ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন এবং উত্তর ( পর্ব 1 )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
,,, আমাদের রব কে ?

আমাদের রব‌ হলেন আল্লাহ্‌

2,,রব অর্থ‌ কি ?

রব দ্বারা উদ্দেশ্য, মালিক, সৃষ্টিকর্তা, রিযিক্বদাতা, নিয়ন্ত্রণকারী, আকৃতিদানকারী ও প্রতিপালনকারী। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কিছুই হয় না এবং তাঁর অনুমতি ও ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছু সামান্যতম নড়াচড়াও না

3,, আল্লাহ অর্থ কি ?

যাবতীয় ইবাদত এবং উপাসনা পাওয়ার যোগ্য একমাত্র সত্ত্বা-ই হচ্ছেন আল্লাহ।

4,,,, আল্লাহ কোথায় থাকেন ?

আমার প্রভু আল্লাহ উর্ধ্বে, আরশের উপরে আছেন। মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে বলেন,

"পরম দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন” (ত্বা-হা ৫)। সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ্‌র সত্ত্বার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমনভাবে তিনি আরশের উপর উঠেছেন; তাঁর আরশের উপর উঠার বিষয়টিকে কোনোরূপ পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না এবং এটির কল্পিত কোনো আকৃতি যেমন স্থির করা যাবে না, তেমনি কোনো সৃষ্টির সাথে এর কোনোরূপ সাদৃশ্য বিধানও করা চলবে না।"

"অতএব, আপনি কোনো অবস্থাতেই বলতে পারেন না যে, আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। কেননা সর্বোচ্চে অবস্থান মহান আল্লাহ্‌র একটি প্রশংসনীয় বিশেষণ। আর সে কারণেই তো আমরা সেজদাতে বলে থাকি, ‘আমার প্রভু সর্বোচ্চ’। ইমামগণ একমত পোষণ করেছেন যে, মহান আল্লাহ যমীনে অবতরণ করেন না। যে ব্যক্তি এই আক্বীদা পোষণ করে যে, আল্লাহ তাঁর কোনো সৃষ্টির মধ্যে প্রবিষ্ট হন, সে ব্যক্তির কুফরীতে নিপতিত হওয়ার ব্যাপারেও তাঁরা একমত পোষণ করেছেন। বরং মহান আল্লাহ দুনিয়ার নিকটতম শেষ আসমানে এমনভাবে অবতরণ করেন, যেমন অবতরণ করা তাঁর মহত্ত্বের সাথে মানানসই। রাতের শেষাংশে আল্লাহ্‌র শেষ আসমানে অবতরণ এবং অবস্থানের ধরণ সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না। এই সময় তিনি বলেন,"

কোনো প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করব” (বুখারী ও মুসলিম)।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে, তাহলে নিম্নোক্ত আয়াতটির অর্থ কি?

‌তিনি তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাক” (হাদীদ ৪)। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। জবাবে বলব, এখানে সবার সঙ্গে থাকার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্‌র ইলম এবং শক্তি। কারণ তাঁর পবিত্র সত্ত্বা সর্বোচ্চ আরশে আছে; কিন্তু তাঁর জ্ঞান এবং শক্তি সবার সাথে আছে। কোনো কিছুই তাঁর শক্তি এবং জানার বাইরে নেই।

" আসা‌ করি অজানা কিছু জানতে‌ পেরেছেন আল্লাহ রহমতে "


5,,,, আমি কিভাবে আমার প্রভুকে‌ চিনবো ?

আল্লাহ্‌র নানা নিদর্শন এবং তাঁর সৃষ্টিসমূহ দেখে আমি তাঁকে চিনি। মহান আল্লাহ বলেন,

তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র” (ফুছসালাত ৩৭)।

তাঁর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে সাত আসমান, সাত যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু অন্যতম। এরশাদ হচ্ছে,

নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর আরোহন করেছেন। তিনি রাতের ভেতর দিনকে প্রবেশ করান এমনভাবে যে, দিন দৌড়ে রাতের পেছনে আসে। তিনি সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন; সেগুলি তাঁর আদেশের অনুগামী। জেনে রেখো, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ বরকতময়” (আ‘রাফ ৫৪)।


6,,,, আল্লাহ আমাদের কেন‌ সৃষ্টি করেছেন?

সর্ব প্রকার শির্ক বর্জন করে যাবতীয় ইবাদত কেবলমাত্র তাঁর উদ্দেশ্যে সম্পাদন এবং তাঁর আদিষ্ট বিষয়সমূহের বাস্তবায়ন ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে পরিত্যাগের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যের জন্যই তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরশাদ হচ্ছে,

"শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি” (যারিয়াত আয়াত‌ ৫৬)। "


অন্যত্র ঘোষিত হয়েছে,

"আর তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না” (নিসা ৩৬)।"

যে‌ যে‌ সূরার‌ নাম আয়াত‌ সহ‌ লেখা আছে‌ দেখে আসতে‌ পারেন প্রমাণ ‌।

7,,, আল্লাহর নিকট সব থেকে বড় গূনাহ কি ?

যে গুনাহ দিয়ে আল্লাহ্‌র নাফরমানি করা হয়, তার সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে, শির্ক। মহান আল্লাহ বলেন,

" যারা বলে যে, মারিয়াম-তনয় মাসীহ-ই আল্লাহ, তারা কাফের। অথচ মাসীহ বলেন, হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার পালনকর্তা এবং তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাথে শির্ক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন; তার বাসস্থান হচ্ছে জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই” (মায়েদাহ ৭২)।"

আর শির্ক হচ্ছে, আল্লাহ্‌র সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, চাই তা হোক কোনো বাদশাহ, কিংবা নবী-রাসূল বা কোনো অলী। আল্লাহ ব্যতীত অথবা আল্লাহ্‌র সাথে তাকে ডাকা, বা তাকে ভয় করা বা তার উপর ভরসা করা বা তার কাছে কোনো কিছু চাওয়া অথবা অন্য কোনো ইবাদত তার জন্য সম্পাদন করা।


8,,, ইবাদত অর্থ কী ?

আল্লাহ ভালবাসেন এবং সন্তুষ্ট হন প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এমন যাবতীয় কথা ও কাজকে ইবাদত বলে। যেমনঃ দো‘আ করা। আল্লাহ বলেন,

"আর (এই অহিও করা হয়েছে যে,) মসজিদসমূহ আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে ডেকো না” (জিন ১৮)।"

আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকলে যে কাফের হয়, তার প্রমাণ হচ্ছে,

"যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, যে ডাকার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব তো তার পালনকর্তার কাছেই। নিশ্চয়ই কাফেররা সফলকাম হবে না” (মুমিনূন ১১৭)।"

যেমন মাজারে যেয়ে‌ মানুষ পাগলা বাবার কাছে কোন কিছু চায় ,, কবিরাজ এগুলোকে উপাস্যক বোঝানো হয়েছে ,,, আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কারো কাছে কোন কিছু চাওয়াই হলো শিরক,, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করবে সে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না । তাদের জন্য আল্লাহু জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন ,, তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম ।

আর এই কথা গুলোর প্রমাণ আপনারা পবিত্র কুরআনে পেয়ে যাবেন ,, সূরার নাম আর আয়াত দেওয়া আছে ।


9,,, আল্লাহতালা সর্বপ্রথম তার বান্দার উপর কোন জিনিসটি ফরজ করে দিয়েছেন ?

আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দার প্রতি ফরযকৃত সর্বপ্রথম বিষয়টি হচ্ছে, আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনা এবং তাগূতকে অস্বীকার করা। মহান আল্লাহ বলেন,

"আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং ত্বাগূত থেকে বেঁচে থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়াত করেছেন। পক্ষান্তরে কিছু সংখ্যকের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে” (নাহ্‌ল ৩৬)।"

আর ত্বাগুত হচ্ছে, বান্দা যাকে নিয়ে তার সীমা অতিক্রম করেছে। চাই তা উপাসনার মাধ্যমে হোক, বা অনুসৃত হওয়ার দিক থেকে হোক, অথবা আনুগত্যের ক্ষেত্রেই হোক[1]।


অথবা বলা যায়, আল্লাহ ছাড়া যার ইবাদত করা হয়, সে-ই হচ্ছে ত্বাগূত- যদি সে ঐ ইবাদতে রাযী-খুশী থাকে।


আল্লাহ কত সুন্দর ভাবে আমাদেরকে শির্ক থেকে বাঁচার কথা বলেছে ,,, পরীক্ষার আগে জানার জন্য আমরা পাগল হয়ে যাই‌ পরীক্ষার মধ্যে কি কি‌ আসবে ,, অথচ আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার সব রাস্তা বলে দিয়েছে কিন্তু আমরা বুঝেও বুঝিনা ,,, এত সুযোগ থাকার সত্ত্বেও আমরা পথভ্রষ্টতা হয়ে যাই । আল্লাহু সাথে নাফরমানি করা শুরু করে দেই ,, আমাদের যদি সন্তান না হয় তাহলে আমরা চলে যাই কবিরাজ বাড়ি তাদের কাছে আমরা বাচ্চা চাই ,,, কেন কেন এত সন্তানের দরকার আমাদের নিজে জাহান্নামের‌ টিকেট হাতে‌ নিয়ে দুনিয়ার সুখের জন্য এমন মানুষের কাছে যাই ? আপনাদের কাছে এই‌ প্রশ্ন ,,,?

আল্লাহ আমাদেরকে শিরক মুক্ত জীবন দান করেন ,,,,


10,,,, আপনার দ্বীন কি ?

আমার দ্বীন হচ্ছে, ইসলাম।

আর ‘ইসলাম’-এর অর্থ হচ্ছে, তাওহীদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ্‌র নিকট আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নিকট নত হওয়া এবং শির্ক ও শির্কপন্থীদের থেকে নিজেকে মুক্ত করা। যেমন আল্লাহ বলেন,

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌র নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। আর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। যারা আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের সাথে কুফরী করে, (তাদের জানা উচিৎ যে,) নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত” (আলে ইমরান ১৯)।"

অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে,

"যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা তার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে” (আলে ইমরান ৮৫)। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

ইসলাম হচ্ছে একথা সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মা‘বূদ নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাসূল-একথার সাক্ষ্য দেওয়া, ছালাত ক্বায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রামাযান মাসে ছিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে কা‘বায় হজ্জ করা” (মুসলিম

আসা করি বুঝতে পারছেন ,,,না বুঝে থাকলে কমেন্ট‌এ‌ জানানোর অনুরোধ র‌ইলো‌,,,,
236 Views
5 Likes
3 Comments
4.2 Rating
Rate this: