ডিজিটাল দুনিয়া

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
শহরের এক কোণে ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে শাকিল প্রতিদিন মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকে। তার দৈনন্দিন কাজ বলতে সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন দেখা, রিল ভিডিও বানানো, আর রাতভর গেম খেলা। অথচ, একসময়ের এই মেধাবী ছেলেটি গ্রামের মানুষের কাছে ছিল গর্বের প্রতীক। তার নাম শুনলেই তারা বলত, "শাকিল তো বিস্ময়! আমাদের ভবিষ্যৎ।”

কিন্তু সেই শাকিল এখন হারিয়ে গেছে এক কৃত্রিম জগতে। মোবাইলের আলোয় বাঁধা পড়া জীবন তার বাস্তবতাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

একঘেয়ে জীবনের চক্র
শাকিলের মা প্রতিদিনই তাকে বকা দেন, "কী করিস সারাদিন! পড়াশোনা নেই, কোনো কাজ নেই। শুধু ওই মোবাইল নিয়ে বসে থাকিস।” শাকিল নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে, “মা, এটাই ভবিষ্যৎ। এখানেই সবকিছু।”

তার কথার কোনো প্রতিক্রিয়া দেন না মা। নীরবে চোখের জল মুছে নেন। শাকিল টেরও পায় না।

এক অদ্ভুত অ্যাপের আবিষ্কার
এক রাতে শাকিল মোবাইলে এক নতুন অ্যাপের বিজ্ঞাপন দেখতে পেল। অ্যাপটির নাম ডিজিটাল দুনিয়া। বিজ্ঞাপনে বলা হলো, "তোমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এখানে আপলোড করো। আমরা তোমার জন্য নিখুঁত জীবন তৈরি করব।"

শাকিল ভাবল, এটাই তার জন্য আদর্শ। সে আর দেরি না করে অ্যাপটি ডাউনলোড করল। তারপর তার জীবনের ছবি, ভিডিও, চিন্তা, স্বপ্ন—সবকিছু সেখানে আপলোড করতে শুরু করল।

শাকিলের বাস্তব জীবন ক্রমে ফিকে হয়ে গেল। সে যখন-তখন নোটিফিকেশন দেখে, নিজের ভার্চুয়াল প্রোফাইল নিয়ে মেতে থাকে। তার চারপাশের মানুষগুলো যেন কোনো গুরুত্বই পায় না।

রনির প্রবেশ
একদিন শাকিলের বন্ধু রনি হঠাৎ তার ফ্ল্যাটে এলো। শাকিলকে দেখে সে বলল, “তুই কেমন যেন হয়ে গেছিস, শাকিল! কথা বলিস না, বাইরে যাস না। সব কিছুই যেন যান্ত্রিক।”

শাকিল কিছু বলল না। মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে শুধু মাথা নাড়ল। এ সময় অ্যাপটি নতুন নোটিফিকেশন পাঠাল—"তোমার সেরা ভার্চুয়াল মুহূর্ত!"

রনি কিছুক্ষণ দেখার পর বিরক্ত হয়ে বলল, “এই অ্যাপটা তোর জীবনটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তুই কি বুঝতে পারছিস?”

শাকিল হাসল। “আসল জীবন কই রে রনি? এই ভার্চুয়াল দুনিয়াই তো আসল!”

বাস্তবে ফেরার পথে
রনি থামল না। সে শাকিলকে জোর করে গ্রামে নিয়ে গেল। প্রকৃতির ছোঁয়া, মানুষের সহজ জীবন, মাঠের মুক্ত বাতাস—এসবের মাঝে শাকিল যেন নতুন এক দুনিয়া আবিষ্কার করল। সে দেখতে পেল, জীবনের আসল রূপ এইখানে। এখানে নেই কোনো কৃত্রিমতা, নেই মোবাইলের স্ক্রিনের আলো।

শাকিল ধীরে ধীরে নিজের ভুল বুঝতে পারল। সে অনুভব করল, প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে না।

শেষের পথে এক নতুন শুরু
গ্রাম থেকে ফিরে শাকিল প্রথম কাজটি করল, মোবাইলের স্ক্রিন বন্ধ করা। তার সেই অদ্ভুত অ্যাপের নোটিফিকেশনও থেমে গেল চিরতরে। এখন শাকিল ভার্চুয়াল দুনিয়ার সঙ্গে নয়, বাস্তব জীবনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে শিখেছে।
208 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: