স্মৃতিময় স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব কি কখনো ফুরায়? সেই ছোটবেলায় স্কুলের মাঠে আমরা বন্ধুরা একসঙ্গে কাটিয়েছি অসংখ্য মধুর সময়। স্কুলের সামনের সেই বড় মাঠে কত খেলা, কত দুষ্টুমি! মাঠের একপাশে বয়ে চলা ছোট্ট খাল, তার পাশে দোকান। দুই টাকার মুড়ি, এক টাকার চানাচুর এই সামান্য টিফিনেই কী অসীম আনন্দ খুঁজে পেতাম আমরা!

স্কুলের পাশে ছিল একটি বিশাল শিমুল তুলার গাছ। শীতকালে গাছে যখন লাল ফুল ফুটত, পুরো মাঠ যেন লাল আভায় ঢেকে যেত। গোল্লাছুট, ফুটবল, কত খেলার আনন্দে মেতে থাকতাম। খেলার শেষে পাশের পুকুরে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়তাম, হাসি-আনন্দে মেতে উঠতাম। বন্ধুত্বের সেই দিনগুলো কত সুন্দর ছিল, তাই না?

আর আমাদের বন্ধু ভক্ত সোহেল? সে স্কুল পালিয়ে ধানক্ষেতের আইলে বসে সিগারেট ধরাতো। আর ইলিয়াস প্রায়ই পাঁচ টাকা হারিয়ে ফেলতো,এইসব ছোট ছোট ঘটনায় আমাদের আনন্দের অন্ত ছিল না। ছোট সোহেল আমাদের মাঝে ছিল এক বিশেষ চরিত্র। খেলার সময় সে মজার এক কৌশলে মাথাটা নিচের দিকে আর পা দুটো উপরে তুলে রাখতো। আমরা বলতাম, তুই আর কখনো বড় হবি না? আর সে মজার ছলে বলত, “আমাকে তো রাতে এসে জিন চাপ দিয়ে ধরে।

আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল অটুট, আর সেই বন্ধুত্বে ছিল আমি রাকিব,রনি, কামরুল, তারেক,ওহিদ, রাজু,রনি, শাকিব, রূপক, সোহেল রানা, ফারুক, আমিন—প্রত্যেকেই ছিল আমাদের বন্ধুদের গল্পের অংশ। বন্ধু আমিন ছিল একটু আলাদা, সে আমাদের সবাইকে উপহার হিসেবে কলম পেট দিত। আর ডেভন সোহেল তো বাড়িতে আমাদের নিয়ে ডেভন খাওয়াতো। কত না আনন্দময় ছিল সেই দিনগুলো!

কিন্তু সেই মধুর দিনগুলো কি আবার ফিরে আসবে? এখন সবই স্মৃতির পাতা, তবু বন্ধুত্বের সেই গল্পগুলো আজীবন রয়ে যাবে মনে।

রাকিবুল ইসলাম রাহান
494 Views
1 Likes
1 Comments
0.0 Rating
Rate this: