রিদিঃ আমি প্রেগন্যান্ট ।
এইটুকু বলেই রিদি থেমে গেলো । আমার ও চারপাশ টা মনে হয় ঘুরতে লাগলো । আকাশ থেকে এক টুকরো মেঘ মনে হয় আমার মাথায় এসে পড়লো। আমি কি ভুল শুনলাম ।
আমি ওকে আজ পর্যন্ত স্পর্শ করি নি । অথচ রিদি আজ বলছে ও নাকি প্রে*গ*ন্যান্ট । আমার পৃথিবী টা মনে হয় থমকে গেলো । তারপর আমি অবাক হয়ে রিদিকে বললাম,,,,,,,
আমিঃ কি বলছেন আপনি এসব ?
রিদিঃ আমি তোমাকে আগেই বলছি আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোনো কথা বলবে না ।
আমিঃ হুম । বলেন ।
রিদিঃ যে ছেলেটাকে তুমি ভিডিওতে দেখাইছিলে ওটা আমার বিএফ জানোই তো । ওর সাথে আমার প্রায় তিন বছরের সম্পর্ক । রিলেশন থাকা অবস্থায় ও আমায় শা*রী*রি*ক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয় । আমি না করে দেই। কিন্তু পরবর্তী তে ও আমায় অনেক রিকুয়েষ্ট করে । বিশ্বাসের কথা বলে । এরপর নিজের ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ওর সাথে শা*রী*রি*ক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি ।
কয়েকদিন আগে মাথা ঘুরা আর বমি হওয়ার লক্ষন পাওয়ার পর আমি ডাক্তারের কাছে যাই। তখন জানতে পারি আমি প্রে*গ*ন্যান্ট । তাই রাতে বাসায় এসে সু*ই*সাইড করার চেষ্টা করি। কিন্তু আপনি সেই সময় চলে আসেন ।
আমিঃ তারপর ।
রিদিঃ এরপর বাচ্চার ব্যাপারে ওকে সব জানাই ফোন দিয়ে । তখন ও বাচ্চার দায়িত্ব নিতে চাইছিলো । আমায় বাসার টাকা আর গহনা নিয়ে চলে আসতে বলে । প্ল্যান অনুযায়ী আমরা পালাবো কিন্তু ও আবার আমার সাথে চিট করে । আমার থেকে টাকা গহনা সব কিছু নিয়ে আমায় ফেলে চলে যায় ।
বলেই রিদি কান্না করেই চলছে । আমি কি বলবো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি । রিদি বেশ কিছু সময় একা একা কান্না করলো।
আমি ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু দেখলাম । কিছু সময় পর রিদি স্বাভাবিক হয়ে আবার বলা শুরু করলো ।
রিদিঃ এই মুখ এখন বাসায় আমি কেমনে দেখাবো । তোমার সামনেই বা যাবো কীভাবে । তাই আ*ত্ম*ক*থা করতে চাইছিলাম ।
আমি শুধু চুপ করেই আছি । কিছুক্ষণ পর রিদি আবার বলতে শুরু করলো,,,,,,,,,,
রিদিঃ আমি তোমার বাসায় কাজের মেয়ের মতো থাকবো। তোমার সব কথা মেনে চলবো। তুমি আমার এই অপরাধের জন্য যা শাস্তি দিবে তাই মাথা পেতে নিবো কিন্তু তবুও তুমি আমায় প্লিজ বাসা থেকে বের করে দিও না ।
( বলেই রিদি কান্না করতে করতে আমার সামনে হাটু ফেলে হাত জোর করে বললো)
আমি আরো কিছু সময় চুপচাপ থাকলাম । এরপর ওকে তুললাম ।
আমিঃ আপনার পেটে যে বাচ্চা আছে সেটার কি করবেন ?
রিদিঃ নষ্ট করবো।
আমিঃ দেখেন আপনি একে তো একটা পা*প করেছেন । বিয়ের আগেই অন্য পুরুষের সাথে শা*রী*রি*ক সম্পর্কে জড়িয়েছেন । তাতে আবার বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলছেন । দোষ টা আপনি আর আপনার বেইমান বিএফ করছে । কিন্তু এতে তো এই বাচ্চার বিন্দু মাত্র দোষ নেই । যে দোষ করেই নি তাকে শাস্তি দেওয়া কোনো বিধানে উচিত নয়। সমস্যা নেই বাসায় এই বাসায় থাকবেন আর আপনার বাচ্চাও ।
রিদি অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । তারপর বললো,,,,,,,
রিদিঃ তুমি সব কিছু এতো সহজে কি করে মেনে নিলে ?
রিদির কথা শুনে আমি মুচকি হাসলাম । তারপর বললাম,,,,,,,,,
আমিঃ দেখেন এখানে আপনার দোষ নেই তা নয়। আপনারও দোষ আছে । কিন্তু যে আপনার সাথে প্রতারণা করছে তার দোষ টাই বেশি। আপনি তো আপনার বিশ্বাস প্রমাণ করেছেন কিন্তু যখন তার পালা ছিলো তখন সে আপনাকে রেখে চলে গেছে। আর আপনার সাথে এই প্রতারণা করছে কে? কোনো মেয়ে জাতি নয়। পুরুষ জাতি আপনার সাথে প্রতারণা করছে ।
একজন পুরুষের প্রতারণার শিকার হয়ে আপনার পুরুষটার উপর আস্থা উঠে গেছে আবার যখন আমিও আপনার সাথে বাজে ব্যবহার করে আপনাকে বকাবকি করবো তখন আপনার পুরো পুরুষ জাতির উপর থেকে আস্থা উঠে যাবে।
যেহেতু দোষ একজন পুরুষ করছে তাই একজন পুরুষ হিসাবে এটা মানিয়ে নেওয়া আমার দায়িত্ব । আর সবাই যদি একই ভাবে প্রতারণা করে যায় তবে পৃথিবী টা আর চলবে না থেমে যাবে নিজ অক্ষের উপর । আর সব থেকে মূল কথা কোনটা জানেন ? আমারও একদিন সন্তান হবে । হতে পারে সেটা মেয়ে । আর মেয়েদের বুদ্ধি সচরাচর কম হয় ।
আজ আপনার সাথে যা হয়েছে কাল যদি আমার মেয়ের সাথেও হয়? আজ আমি আপনাকে মেনে নিলাম আর ভবিষ্যতে আমার মেয়ের ভুলটাও ওর প্রিয় মানুষ মেনে নিবে এই প্রত্যাশা টা করতে পারবো এখন । আজ আপনি অসহায় ঐদিন আমার মেয়েও অসহায় হতে পারে ।
আজ যদি আমি আপনাকে ফিরিয়ে না দেই তাহলে আল্লাহ ঐ দিন আমার মেয়েকেও ফিরিয়ে দিবে না ইনশাআল্লাহ । আর সব সময় একটা কথা মাথায় রাখবেন যখন আপনার সাথে খারাপ কিছু হবে তখন নিজেকে এই বলে শান্তনা দিবে যে আল্লাহ যা করে সব কিছু আমাদের ভালোর জন্য করে ।
রিদি তখন থেকে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আর মনে মনে ভাবছে ছোট মানুষ এসব কথা মাথায় আসে কিভাবে ।
রিদিঃ তুমি সব কিছু কেমন সহজ ভাবে ভাবো । সবাই যদি তোমার মতো করে ভবতো ।
আমিঃ জীবন টা যত সহজ ভাবে চিন্তা করবেন ততই সহজ হয়ে যাবে। এটা তো আপনার কাছেই শিখেছি সেদিন ।
রিদিঃ হুমম । তুমি শুধু তোমার বাসায় কাজের মেয়ের জায়গা টুকু দিও আমায় ।
আমিঃ দেখেন আমি আপনাকে বিয়ে করছি। তাই আপনি এই বাড়ির বউ।
রিদিঃ তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কাছে কিছুই নেই।
আমিঃ এটা পুরোটাই ভুল । শা*রী*রি*ক সম্পর্কটাই সব নয়। শা*রী*রি*ক চাহিদা সর্বোচ্চ ৪০-৫০ বছর বা এর বেশি কিছু দিন থাকবে । এরপর যখন চলতে পারবো না । যখন একজন সঙ্গীর সব সময় প্রয়োজন হবে তখন পাশে থাকার পাওয়া টা সবথেকে মূল্যবান। আর ভুল না করলে কখনো শিখতে পাওয়া যায় না । ভুল করে একজন কিন্তু সেখানে থেকে হাজার মানুষ শিক্ষা নেয়। ।
আমি কথাগুলো বলছি
হঠাৎ রিদি এসে আমায় জড়িয়ে ধরলো । এই প্রথম রিদির স্পর্শ পেলাম । তারপর রিদি বললো,,,,,,
রিদিঃ আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আমায় ক্ষমা করে দিও প্লিজ । আমি হিরা আর কাঁচের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি নি ।
আমি কিছু না বলে শুধু রিদি কে জড়িয়ে নিলাম ।
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
246
Views
7
Likes
2
Comments
4.5
Rating