হঠাৎ রিদি এসে আমায় জড়িয়ে ধরলো । এই প্রথম রিদির স্পর্শ পেলাম । তারপর রিদি বললো,,,,,,
রিদিঃ আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমায় ক্ষমা করে দিও প্লিজ । আমি হিরা আর কাঁচের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি নি ।
আমি কিছু না বলে শুধু রিদি কে জড়িয়ে নিলাম ।
একটু পরে যখন ও স্বাভাবিক হলো তখন আমায় ছেড়ে দিলো । তারপর আমি বললাম,,,,,
আমিঃ নিচে যান এখন ।
রিদিঃ তুমিও আসো ।
আমিঃ হুমম যাচ্ছি । আপনি যান আগে ।
রিদি নিচে চলে আসলো । আমি আরও কিছু সময় ছাঁদে একা একা দাড়িয়ে থাকলাম ।
রাত হয়ে গেছে। মনে হয় রিদি ঘুমিয়ে পড়ছে ।
আমি নিচে চলে আসলাম ।
আমার রুমে এসে দেখি রিদি এখনো ঘুমাইনি । আমি বললাম,,,,,,,,,
আমিঃ এখনো ঘুমান নি কেন ?
রিদিঃ ঘুম পাচ্ছে না । একটা কথা বলবো ?
আমিঃ হুমম বলেন ।
রিদিঃ আমার আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে ।
আমিঃ এতো রাতে আইসক্রিম খাওয়ার দরকার নেই । শীত করবে ।
রিদিঃ কিছু হবে না । তুমি আমায় আইসক্রিম এনে দাও না প্লিজ ।
বাইরে আসলাম আইসক্রিম নেওয়ার জন্য ।
পাশের দোকানটা বন্ধ থাকায় একটু দূরের একটা দোকান থেকে আইসক্রিম নিয়ে বাসায় ফিরলাম ।
বাসায় ফিরে দরজায় নক করলাম ।
রিদিঃ আসো ।
আমি ভিতরে আসলাম ।
রিদিঃ তোমার এতো দেরি হলো কেন?
আমিঃ পাশের দোকানটায় ছিলো না । তাই দূরের দোকান থেকে নিয়ে আসলাম ।
রিদিঃ ওহহ।
আমিঃ এই নেন । আমি সোফায় ঘুমাতে গেলাম ।
আমি পিছনে ফিরলাম আসার জন্য । রিদি পিছন থেকে আমার হাত টেনে ধরলো ।
আমিঃ কিছু বলবেন ?
রিদিঃ এখানে থেকে গেলে হয় না ?
আমিঃ নাহ । আপনি প্রেগন্যান্ট । আমি এখানে থাকলে আপনার সমস্যা হতে পারে ।
রিদিঃ আমার কোনো সমস্যা হবে না । তুমি এখানেই থাকো ।
আমিঃ নাহহ । সমস্যা হবে ।
বলেই আমি রাতে প্রতিদিনের মতোই সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম । সকাল বেলা আমার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হলো । আম্মু আব্বুকে রিদির প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে জানালাম । কিন্তু এটা অন্যের সন্তান সেটা বলি নি । আব্বু আম্মু সহ রিদির আব্বু আম্মু সবাই অনেক খুশি ।
রিদির পেটের বাচ্চার বয়স সাত মাস হলো ।
তবে এর মাঝে রিদি বেশ কয়েক বার বাচ্চাটাকে নষ্ট করতে চেয়েছিলো । ওর কথা কোনো বে*ই*মা*নে*র বাচ্চা ও ওর গর্ভে লালন করবে না ।
এখন আমি অনার্স ৩য় বর্ষে পড়তাছি । আর রিদি ৪র্থ বর্ষে । কিন্তু রিদি এখন প্রেগন্যান্সির কারনে ভার্সিটি যায় না । তো একদিন আমি ভার্সিটিতে ক্লাস করছি।
হঠাৎ আম্মু ফোন দিলো । আমি ফোন রিসিভ করে বললাম,,,,,,
আমিঃ হ্যাঁ আম্মু বলো।
আম্মুঃ রাজ বাবা রিদির ব্যাথা উঠছে ওকে হসপিটালে নিয়ে আসছি । তুই তাড়াতাড়ি আয় ।
আমিঃ ঠিক আছে আম্মু আসছি ।
বলেই আমি ফোন কেটে দিয়ে সোজা হসপিটালে চলে আসলাম । এখন রীতিমতো আমাকেও একটু ভয় লাগছে । পেটের বাচ্চার বয়স সাত মাস । এই সময় পেটে ব্যাথা হওয়া টা খুবই খারাপ লক্ষন।
ডাক্তার সব কিছু চেক-আপ করলো।
এরপর একটা ইনজেকশন দিয়ে ওর ব্যাথা টা শীতল করে দিলো এবং রিদি ঘুমিয়ে পড়ছে ।
ডাক্তার এসে বললো,,,,,,
ডাক্তারঃ উনি জেগে উঠলে আল্ট্রাসাউন্ড করে নিয়ে আসবেন ।
আমিঃ জ্বি । রোগীর অবস্থা এখন কেমন?
ডাক্তারঃ আপাতত ভালো । তবে মনে হচ্ছে না খুব বেশি ভালো । আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রিপোর্ট গুলো আমায় দেখান।
বেশ কিছু সময় পরে রিদি জেগে গেলো ।
এরপর ওর আল্ট্রাসাউন্ড করে নিয়ে রিপোর্ট ডাক্তার কে দেখালাম ।
আমিঃ ডাক্তার কোনো সমস্যা?
ডাক্তারঃ হুম । যেটা ভেবেছিলাম সেটাই ।
আমিঃ কোনো মেজর সমস্যা?
ডাক্তারঃ ওনার পেটে যে বাচ্চাটা ছিল সেটা ম*রে গেছে । যার ফলে পেটে ব্যাথা হচ্ছে ।
ডাক্তারের কথা শুনে একটু শক খেলাম । আম্মু আব্বুও শুনে শকট খেলো । উনারা রীতিমত কান্না করতেছে এখন । তারপর আমি বললাম,,,,,,,
আমিঃ কিন্তু ডাক্তার ও তো তেমন কোনো কাজ ও করে নি তাহলে বাচ্চা মা*রা গেলো কিভাবে?
ডাক্তারঃ ওনার বাচ্চা কোনো কাজ করার জন্য নষ্ট হয় নি ।
আমিঃ তাহলে?
ডাক্তারঃ ওনার সামান্য কোনো অসুখ হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করতে হতো। কিন্তু উনি সবসময় হায়ার এন্টিবায়োটিক সেবন করছেন। যার ফলে আজ এই অবস্থা ।
ডাক্তারের কথা শুনে বুঝতে পারলাম এটা কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল না। রিদি ইচ্ছে করে এমন টা করছে ।
আমিঃ ডাক্তার এখন তাহলে কি করবো?
ডাক্তারঃ একটা অপারেশন করতে হবে । অপারেশন করে ওনার পেটের ময়লা গুলো বের করে ফেলতে হবে ।
আমিঃ ওহ । কখন করবেন অপারেশন ?
ডাক্তারঃ আপনারা চাইলে আজই।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে । আপনি অপারেশনের ব্যাবস্থা করেন।
সেদিন রাতে রিদির অপারেশন করে পেটের ময়লা গুলো বের করে ফেললো। সারারাত হসপিটালে ছিলাম ।
সকাল বেলা আব্বু আম্মু জোর করে আমাকে বাসায় দিয়ে পাঠায় । কারন সারারাত হসপিটালে ছিলাম । ঘুমাইনি । তাই বাসায় আসলাম । এরপর একটু ঘুমালাম ।
দুপুর বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হাসপাতালে আসলাম কিছু ফল নিয়ে । ।
রিদির কেবিনে এসে ওর পাশে বসলাম ।
আমিঃ এখন কেমন লাগছে ?
রিদিঃ হুম ভালোই । শরীর টা একদিনেই এতটা শুকিয়ে গেছে কিভাবে ?
আমিঃ সারারাত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম ।
রিদিঃ ওহহ।
আমিঃ এমনটা কেন করেছেন ?
রিদিঃ কি করলাম?
আমিঃ জেনে বুঝে বাচ্চা টা কে মে*রে ফেললেন ?
রিদিঃ তোমায় তো বলছি কোনো বে*ই*মা*নে*র সন্তান আমার গর্ভে পালন করবো না ।
আমিঃ আমি তো আপনাকে রাখতে বলছিলাম ।
রিদিঃ না। ও যদি থাকতো তবে আমি কখনো ওকে ভুলতে পারতাম না । তাই ওর শেষ স্মৃতি টা ও মুছে দিলাম ।
আমিঃ ডাক্তার আরেকটা কথা বলেছে ।
রিদিঃ কি ?,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
189
Views
6
Likes
0
Comments
4.7
Rating