা বলে সব বাচ্চারা অট্টহাসিতে মেতে উঠলো। ফারিহা তবুও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।
বেশি কিছু বুঝলো না এদের কথায় শুধু বুঝতে পারল তাকে খারাপ কিছু বলা হচ্ছে । ফারিহা এদের প্রশ্নের উত্তরের জবাব দিল হ্যাঁ আমার নতুন দাদি আমাকে অনেক আদর করে । আমাকে কোলে নিয়েছিল । আমার নতুন দাদি অনেক ভালো ।
এগুলো শুনে তবুও বাচ্চারা হাসি থামাচ্ছে না । তখনই তাদের ক্লাসের একটি টিচার এসে তাদেরকে ধমক দিল আর বলল ফরিহাকে যেন কেউ বিরক্ত না করে । এগুলো বলে বাচ্চাদের কে ধমক দিয়ে ফারিহাকে ক্লাসে নিয়ে গেল ।
এত কিছুর পরেও যেন ফারিহা নিস্তার পাচ্ছে না ,,, একজন না একজন বলি করতেই লাগছে । ফারিহা এবার কান্না করতে শুরু করল । এত মানুষের কথা ফারিহা নিতে পাচ্ছে না ।
আশিক : টিচার আমাকে খবর দেয়া হলো ফারিহা নাকি কান্না করছে অনেক । কি হয়েছে ওর । আচ্ছা আমি ফারিহা কে নিয়ে চলে গেলাম আজকে । এত কান্না করলে ও অসুস্থ হয়ে পড়বে ।
মানুষ যেন আশিককে দেখতে পেয়ে এটা ভেবে নিয়েছে নিউজের ভাইরাল লোক এসেছে । কয়েকজন মানুষ আশিককে দেখে এগিয়ে আসছে । এসে আশিককে জিগালো আপনাদের ব্যাপারে আমরা যা শুনেছি সেটা কি সত্যি । আচ্ছা আপনার বাবা এত বয়সে কেন বিয়ে করল ? আপনারা তাদেরকে মানা করতে পারলেন না । আমরা থাকলে তো এটা কখনো হতে দিতাম না । আপনার বাবা তো এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ।
ভালোই হয়েছে আপনারা ভাইরাল ফ্যামিলির লোক ,, আপনার সাথে দেখা হবে এটা ভেবে নিজেকে অনেক ধন্য মনে হচ্ছে । আরো বাচ্চাদের সাথে গার্জেন গুলো নানা প্রশ্ন করতে লাগলো আশিককে । আশিক কারো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফারিহাকে নিয়ে চলে গেল বাড়িতে। আর এদিকে বাড়িতে নানা কান্ড বেজেই আছে ।
ওমি : আপনি আমাদের রান্নাঘরে আসছেন কেন ? আপনাকে কে এই অনুমতি দিয়েছে । এই রান্নাঘরে আমরা আপন লোক ছাড়া কাওকে ঘরে ঢুকতে দেইনা।
মৌ : এমন করে কথা বলো কেন তোমরা আমার সাথে ? আমিও তো এই বাড়ির একজন সদস্য এখন থেকে ।
ওমি : তামিমা আপু এই মহিলাকে রান্নাঘর থেকে চলে যেতে বলবে নাকি আমি বলবো।
আমিমা : আপনি বাহিরে যেয়ে বসেন । আপনার রান্না ঘরে কোন কাজ কাম করতে হবে না ।
ওমি : এমন ভাবে কথা বলো কেন ওনার সাথে ? তুমি দেখতে পাচ্ছ না এ মহিলা আমাদের বাড়িতে অধিকার ফলাচ্ছে । এ মহিলাকে সাবধান করে দাও আমরা যে উনাকে মেনে নিইনি সেটাও জানিয়ে দেও আপু ।
ওমির মা : ওমি চুপ কর আমি কথা বলছি এই মহিলার সাথে ,, আচ্ছা আপনি কি টাকার লোভে আসছেন এই বাড়িতে । আপনি অনেক লোভিত্ত মানুষ।
সেই মহিলার সাথে দুই এক কথায় ঝগড়া লেগে গেল ওমির মার । ওমির মাতো মৌকে অনেক খারাপ খারাপ ভাষায় বকাবকি শুরু করছে । এগুলো শুনে মৌ কান্না করছে ।
তখনই মোল্লা সাব এসে হাজির ।
এবার দেখা যাক মোল্লা সাব এদের কি বিচার করে ?
বা এবার মোল্লা সাব কি করবে?
ফারিহা নিখোঁজ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
147
Views
1
Likes
0
Comments
5.0
Rating