মায়াবতী দ্বিতীয় খন্ড অভিশাপের শ্বাস

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
মায়াবতী - দ্বিতীয় খন্ড: অভিশাপের শ্বাস

রাকিব, রাজু, এবং ইলিয়াস—তিন বন্ধু এক অদ্ভুত রহস্যের মধ্যে পড়েছে, যা তাদের সাহস এবং শক্তিকে পরীক্ষা করছে। প্রথম রাতে মায়াবতী সম্পর্কে তারা যা কিছু জানেছিল, তা ছিল শুধুমাত্র এক মুঠো আতঙ্ক। কিন্তু এবার তারা জানে, মায়াবতী শুধুই এক ভূত নয়, তার পেছনে এক গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে। মায়াবতীকে থামাতে হলে তাদের আরও গভীরে যেতে হবে, এবং তারা জানে—যত গভীরে যাবে, ততই বড় হবে বিপদ।

প্রথম খন্ডের পর, রাকিব এবং তার বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেয়, মায়াবতীর রহস্য উদঘাটন করতে হবে। তারা জানে, তার আত্মা কোনোভাবেই শান্ত হবে না যতক্ষণ না তার পেছনের ঘটনার উন্মোচন হয়। অতএব, তাদের শখের মতো থাকা, আনন্দে সময় কাটানো সব কিছুই শেষ। তাদের সামনে এক অজানা ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।

একদিন, তারা শীতের এক রাতে কবরস্থানে পৌঁছায়। রাতের গভীরতা তাদের শরীরের মধ্যে প্রবাহিত হতেই তারা অনুভব করে, একটি অদৃশ্য শ্বাস তাদের সাথে ঘুরছে। শীতের বাতাস যেন গায়ের ভিতর শিহরণ সৃষ্টি করে। চারপাশে মৃতদের অশুভ উপস্থিতি মনে হতে থাকে। কবরস্থানের পেছনে এক পুরনো বিল্ডিং ছিল, যেটি অনেক বছর আগে মায়াবতীর সারা জীবন কাটানোর জায়গা ছিল।

কবরস্থানে প্রবেশ করার পর, রাকিবের চোখে পড়ে একটি পুরনো পত্রিকা, যা ভেঙে পড়ার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। পত্রিকার মধ্যে লেখা ছিল, "মায়াবতীকে শান্ত করতে হলে তার পেছনের দুঃখের কারণ জানতে হবে, তার জীবনযুদ্ধের কোনো উপায় থাকতে হবে।" কিন্তু কীভাবে তারা মায়াবতীকে শান্ত করবে? তাদের সামনে হাজারো প্রশ্ন, কিন্তু কোনো উত্তর ছিল না।

পত্রিকা পড়ে, তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। তারা বুঝতে পারে, মায়াবতী একবার তাদের পেছনে চলে গেলে, আর কখনও তাদের পিছু ছাড়বে না। তার অভিশাপটি এক অশুভ দান।

রাত গভীর হয়ে যায়। এবং ঠিক সেই মুহূর্তে, রাকিব একটি তীব্র শ্বাস নিয়ে জেগে ওঠে। তার শরীর থেকে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যায়, যেন কেউ তাকে আক্রমণ করছে। তার পাশে রাজু ও ইলিয়াসও চিৎকার করে ওঠে, সবাই একসাথে আতঙ্কে জেগে ওঠে। হাত-পা কাঁপতে থাকে, মনে হয় যেন তাদের গায়ের শিরা একে একে ছিঁড়ে যাচ্ছে। তার বুকের ভিতর কেউ যেন তাদের নিশ্বাস চুরি করছে।

মনে হয়, রাতের আকাশের মধ্যে থেকে সেই ভয়ংকর আওয়াজ ভেসে আসে—"তোমরা আমাকে ভুলে গেছো, কিন্তু আমি তোমাদের ছেড়ে যাব না।" এই শব্দগুলি তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে তোলে। যেন বাতাসের প্রতিটি শ্বাস তাদের ভিতর ভরে যাচ্ছে, শীতলতা কেবল বাড়ছে। তারা জানে, মায়াবতী তাদের ছেড়ে যাবে না। তাদের সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

শেষ।
195 Views
3 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: