দুপুরে খাওয়ার সময় হয় গেল । তাই ক্যান্টিনে বসে চিন্তা করলাম রিদিকে একটা কল দিই। খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করি। এরপর রিদিকে কল দিলাম। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর কলটা ধরলো, বিরক্ত নিয়ে বললো....
রিদিঃ কি ব্যাপার তুমি এ সময় কেন কল দিলে কেন ?
আমিঃ না মানে খেয়েছেন কিনা জানার জন্য।
রিদিঃ দেখো তোমার আমাকে নিয়ে এতো ভাবতে হবে না। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও ।
এ কথা বলে কলটা কেটে দিলো। বুঝলাম না রিদি কেন আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করে। আমি তো ওর ভালো চাই তবুও সে কেন বোঝে না ?
তারপর সব ক্লাস করে বাসায় চলে আসলাম । রাতে খাওয়ার সময় আব্বু বললো,,,,,,
আব্বুঃ রাজ কাল থেকে বউমাকেও তোর সাথে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবি ।
আমিঃ ঠিক আছে আব্বু ।
আম্মুঃ আর হ্যাঁ রিদি মামুনি রাতে আবার আমার ছেলেকে একটু পড়িও । না হলে সে পাশ করবে না ।
রিদিঃ ঠিক আছে আম্মু ।
তারপর সবাই খাওয়া শেষ করে যে যার রুমে গেলাম । গিয়ে আমি সোফায় শুয়ে পড়লাম আর রিদি খাটে শুয়ে পড়লো ।
এভাবে প্রায় তিনমাস যাওয়ার পর,,,,,,
হঠাৎ আমার রাতে ঘুম ভেঙে গেল । অনেক পানির তৃষ্ণা পেয়েছে । উঠে লাইট অন করতেই দেখি রিদি ফ্যানের সাথে ওরনা বেঁধে আত্মাহত্যা করার চেষ্টা করছে। দৌড়ে রিদির কাছে গেলাম ।
ওকে নামিয়ে ওর গালে সজোরে একটা থাপ্পড় দিলাম । রিদি কান্না করতে করতে মেঝেতে বসে পড়লো । বুঝতে পারলাম অনেক বড় কিছু একটা হয়েছে । তাই রাগারাগি না করে আমিও ওর পাশে বসলাম ।
কিন্তু রিদি হঠাৎ সু*ই*সাইড করতে গেছিলো কেন সেটাই তো কিছুতেই আমার মাথায় আসছে না।
আমিঃ আপনার কি হইছে হঠাৎ এমন বোকামি করতে গেছিলেন কেন?
আমি রিদি কে এভাবে বেশ কয়েক বার বললাম । কিন্তু রিদি কোনো কথা বললো না । আচমকা আমায় জড়িয়ে ধরে আরও বেশি করে কান্না করতে শুরু করলো ।
আমার সামনে যদি কেউ কান্না করে তাহলে আমি কেন জানি না আর কিছু বলতে পারি না । যদি আমি খুব রেগেও যাই তবুও তাকে আর কিছু বলি না ।
রিদি যখন আমায় জড়িয়ে ধরে কান্না করতে শুরু করলো তখন আমিও চুপ হয়ে গেলাম ।
আমি শুধু ওর চুল গুলো বুলিয়ে দিচ্ছি আর ওকে কান্না করতে নিষেধ করছি।
বেশ কিছু সময় এভাবেই কেটে গেল ।
ধীরে ধীরে রিদির কান্না কমে গেছে ।
এখন আর কান্না করছে না । বুকে মাথা রেখে বসে আছে ।
ভাবলাম এবার জিজ্ঞেস করবো।
কিন্তু এর আগেই ও ঘুমিয়ে পড়ছে ।
ওকে ঘুমাতে দেখে আর কিছু বললাম না ।
আমি আর কিছু সময় ওকে ওভাবে বুকে নিয়ে বসে রইলাম ।
এরপর ওকে কোলে তুলে খাটে শুইয়ে দিলাম । ।
ওর গায়ে কম্বল মুড়িয়ে দিয়ে আমি আবার সোফায় চলে আসলাম ।
বেশ কিছু সময় এসব নিয়ে ভাবলাম ।
কেন ও এমন করলো এরপর কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম বুঝতে পারি নি ।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম । উঠে দেখি রিদি রুমে নেই । আবার ভয় লাগতে শুরু করলো । তাড়াতাড়ি করে নিছে গেলাম । আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু
আম্মুঃ কি হইছে ?
আমিঃ রিদি কই ?
আম্মুঃ জানি না তো । তোকে কিছু বলে যায় নি ।
আমি কিছু না বলেই তাড়াতাড়ি করে আবার আমার রুমে আসলাম । আম্মু ভাবছে ওর রিদি হয়তো বাইরে গেছে । কিন্তু আমি তো জানি ও বাইরে যায় নি । নিশ্চয়ই আমাদের থেকে দূরে কোথাও চলে গেছে।
রুমে আসতেই ফোনটা টেবিলের উপর থেকে হাতে নিবো এমন সময় দেখি ফোনের নিচে একটা কাগজ ।
কাগজ টা খুললাম ।
কাগজের লেখাটা পড়তে শুরু করলাম,,,,,
আমি খুব খারাপ একটা মেয়ে । আমায় ক্ষমা করে দিও। আর আমায় খুজিও না। আমি চলে যাচ্ছি সবার থেকে অনেক দূরে ।
কাগজ টা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেল ।
কই যেতে পারে ?
এতো সকালে বাস তো নেই । তাহলে কি ট্রেন?
হুম যদি রিদি কোথাও যেতে চায় তাহলে এই সকাল বেলা ওকে ট্রেনে যেতে হবে ।
ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখলাম ৭ঃ১৫ বাজে। আর সকালের ট্রেন সাধারণত ৮ টায় আসে । মাঝে মাঝে ৮ টার পরেও আসে কিন্তু আগে আসার সম্ভবনা নেই ।
আমি তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু আমি আসছি।
আম্মুঃ কোথায় যাবি এতো সকালে ?
আমি কোনো কথার উত্তর না দিয়েই সোজা স্টেশনে আসলাম । একজন লোক কে জিজ্ঞেস করলাম ট্রেন আসছে কি না । কিন্তু আসে নি ।
স্টেশনে চারদিকে আমি রিদি কে খুজছি।
হঠাৎ একটা বেঞ্চে আমার চোখ থেমে গেলো হয়তো আমার গন্তব্য পেয়ে গেছি ।
রিদি বসে আছে । একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি রিদি কান্না করছে । আমি সামনে যেতেই আমায় দেখে দাঁড়ালো ।
আমিঃ চলেন বাসায় চলেন ।
এক হাতে রিদির হাত ধরলাম অন্য হাত দিয়ে ওর ব্যাগ নিলাম । এরপর ওকে নিয়ে বাসায় আসলাম ।
বাসায় আসতেই আম্মু রিদিকে জিজ্ঞাসা করলো,,,, ,,
আম্মুঃ রিদি কই গেছিলা তুমি সকাল বেলা ?
আমিঃ কোথাও যায় নি ।
বলেই রিদিকে আমার রুমে নিয়ে আসলাম । রুমে সোজা গিয়েই ওর গালে একটা সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম । রিদি গালে হাত দিয়ে আমার সামনে দাঁড়ালো ।
তারপর আমি বলতে লাগলাম,,,,,,,,,,
আমিঃ সমস্যা কি আপনার হ্যাঁ ? কাল সু*ই*সাইড করতে গেছালেন আজ আবার বাসা ছেড়ে চলে গেলেন মানে কি নাটক শুরু করছেন ? আরে বাবা মানলাম আপনাকে হয়তো আপনার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছে । কিন্তু আমি কি আপনার উপর কখনো কোনো বিষয় নিয়ে জোর করছি ? কখনো জোর করে অধিকার ফলানোর চেষ্টা করছি? তাহলে এসব নাটকের কারণ টা কি,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
167
Views
6
Likes
0
Comments
4.0
Rating