নীজের আশেপাশে ঘুরে দেখো (পর্ব ২)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অনেক দিন হলো কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না, টেস্ট পরিক্ষাও শেষ বাসায় সব সময় একা একা সময় কাটাতে ভালো লাগেনা। বারান্দায় চুপ করে বসে আছি বাবা আমার কাছে এসে বললেন
বাবা:কোথাও ঘুরতে যাবি?
মিলা:যাওয়া যায়।
বাবা:তাহলে কালকে যাবো। তর মাকে কিছু বলা যাবে না।
মিলা:কোথায় যাবো সেটাতো বলো?
বাবা:নিস্তব্ধ প্রকিতির মাঝে, যেখানে গেলে প্রকিতির খুব কাছাকাছি থাকা যায়। তবে বেশী দূরে না আমাদের বাসা থেকে দুই কিলো মিটারের মধ্যে।
মিলা:আচ্ছা।
পর দিন সকালে বাবা আর আমি মাকে কিছু না বলে দুজন দুইটা সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।রাস্তার দুপাশে ধান ক্ষেত, বেশী রোদ নেই, রাস্তার দুপাশে মাঝে মাঝে কয়েকটা গাছ, অনেক দূরে দূরে কয়েকটা বাড়ি।একদম শান্ত পরিবেশ পাখির কোলাহল,প্রকিতি যেন তার নীজ ভাষায় আমাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমি প্রকিতির ভাষা বুঝতেছি কিন্তু ওদের ভাষায় কথা বলতে পারিনা বলে ওদেরকে কিছু বলতে পাচ্ছি না।কিছু দূর যেতেই বাবার সাইকেলে কি জানি একটা সমস্যা হলো আর রাস্তায় অনেক কাঁদা ছিলো তাই আর সাইকেল নিয়ে যাওয়া যাবে না।
মিলা:আমরা এখন কি করবো?
বাবা:একটু দূরে একটা নদী আছে। চল, সেখানে যাই?
মিলা:কিন্তু কিভাবে যাবো?এই রাস্তায় মনে হয়না কোন গাড়ি পাওয়া যাবে।
বাবা:চল, হেঁটেই যাই।
মিলা:তাই চলো হেঁটেই যেতে হবে।কিছু তো করার নেই।
বাবা:এখান দিয়ে একটা রাস্তা আছে, যেটা ধরে হাটলে আমরা দ্রুত যেতে পারবো।
মিলা:চলো,হাটা শুরু করি।
আমরা হাঁটা ধরলাম ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে।ধানের শীষে শিশির জমে আছে।শিশিরে আমাদের শরীর ভিজে যাচ্ছিল।এই রাস্তায় আমরা প্রথম হাঁটছি এর আগে কখনো এই রাস্তায় যাওয়া হয়নি।ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে ১০মিনিট হাটার পর একটা রাস্তা দেখতে পেলাম,সেখান থেকে নদীটা দেখা যাচ্ছিল। এখনো ২০মিনিটের মতো গেলে আমরা ওখানে পৌছাতে পারবো।একটা গাছের নীচে ৫মিনিট রেস্ট নিয়ে আবার রওনা হলাম।এবারের রাস্তাটা ছিলো জঙ্গল জঙ্গল টাইপের, একদম নিস্তব্ধ। একটু ভয় লাগছিলো কিন্তু পরিবেশটা ইনজয় করার মতো।বাবা বিডিয় করতে লাগলো আর আমি প্রকৃতি দেখতে দেখতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ হাটার পর অবশেষে পৌছালাম আমরা। নদীর পাড়ে দাড়িয়ে মুক্ত বাতাসে বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিলাম।চারদিকে বাতাস ছোট ছোট বাচ্চারা ব্রিজ থেকে ঝাপিয়ে পড়ছে পানিতে, কিছু লোক মাছ ধরছে।অনেকগুলা নৌকা একসাথে বাঁধা।
মিলা:বাবা নৌকা গুলা এভাবে একসাথে বেঁধে রাখছে কেন?
বাবা:মনে হয় মাঝিরা খেতে গিয়েছে আর রেস্ট করতে গিয়েছে।
মিলা: তাহলে আমরা নৌকায় ঘুরবো কি করে?
বাবা:ক্ষুধা লাগছে চল কিছু খেয়ে নেই।তারপর এসে দেখবো মাঝিরা এসে গিয়েছে। তখন নৌকায় ঘুরবো।
মিলা:আচ্ছা, চলো।
তারপর আমরা খেতে গেলাম, গিয়ে দেখি অনেক বড় বড় চিংড়ি মাছ।
মিলা:এগুলার নাম কি? বাবা
বাবা:এগুলার নাম গলদা চিংড়ি, এগুলা নদীতে পাওয়া যায়।এগুলা খাবি?
মিলা:খাওয়া যায়।
খাওয়া শেষ করে নৌকার কাছে আসলাম।তারপর একটা নৌকায় উঠলাম ততক্ষণে মাঝিরাও এসে গিয়েছে।তারপর আমরা অনেকক্ষণ নৌকায় ঘুরেছি।অনেক গুলা কচুরিপানা ফুল নিয়েছি।বাবা আমাকে বলছিলো আমাকে নাকি কচুরিপানা প্রিনসেস মনে হচ্ছে । আমার মনে হচ্ছিল এখানেই থেকে যাই।
বাবা:অনেক ঘরাঘুরি হয়েছে এখন বাড়ি ফিরতে হবে।নইলে তর মা রাগ করবে।
মিলা:আচ্ছা, চলো ফিরে যাই।
অবশেষে মন মুগ্ধকর প্রকিতিকে রেখে আমরা আমাদের গন্তব্যে ফিরে এলাম।
102 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: