মায়াবতী তৃতীয় খন্ড শিকারীর অন্ধকার

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাকিব, রাজু, এবং ইলিয়াস, তিন বন্ধু, যাদের সামনে অজানা এক ভয়াবহ ভবিষ্যৎ। গত কয়েকদিনের ঘটনা তাদের শরীর এবং মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মায়াবতী, সেই অশুভ আত্মা, তাদের শান্ত থাকতে দিচ্ছিল না। প্রথম খন্ডে তারা কিছু রহস্যে পা দিয়েছিল, দ্বিতীয় খন্ডে ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হয়েছিল, কিন্তু এখন, তৃতীয় খন্ডে, তাদের লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে।

শীতের রাত যেন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। বাতাসে অদ্ভুত এক অশুভ গন্ধ ভেসে আসছিল। রাকিবের মনে হচ্ছিল, মায়াবতী তাদের ঘিরে রেখেছে। তার অদৃশ্য শ্বাস, তার শীতল ছায়া যেন পিছু ছাড়ছে না। তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার পরেও সেই ভয় তাদের পিছু পিছু আসছিল। তারা জানত, একমাত্র উপায় হল মায়াবতীর রহস্য উদ্ধার করা এবং তার অভিশাপের শিকল ভাঙা।

এবার তাদের সামনে ছিল এক পুরনো পুরোহিতের সন্ধান। গ্রামের এক কোণায়, যেখানে মানুষ সাধারণত যায় না, সেই পুরনো পুরোহিতের ঘর ছিল। সেই পুরোহিত দীর্ঘদিন ধরে মায়াবতী সম্পর্কে জানত, কিন্তু কিছু ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে সে মুখ বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু একদিন, তার কাছে গিয়ে, রাকিব জানতে পারে এক অদ্ভুত সত্য—মায়াবতী ছিল এক সময়ের একটি শিকারী আত্মা, যে মানুষের ভয় ও দুঃখের ওপর বেঁচে থাকতে পারত। তার আত্মা এখন সেই অশুভ শক্তি ধারণ করেছে, যে তার শিকার করা মানুষের দুঃখ ও শোকে জীবিত থাকে।

"তার শিকার কখনো শেষ হয়নি," পুরোহিত বলেছিল, "মায়াবতী এখনো তার শিকার খুঁজছে, এবং সেই শিকার হল যারা তার অভিশাপের মুখোমুখি হয়ে অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।"

তিন বন্ধু জানত, মায়াবতীকে ঠেকাতে হলে তার অতীতের দিকে ফিরে তাকানো হবে। তারা সেই পুরনো শিকারীর পথ অনুসরণ করতে শুরু করে, যে মায়াবতীর আগের দিনগুলোর সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু তারা জানত, এই পথ অনেক বিপজ্জনক—তারা যদি ভুল কিছু করে ফেলত, তবে এই পৃথিবী থেকে তারা আর ফিরে আসতে পারত না।

তারা যখন মায়াবতীর পুরনো বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়, সেই অদ্ভুত গন্ধ আবার তাদের নাকে এসে পৌঁছায়। বাতাসে শীতলতা আরও বাড়ে, যেন এক অদৃশ্য শিকার তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে, রাকিবের বুকের ভেতর অস্বস্তি অনুভূত হয়। মনে হয়, তার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে, তারা দেখতে পায় সেখানে আরও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। এক কোণায় পড়ে থাকা পুরনো একটি বই ছিল, যেখানে মায়াবতীর পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে লেখা ছিল। বইটি খুলতে গেলে, হঠাৎ এক ভয়াবহ আওয়াজ ভেসে আসে—একটা ভয়ানক চিৎকার, যা যেন মায়াবতীর কাছ থেকে আসছিল। তিন বন্ধু মুহূর্তে চমকে ওঠে। তাদের শরীরের প্রতিটি সেল শীতল হয়ে যায়। মনে হয়, মায়াবতী তাদের মনের ভিতর ঢুকে গেছে।

"তোমরা আমাকে হারাতে চাও?" সেই ভয়ানক গলা আবার ভেসে আসে, কিন্তু এবার সে শুধু শব্দ ছিল না, তার চারপাশে অন্ধকার এবং শীতলতা জমে ছিল। মায়াবতী যেন তাদের আরো কাছে চলে এসেছে, খুব কাছাকাছি। এই শেষ মুহূর্তে তারা কি মায়াবতীকে থামাতে পারবে? নাকি তারা তার শিকার হয়ে যাবে?

তিন বন্ধু কিছু না বলে, একে অপরকে শক্ত করে ধরে রাখে, তাদের মধ্যে কেউ আর কোন ভয় অনুভব করছে না। তবে তাদের মনে একটা প্রশ্ন ছিল—এই যাত্রা শেষে তারা কোথায় পৌঁছাবে? মায়াবতীকে থামাতে হলে কি তাদের জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে?

শেষ।
213 Views
2 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: