আমিঃ জেনে বুঝে বাচ্চা টা কে মে*রে ফেললেন ?
রিদিঃ তোমায় তো বলছি কোনো বে*ই*মা*নে*র সন্তান আমার গর্ভে পালন করবো না ।
আমিঃ আমি তো আপনাকে রাখতে বলছিলাম ।
রিদিঃ না। ও যদি থাকতো তবে আমি কখনো ওকে ভুলতে পারতাম না । তাই ওর শেষ স্মৃতি টা ও মুছে দিলাম ।
আমিঃ ডাক্তার আরেকটা কথা বলেছে ।
রিদিঃ কি ?
আমিঃ আপনি আর কখনো মা হতে পারবেন না ।
রিদি কিছু সময় চুপ থাকলো । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ আমি জানি আপনার খুব কষ্ট হচ্ছে ।
রিদিঃ আমার থেকে তোমার জন্যই কষ্ট বেশি লাগছে ।
আমিঃ কেন ?
রিদিঃ তোমার তো টুইন বেবীর স্বপ্ন । সেটা আর কখনো পূরণ হবে না । সেটা আমি পূরণ করতে পারলাম না ।
আমিঃ সবার সব স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না । আর আল্লাহ্ হয়তো আমার কপালে সন্তান লিখেই রাখেন নি । উনি যদি না দিয়ে খুশি হোন তাহলে আমি না নিয়েও খুশি থাকতে পারবো ।
রিদিঃ আমার খুব ইচ্ছে ছিলো তোমার অস্তিত্ব আমার মাঝে বহন করার। হয়তো আমার ভাগ্য এতটাও ভালো নয় ।
বলেই নিরবে কান্না করতে লাগলো । আমি রিদির হাত শক্ত করে ধরে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ আমি আপনার সাথে অনেক ভালো আছি আমি আর কিছুই চাই না ।
আরো দুই দিন পর রিদিকে হসপিটাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো । একমাস পর রিদি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলো ।
এখন রিদি আর আমি দুইজনই ভার্সিটি যাই । রাতে এসে রিদির কাছে পড়তে বসি । পড়াশোনা নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল ।
এখন আমার অনেক বন্ধু হয়েছে । মেয়ে ফ্রেন্ড ও আছে । তো একদিন সবাই মিলে ক্লাস শেষে আড্ডা দিতাছি ।
আড্ডা দেয়ার সময় মেয়ে ফ্রেন্ড টা আবার অনেক হাসতেছে আর আমার গায়ে ঢলে পড়ছে । এটা আবার রিদি দেখে ফেলছে । আচমকা রিদি এসে আমার ফ্রেন্ড বেচারাকে ঠাসসস ঠাসসস করে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে কিছু না বলেই হনহন করে একাই বাসায় চলে গেল ।
আমি ভাবছি আজ আমার খবর আছে বাসায় গেলে । আমিও ভয়ে ভয়ে বাসায় চলে আসলাম । বাসায় আসার পর রিদি আমার সাথে কথা বলছে না । অনেকবার সরি বলছি । কাজ হয় নি ।
সন্ধ্যায় রিদির কাছে পড়তেছি । সেও চুপচাপ আর আমিও চুপচাপ । তারপর আমিই বললাম,,,,,
আমিঃ সরি ।
রিদি আবার আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলো । আর বললো,,,,,,
রিদিঃ চুপচাপ অংক করো ।
অংক করে রিদিকে দেখাতেই সামান্য ভুল যাওয়ায় রিদি স্কেল দিয়ে হাতে অনেক মা*র*লো । আগে ভুল হলেও কখনো এমন করে নি তবে আজ ও মা*র*লো তবুও অনেক জোরে ।
স্কেল দিয়ে মা*রা*তে হাত কে*টে গেছে । র*ক্ত ঝড়ছে । পড়া শেষে হাতে ব্যান্ডেজ লাগালাম । তারপর এসে না খেয়েই আজ আবার সোফায় শুয়ে পড়লাম ।
রাতে কারো কান্নার আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেল । উঠে দেখি রিদি আমার ব্যান্ডেজ করা হাত ধরে কান্না করছে । তারপর আমি বললাম,,,,
আমিঃ আরে কি হইছে কাঁদছেন কেন ?
রিদিঃ আমার জন্য তোমার এরকম হইছে । আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও । আর কখনো তোমার গায়ে হাত তুলবো না ।
আমিঃ আরে ঠিক আছে । আর আমিও সরি । আমার ও উচিত হয় নি মেয়েটার সাথে মেশা ।
রিদিঃ এসব দেখেই তো আমার মাথা গরম হয়ে গেছিলো । আমি তোমার সাথে অন্য মেয়ে কে দেখতে পারবো না । সব দোষ আমারই । আজ যদি একটা বেবী দিতে পারতাম তাহলে আর এমন হতো না । আমার মনে হয় কখনো যদি তুমি আমাকে বাচ্চার জন্য ছেড়ে দাও তাহলে আমি তোমাকে ছাড়া কখনো থাকতে পারবো না । ম*রে*ই যাবো ।
বলেই অনেক কান্না করতে লাগলো রিদি । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ এসব কথা বললে এক থাপ্পড় মা*র*বো । আমি আপনাকে ছাড়া কোথাও যাবো না । আমি সব সময় আপনার ই ।
রিদিঃ আচ্ছা এখনো কি আপনি করে বলতে হবে ?
আমিঃ তো কি বলবো ।
রিদিঃ তুমি করে বলো না প্লিজ ।
আমিঃ ঠিক আছে তুমি ।
রিদিঃ এখন লক্ষ্মী ছেলের মতো খাটে আসো ।
তারপর আমি চুপচাপ রিদির কথা মতো খাটে গিয়ে শুয়ে পড়লাম । গভীর রাতে হাতের ব্যাথায় গায়ে অনেক জ্বর আসলো ।
রিদি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে মাথায় জল পট্টি দিয়ে দিতে লাগলো । আমি শুধু গরম জায়গা খুজতেছি । অনেক ঠান্ডা লাগছে জ্বরে ।
রিদি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে আমাকে শক্ত করে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো । আমি তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম,,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
194
Views
8
Likes
0
Comments
5.0
Rating