নিশিঃ কাছে এসে বসো বলছি ।
আমিঃ না ।
নিশিঃ না বসলে আমি কিন্তু চিৎকার করবো ।
পিচ্চি মানুষ কখন কি করে আল্লাহই জানে । তাই আর রিস্ক নিলাম না । ওর কাছে গিয়ে বসলাম । আমি কাছে গিয়ে বসতেই ও আমার হাতের মধ্যে হাত রেখে কাঁধে মাথা এলিয়ে দিলো ।
আমিও আর কিছুই বললাম না । হঠাৎ নিশি বলে উঠলো,,,,,,
নিশিঃ এই মামা রিকশা থামান ।
আমিঃ তোর আবার কি হলো ?
নিশিঃ ভাইয়া ওই দেখো হাওয়াই মিঠাই (স্টিক ক্যান্ডি) । আমি ওই গুলি খাবো । চলো কিনে দিবা ।
আমিঃ তোর বাচ্চামি এখনো যাবে না ।
নিশিঃ না । তুমি চলো তো ।
আমি রিকশাওয়ালা মামাকে বললাম,,,,,,
আমিঃ মামা একটু দাঁড়ান আমরা আসছি ।
রিকশাওয়ালাঃ ঠিক আছে মামা যান ।
তারপর রাস্তার ওপাশে গিয়ে নিশিকে হাওয়াই মিঠাই কিনে দিলাম । ও বাচ্চাদের মতো খেতে লাগলো । হঠাৎ আমার স্কুল ফ্রেন্ড রিমির সাথে দেখা হলো ।
রিমিঃ কি রে রাকিব কেমন আছো ?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তুমি ?
রিমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তোমার কোনো খবর ই নেই । কি করো আজকাল ?
আমিঃ এই তো অনার্স এ এডমিশন নিবো ।
রিমিঃ সবার সাথেই যোগাযোগ আছে । শুধু তোমার সাথেই নেই । তোমার নাম্বার টা দাও তো ?
এতক্ষণ রিমির সাথে কথা বলাতে নিশির দিকে খেয়াল করি নি । নিশির দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করছে । চোখ গুলো লাল হয়ে গেছে । আমি নাম্বার দেয়ার আগেই নিশি বলে উঠলো,,,,,,,
নিশিঃ কেন নাম্বার নিবেন ।
রিমিঃ কেন আবার । ও আমার বন্ধু ।
নিশিঃ ছেলে দেখলেই নাম্বার নিতে মন চায় ।
আমিঃ নিশি থাম ।
নিশিঃ তুমি চুপ করো । বাসায় চলো । বড়আব্বু কে কি বলা লাগে দেখো ।
রিমিঃ রাকিব এটা কে ?
নিশিঃ ওর বউ ।
রিমিঃ কিহহ । রাকিব তুমি কবে বিয়ে করছো ।
নিশিঃ সেটা তোকে বলতে হবে ।
রিমিঃ ভালো ভাবে ব্যবহার করো । খারাপ ব্যবহার করছো কেন ।
নিশিঃ খারাপের দেখছোস টা কি । এখন না গেলে তার চেয়েও বেশি দেখামু ওয়েট ।
বলেই নিশি একটা লাঠি হাতে নিলো । লাঠি হাতে নেয়া দেখেই রিমি ভয়ে পালালো । আমি শুধু দাঁড়িয়ে থেকে এতোক্ষন এদের সিনেমা দেখছিলাম ।
তারপর নিশি আমাকে এসে বললো,,,,,,
নিশিঃ মেয়ে দেখলেই কথা বলতে আর নাম্বার দিতে মন চায় । (রাগ করে) ।
আমিঃ আমি তো আগে কথা বলি নি । ওই তো বললো । আর নাম্বার ও তো দেই নি ।
নিশিঃ বাসায় চলো আগে বড়আব্বু কে কি বলা লাগে দেখো ।
আমিঃ এই না প্লিজ ।
নিশিঃ তাহলে কানে ধরে সরি বলো ।
আমিঃ আমি পারবো না ।
নিশিঃ বলো না । আমি বড়আব্বু কে বলে দিবো ।
আমিঃ এইই না । কানে না ধরলে হয় না ।
নিশিঃ না হয় না । এরপর যাতে এই ভুল না হয় সেজন্য ধরতেই হবে ।
কি আর করার । কানে ধরে বললাম,,,,,,
আমিঃ সরি ।
নিশিঃ এখন বলো আমি ছাড়া আর অন্য মেয়ের সাথে কথাও বলবে না আর তাকাবেও না ।
আমিঃ ঠিক আছে বলবো না তাকাবোও না । এখন কি কান ছাড়তে পারি ।
নিশিঃ হুমম ছাড়ো আমার কিউট বরটাহ 😊 ।
আমিঃ পাকনামো বন্ধ কর আর বাসায় চল । সন্ধ্যা হয়ে এলো ।
নিশিঃ হুমম চলো ।
তারপর আমি আর নিশি আবার রিকশায় উঠে চলতে লাগলাম । নিশি আবার আমার কাঁধে মাথা এলিয়ে দিলো । রিকশা থেকে নেমে গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরলাম ।
বাড়ি ফিরে রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম । ততক্ষণে বাহিরে অন্ধকার নেমে গেছে । গ্রামের সন্ধ্যার পরিবেশটা অনেক শান্ত লাগে ।
অনেক ভালো লাগে । উঠানে দাঁড়াতেই মৃদু বাতাসে মনটা একদম ভালো হয়ে গেল । গ্রামে সন্ধ্যায় ঝিঝি পোকার ডাক,,প্রকৃতির স্তব্ধতা যেন গ্রামটাকে অন্যভাবে মাতিয়ে রাখে ।
আমি মূলত বাহিরে সিগারেট খাওয়ার জন্য বের হইছি । কারন রুমে খেলেই নিশি টের পেয়ে আব্বুকে বলে দিবে । আর আব্বুকে বলে দিলেই আমার 12 টার খবর হয়ে যাবে ।
তাই বাহিরে এসে সিগারেটে একটা সুখটান দিলাম । কিন্তু টান টা সুখের না দুঃখের সেটা একটু পরেই টের পেলাম । সুখটান হলেও সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না ।
কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় । আমার ক্ষেত্রেও তাই ই হলো । কারন সিগারেটে টান দিয়ে পিছনে ঘুরতেই তাকিয়ে দেখি নিশি পিছনে দাঁড়িয়ে আছে ।
এখন কি হবে রাকিবের আল্লাহই জানে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
417
Views
5
Likes
0
Comments
5.0
Rating