মায়াবী চোখ গুলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমি শুধু গরম জায়গা খুজতেছি । অনেক ঠান্ডা লাগছে জ্বরে ।

রিদি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে আমাকে শক্ত করে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো । আমি তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ।

তারপর রিদির বুকে মাথা রেখে কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না । সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রিদিই আমার বুকে গুটিসুটি মে*রে শুয়ে আছে । একদম বাচ্চার মতো লাগছে ।

তারপর আমি রিদিকে ডাক দিলাম । রিদি আমাকে বললো,,,,,,

রিদিঃ তোমার জ্বর এখন কেমন ?

আমিঃ হুমম কমছে ।

তারপর দুইজন ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম । দুইদিন আর ভার্সিটিতে গেলাম না । রাতে রিদি আমাকে পড়ার সময় কানে কানে বলছে,,,,,,,

রিদিঃ সব হলেও আমাদের একটা জিনিস অসম্পূর্ণ থেকে গেছে ।

আমিঃ কি ?

রিদি লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে কানে কানে বললো,,,,,,,,

রিদিঃ বাসর রাত 🙈 ।

আমিঃ হুমম ঠিক বলেছো । আমার কপালটাই খারাপ ।

রিদিঃ থাক আর কপালের দোষ দিও না ।

কিছুক্ষণ পর রিদি একটা সেরোয়ানী হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,,,,,,

রিদিঃ যাও এই এটা পড়ে তিরিশ মিনিট পর রুমে আসবে ।

আমি অবাক হয়ে বললাম,,,,,

আমিঃ কেন ?

রিদিঃ তোমার ইচ্ছে পূরণ করবো । আজকে আমরা বাসর রাত পালন করবো 🙈 ।

আমিঃ সত্যিই ।

রিদিঃ হুমম যাও ।

আমিঃ ঠিক আছে ।

আমি অনেক খুশি হয়ে সেরোয়ানী পড়ে অপেক্ষা করতেছি । এই তিরিশ মিনিট মনে হয় তিরিশ বছরে পার হচ্ছে । সময় যাচ্ছেও না ।

অবশেষে তিরিশ মিনিটের অবসান ঘটিয়ে আমি রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি । অনেক নার্ভাস ফিল হচ্ছে । কিন্তু রুমে যেতে সাহস পাচ্ছি না । হাত পা কাঁপছে । তবুও সাহস করে রুমে ঢুকেই পড়লাম । আমার চোখ গেল বিছানার উপর । দেখি রিদি খাটে বড় করে ঘোমটা দিয়ে বসে আছে । আমি এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

এখন এতো নার্ভাস হলে সারাজীবনই আমাকে নার্ভাস করে রাখবে । বুকে একটু সাহস নিয়ে খাটের কাছে দাঁড়ালাম।

আমি কিছু না বলেই বিছানার মাঝখানে শুয়ে পরলাম । আমার শুয়ে পড়া দেখে রিদি বলল,,,,,,

রিদিঃ ওই ওঠো বলছি ।

আমিঃ আমি এখন উঠতে পারবো না।

রিদিঃ না উঠলে তোমার উপর উঠে পড়বো কিন্তু। এখন বলো উঠবে নাকি শুয়ে থাকবে ?

এই মেয়ে কথায় কথায় ভয় দেখায় । আর কথা না শুনলে ঠিক তাই করবে । তাই উঠে বসলাম ।

রিদি ঘোমটা নামিয়ে গুন্ডি লুক নিয়ে আমার সেরোয়ানী চেপে ধরলো । আমি ওর হাত সরিয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু ও ধমক দিয়ে বলল,,,,,

রিদিঃ গাধা একটা । বাসর রাতে কেউ ঘুমায় নাকি ?

রিদিঃ জানো আজকের এই রাতটা নিয়ে মেয়েদের কত স্বপ্ন থাকে । আমারও স্বপ্ন ছিল,,,,যখন তোমার নীল ডাইরী পড়েছিলাম আর জানলাম তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তারপর থেকে আমিও তোমাকে ভালোবাসে ফেলি তখন ভাবতাম হয়তো তোমাকে আপন করে পাবো না । কারণ তুমি তো আমার ছোট । ফ্যামিলি তে বললে মানবে না । আমি আল্লাহর কাছে রোজ দুহাত তুলে তোমাকে স্বামী হিসাবে চাইতাম । আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন,,,,,তোমাকে আমি স্বামী হিসাবে পেয়েছি ।

রিদি আমার হাতের উপর হাত রেখে কথাগুলো বলল।

রিদির কথাগুলো আমার হৃদয়কে নাড়া দিলো ।ইচ্ছে করছে তাকে জড়িয়ে ধরি । কিন্তু নিজের ভেতর কেমন জড়তা কাজ করছে ।

এজন্য পারছি না । রিদি আমার হাতটা টেনে হাতের পিঠে একটা চুমু খেলো । আমি আজকে এক অন্য রিদিকে দেখছি । আজ রিদির চোখের সব মায়া যেন ওর মনে এসেছে । রিদি আমার চোখে চোখ রেখে বলল,,,,

রিদিঃ যতদিন বেঁচে আছি ততদিন কি তোমার বুকে জায়গা দিবে?

আমি এবার রিদিকে জড়িয়ে ধরলাম । রিদিও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

একটু পর রিদিকে ছেড়ে দিলাম । এরপর ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম,,,,,

আমিঃ সারাজীবন তোমাকে ভালোবেসে যাবো ।

আমি রিদির পাশাপাশি বসলাম । রিদি একটু সরে গেল । আমি মুচকি হেঁসে বললাম,,,,

আমিঃ কি ব্যাপার সিনিয়র বউ ভয় পেলে নাকি ?

রিদিঃ ওই তোমারে দেখে আগেও ভয় পাইনি । এখনও পাবো না ।

আমিঃ তাই নাকি ? তাহলে তো আজকে অনেক কিছু করা যাবে ।

রিদিঃ অনেক কিছু মানে ?(চোখ বড় করে বলল) ।

আমিঃ ওই যে বাসর রাতে যা হয়।

রিদিঃ দ্যাখো একদম উল্টাপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করবা না।

আমি দুষ্টুমির হাসি দিয়ে রিদির কাছে চলে এলাম ।রিদিও আস্তে আস্তে সরে খাটের কিনারার চলে গেল । আরেকটু পিছালে পরে যাবে । আমি রিদিকে টান দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলাম । রিদিও আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

ও কোনো কথা না বলেই আমার ঠোঁটে কিস করতে লাগলো । টানা পাঁচ মিনিট পর আমাকে ছেড়ে দিলো ।

আমিঃ এই বউ এভাবে কেউ কিস করে নাকি ?আরেকটু জোরে কামড় দিলে তো আমার ঠোঁট কে*টে*ই যেত । তখন আমি অন্য মেয়েদের কি করে কিস করতাম ? (রাগানোর জন্য বললাম😁😁)

রিদিঃ ওরে পিচ্চি বেশি কথা বললে কিন্তু সত্যিই কামড় দিয়ে কে*টে দিবো ।

আমিঃ এই না । এমন করে না ।

রিদিঃ তাহলে কেমন করে ?

আমি আর কিছু বললাম না । আস্তে আস্তে দুজনে চলে গেলাম সুখের সাগরে।🙈🙈 ।

_____________সমাপ্ত________________
___________________
_____
248 Views
8 Likes
2 Comments
4.4 Rating
Rate this: